রংপুর ব্যুরো: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও ছাপড়হাটি ইউনিয়নে গত ২২/২৩ দিনে কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মদ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও মৃত্যুর ঘটনায় আহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতস্ক বিরাজ করছে। জানা যায়, উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের দুর্গা চরণ বর্মনের মেয়ে নন্দ রানী এবং একই ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া কুকুরের কামড়ের ২ সপ্তাহের মধ্যে মারা যান। ছাপড়হাটি ইউনিয়নের পূর্ব ছাপড়হাটি গ্রামের বাবু রতনেশ্বর গত ৮ মে মারা যান। এছাড়াও গত ১২ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে আফরুজা বেগমের মৃত্যু হয়। এনিয়ে কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম এলাকায় পাঠানো হয়নি। আহতদের উন্নত চিকিৎসা কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে করে আহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, দ্রæত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম পাঠিয়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরগুলো শনাক্ত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাকসিন প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার দীবাকর বসাকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন দেয়ার পর জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। অন্য কোন কারণে তাদের মৃত্যু যেতে পারে। মারা যাওয়া ব্যক্তির মধ্যে এক জনের মৃত্যু সনদ দেখেছি তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম পাঠানো হবে কি না, উত্তরে তিনি বলেন ওই এলাকায় স্বাস্থ্য কর্মী পাঠিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, নিহতদের সরকারি সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
জমি না দিয়েই মহাসড়কের অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
বায়েজিদ পলাশবাড়ী গাইবান্ধা) : পলাশবাড়ীতে মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ না হলেও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মুনছুর আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির অংশীদাররা। অভিযোগ রয়েছে, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগ এবং বর্তমান ৮৩১ নম্বর দাগের ০.০৯৪৮ একর জমির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩২ টাকা অধিগ্রহণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পরিমাণ জমি বাস্তবে মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করা হয়নি। ভুক্তভোগী রেখা বেগমসহ অন্যান্য অংশীদারদের অভিযোগ, সাসেক প্রকল্প-২ সংশ্লিষ্টদের আপত্তি, অন্যান্য অংশীদারদের আপত্তি এবং এলএমসি কেস নং ২৭০/২০২৩-২০২৪ ও এলএ কেস নং ১১/২০১৯-২০২০-এর বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না করেই মুনছুর আলীর নামে অধিগ্রহণের অর্থের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে সরেজমিন যাচাই না করে কাগজপত্রের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দলিলের হিসাবেও উঠছে প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান-১৬, আরএস খতিয়ান-২৫ এবং জেএল নম্বর-৬৯-এর সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগে মুনছুর আলীর বাবা মৃত মোফাজ্জল হোসেন ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর ০১/৬৯ নম্বর কেসের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের কাছে ৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে এতে মোফাজ্জল হোসেনের নামে অবশিষ্ট থাকার কথা ৯৫ শতাংশ জমি। এরপর ২০০২ সালে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ওই জমির একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয় ২১৬৯ নম্বর দলিলে ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ, ২১৭০ নম্বর দলিলে স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ এবং ২১৯৪ নম্বর দলিলে দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে পৃথকভাবে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়।...







