স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ছাত্রদের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি করতে সরকার দুর্দান্ত একটি কর্মসূচী নিচ্ছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে ‘বইপড়া’ কর্মসূচী রান করতে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে দুইটি মিটিং হয়েছে। সামনে কর্মপরিকল্পনা চুড়ান্ত করার মধ্যদিয়ে এই কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
প্রধানমন্ত্রী
Tarique Rahman’র উদ্দেশ্যে আমার পরামর্শ রয়েছে ৩টি বিষয়। বিষয়গুলো ফোকাসে রেখে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা সাজালে সেটি সত্যিকার অর্থে কার্যকরী একটা উদ্যোগ হবে দেশের জন্য।
এক. বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাই পড়তে হবে—একারণে নয় বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বোধ তৈরি করতে হবে কেন একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা করা প্রয়োজন।
সাহিত্য চর্চা মানুষের জ্ঞানবিকাশে ভূমিকা রাখে।
জাস্ট এ বোধটুকুই তৈরি করতে পারলে শিক্ষার্থী নিজেরাই সাহিত্য চর্চায় ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবেন।
দুই. গার্ডিয়ানদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপে ননএকডেমিক বইপত্র ও এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজ কীভাবে ভূমিকা রাখে, তা বুঝাতে হবে। অনেক অভিভাবক আছেন, যারা বাচ্চাদের একাডেমিক বইয়ের বাইরে বইপত্র পড়তে দেন না। এমকি এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজ থেকেও দূরে রাখেন।
তিন. শিক্ষার্থীদের ওপর নির্দিষ্ট বই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তারা নিজেরা বেছে নিবেন কোন কোন বই পড়বেন। তাদের পছন্দের বই সহজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে কতৃপক্ষ।
ধরুন, বলা হলো প্রতি সাময়িকে (৬ মাসে), ন্যূনতম ৪টি বই পড়তে হবে। ২টি গল্পের, ১টি উপন্যাস ও ১টি প্রবন্ধের বই বা আত্ম-উন্নয়নমূলক বই।
কতৃপক্ষ জনরা ঠিক করে দিবে। প্রয়োজনে কোন টাইপের বইগুলো তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে, এর গাইডলাইন থাকবে। শর্ট পর্যালোচনা থাকবে। বাট কখনো এটা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, অমুক অমুক বই পড়তে হবে হবে। তাহলে দেখা যাবে, দেশজুড়ে আমলাদের বই দিয়ে সিলেবাস ভরা।
অমুক সচিবের ‘জন্ম দিনে স্ত্রীকে লেখা ৪০টি কবিতা’র বই, তমুক সচিবের কলেজ জীবনে ক্লাস চুকিয়ে প্রেম করা সেই প্রেমিকাকে ঘিরে লেখা উপন্যাস ‘আমার সুন্দরী প্রিয়তমা’। কিংবা আওয়ামী প্রেম ভুলে বিএনপিতে যোগ দেওয়া কোন এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ‘ছোটদের জিয়াউর রহমান’ বইয়ে সিলেবাস ভরিয়ে ফেলছে।
এতে শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করা দূরে, এ প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বেহুদা গচ্চা যাবে কাজের কাজ হবে না।
তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে হাইলি এপ্রিশিয়েট করছি। এটি যেন সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এবং জ্ঞানবিকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে।
Views: 156
Related