♦️আমি ব্যক্তিগত ভাবে হিন্দুদের পুজোর মধ্যে যাওয়াকে একদম পছন্দ করিনা এবং কখনো যাবোনা। তবে হ্যা চার্চে অনেকবার গেছি ক্রিস্টমাসের প্রোগ্রামে। সেখানের পরিবেশ অনেকটা নিরিবিলি আর ফ্রেশ থাকে। তবে যেসব মুসলিম নারীরা পুজোয় যায় তাদের আমি কখনো নিষেধ করিনি। কারন আমি জানি তাদের বেশিরভাগই সেখানে যায় ফুর্তি করতে, মজা নিতে আর মূর্তি দেখে হাসিঠাট্টা করতে। সেখানের খাবার তো ভুলেই খাবেনা। খুব কম মেয়ে আছে যারা শাড়ি পরে হিন্দুদের সাথে নাচানাচি করে।
♦️এবছর পূজা শুরুর পর থেকে অনেক মুসলিম মেয়েই পোস্ট করছে আর সাংবাদিকদের বলছে, যে পূজায় তারা যেমন আনন্দ করতে পারে তেমনটা কোনো ঈদে করতে পারে না। এটা দেখে অনেক মুমিন ভাইয়েরা রেগে যাচ্ছে যে পূজায় আনন্দ করে কিন্তু ঈদে কেন করতে পারে না। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, হিন্দুদের পূজায় মেয়েরা যেভাবে সেজেগুজে ঘুরে বেড়াতে পারে, আনন্দ করতে, নাচগান করতে পারে, ঈদে তারা এর বিন্দুমাত্রও করতে পারে না। কারন সবকিছুই হারাম এটা আলেমরাই বলে।
♦️ঈদে বেশিরভাগ মেয়েদের আনন্দ বলতে চাঁদ রাতে মেহেদী আর নতুন কাপড়ের বেশি কিছু হয় না। তার উপর মেহেদী পরা হাত দেখিয়ে চলাচল করাও হারাম, ঈদের জামাকাপড় পড়ে রাস্তায় বের হলে যদি পুরুষরা দেখে ফেতনায় যায়। সেজন্য সেটাও হারাম। বর্তমানে তো নারীদের জন্য শপিংমলে গিয়ে ঈদের জামাকাপড় কিনাও আলেমদের মতে কবিরা গুনাহ। তারা বলে নারীদের উচিত বাপ ভাইয়ের ফোন দিয়ে অনলাইনে জামাকাপড় কিনা অথবা বাপ ভাইকে দিয়ে কাপড় কিনে আনা। মেয়েরা নতুন জামাকাপড় পড়ে ছবি তুলবে সেটাও হারাম।
♦️বিবাহিত নারীদের তো ঈদের সারাদিন কিচেনে ঘামতে হয়, ঈদের আগের দিন রাত থেকে সবাইকে খাওয়ানো আর সার্ভ করার প্রস্তুতি শুরু করতে হয় মেয়েদের, এই নিয়ম আগামী কয়েকদিন চলে। এই অবস্থায় নতুন কাপড় পরে কাজ করা যায় না, ঘুরতে যাওয়া হয় না। ঘুরতে গেলে মেহমানদের খাওয়াবে কে? এদিকে দিনের শুরু থেকে ছেলেরা নামাজ পড়তে বাহিরে যায়, আড্ডা দেয়, ট্রাক ভাড়া করে নাচানাচি করে, পথেঘাটে কোলাকুলি সেলফি তোলা সবই হয়। কুরবানির ঈদেও মাংস কাটা পুরুষরা উপভোগ করে। কিন্তু ঘরের ভেতরের দৃশ্যটা হয় অন্যরকম, রান্না আর সার্ভ কেন্দ্রিক। কখন কাটা মাংসগুলো আসবে, কখন রান্না করবে আর কখন সার্ভ করবে এই অপেক্ষা।
♦️যারা ধনী পরিবারের আছে এবং মডারেট ইসলাম মানে সেসব মেয়েরা ঠিকই আনন্দ করতে পারে। ইউরোপ আমেরিকার মুসলিম নারীরা ঠিকই ঈদের দিনগুলোতে আনন্দ করে। ইভেন খ্রিষ্টান আর নাস্তিকরা পর্যন্ত আনন্দ করে। ওইসব দেশের আলেমরাও মডারেট ইসলাম ফলো করে রিয়্যাল ইসলামকে ভুলে নারীদের সাপোর্ট করে। যাতে করে অমুসলিম নারীরা ইসলামের প্রতি মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে।
–
Alema Jannat






