১৯৯১ সালে ভিয়েতনামের হো খানহ লাওস সীমান্তের কাছে মধ্য ভিয়েতনামের জঙ্গলে ঘুরছিলেন। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে আশ্রয়ের খোঁজে তিনি একটি গুহার মুখে পৌঁছান।
গুহার ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসছিল। নিচে কোথাও বয়ে যাওয়া নদীর শব্দও শুনতে পাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ভেতরে ঢোকার সাহস করেননি।
পরে আবার সেই গুহা খুঁজতে গেলে আর সেটির সন্ধান পাননি হো খানহ। ঘন জঙ্গলের মধ্যে যেন গুহাটি হারিয়ে গিয়েছিল। তবু তিনি খোঁজা বন্ধ করেননি।
প্রায় ১৮ বছর ধরে অনুসন্ধানের পর ২০০৯ সালে আবার গুহাটির সন্ধান পান তিনি। এরপর একটি ব্রিটিশ গুহা অনুসন্ধানকারী দলকে সেখানে নিয়ে যান।
তারা যা আবিষ্কার করেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। এটি ছিল হাং সন ডুং, যা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহাপথ হিসেবে পরিচিত।
গুহাটি পাঁচ মাইলেরও বেশি লম্বা। কিছু অংশ প্রায় ৬০০ ফুট উঁচু এবং ৫০০ ফুট চওড়া। এতটাই বিশাল যে তুলনা করে বলা হয়, এর ভেতর দিয়ে একটি বোয়িং উড়োজাহাজও চলে যেতে পারে!
গুহার ভেতর দিয়ে একটি নদী বয়ে গেছে। ছাদের দুটি বিশাল অংশ ধসে যাওয়ায় সেখান দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করে। আর সেই আলোতেই গুহার ভেতরে গড়ে উঠেছে আস্ত বন!
সেখানে ১০০ ফুটেরও বেশি উঁচু গাছও রয়েছে।
আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গুহাটি নিজের ভেতরেই আবহাওয়া তৈরি করতে পারে। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে বিশাল গুহাকক্ষে মেঘ তৈরি করে!
সন ডুংয়ের ভেতরে রয়েছে বিশাল আকৃতির ‘কেভ পার্ল’, অতিকায় পাথুরে গঠন এবং এমন সব দৃশ্য, যা দেখে অন্য কোনো গ্রহের দৃশ্য বলে মনে হতে পারে।
হো খানহ একসময় কাঠ সংগ্রহ ও শিকারের কাজ করতেন। পরে তিনি পর্যটকদের জন্য একটি অতিথিশালা খুলে দেন।
যে গুহার সামনে একদিন বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, বহু বছর পর সেই গুহাই তাকে পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর প্রাকৃতিক আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়।









