৪২ বছর বয়সে যখন মলি কোচান জানতে পারেন তার ক্যা_সার আর নিরাময়ের পর্যায়ে নেই, তখন তার সামনে জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা এসে দাঁড়ায়।
কিন্তু বাকি সময় শুধু মৃত্যুর অপেক্ষায় কাটানোর বদলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, শেষ দিনগুলো নিজের মতো করে, নিজের বিকৃত ফ্যান্টাসিকে বাস্তবায়ন করে বাঁচবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ও পডকাস্ট নির্মাতা মলি কোচানের জন্ম ১৯৭৩ সালে। ২০১১ সালে প্রথম তার ক্যা_সার ধরা পড়ে। এরপর অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের মতো কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যান তিনি।
কিন্তু ২০১৫ সালে জানতে পারেন, রোগটি আবার ফিরে এসেছে এবং চতুর্থ পর্যায়ের ক্যা_সারে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, তার হাতে সময় আর বেশি নেই।
এই খবর জীবন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।
দীর্ঘ ১৫ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মলির ভাষায়, জীবনের শেষ সময়ে তিনি নিজের পরিচয়, স্বাধীনতা এবং আনন্দকে নতুনভাবে খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন।
এরপর শুরু হয় তার জীবনের এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। নতুন সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা এবং নিজের অনুভূতি নিয়ে তিনি খোলামেলাভাবে লিখতে শুরু করেন।
যৌনতাকে মৃত্যুর বিপরীত মেরুর অনুভূতি হিসেবে দেখতেন তিনি। সেজন্যই মৃত্যুর পূর্বে সর্বমোট ১৮৮ জনকে শয্যাসঙ্গী করে যান তিনি।
নিজের এই অভিজ্ঞতা তিনি ভাগ করে নেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিকি ব্রেয়ারের সঙ্গে। দুজনে মিলে তৈরি করেন আলোচিত পডকাস্ট ‘ডাইং ফর সে*’, যেখানে হাস্যরস, বেদনা ও বাস্তবতার মিশেলে উঠে আসে মলির জীবনের শেষ অধ্যায়ের ফ্যান্টাসির গল্প।
২০১৯ সালের ৮ মার্চ, ৪৫ বছর বয়সে মারা যান মলি কোচান।
তার মৃত্যুর পর ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় তার লেখা স্মৃতিকথা। একই বছর মুক্তি পায় পডকাস্টটি, যা ব্যাপক আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে পুরস্কারও অর্জন করে।
২০২৫ সালে তার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ডাইং ফর সে*’, যেখানে মলির চরিত্রে অভিনয় করেন মিশেল উইলিয়ামস।
.ইতিহাসের গল্প








