জহিরুল ইসলাম সুমন চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি : :
আবেগ, উচ্ছ্বাস, স্মৃতিচারণ আর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ এক মিলনমেলা। বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিওড়া আছগরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসার ৭০ বছর পূর্তি উৎসব* অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এই উৎসবে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস এক মহা-মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র মাদরাসার সুযোগ্য সাবেক অধ্যক্ষ *মাওলানা আনোয়ার উল্লাহ।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা ইসমাইল হোসেন এবং ৭০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মুমিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা এর মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকী।
তিনি বলেন,
> “চিওড়া আছগরিয়া ফাযিল মাদরাসা ৭০ বছরের গৌরবময় পথচলা প্রমাণ করে আলেম-ওলামা ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কতটা সুদৃঢ় হতে পারে। এই মাদরাসা হাজার হাজার আলেম, শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডার ও সমাজসেবক উপহার দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে অচিরেই এটি একটি মডেল কামিল মাদরাসায় রূপান্তরিত হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
প্রফেসর ড. মোঃ নাসির উদ্দিন মিজি,
তিনি বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা দেখে হৃদয় ভরে গেছে। দেশ-বিদেশ থেকে প্রাক্তনরা ছুটে এসেছে, এটাই প্রমাণ করে এই প্রতিষ্ঠান মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে গেঁথে আছে। মাদরাসা শিক্ষা এখন আর পিছিয়ে নেই। এই মাদরাসার ছাত্ররাই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
ড. সোহেল রহমান মজুমদার – কনসালট্যান্ট, বিশ্বব্যাংক:*
আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি এই মাটিরই সন্তান। এই মাদরাসার মাঠেই আমার শৈশব কেটেছে। আজ বিশ্বব্যাংকে কাজ করছি, কিন্তু আমার নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন এই মাদরাসার শিক্ষকরা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে এই প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। আমি সবসময় পাশে আছি, পাশে থাকবো।”
মো. শাহাবুদ্দিন – পরিচালক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়:*
তিনি বলেন, “৭০ বছর একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশাল অর্জন। যারা জায়গা, অর্থ ও শ্রম দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফাযিল ও কামিল স্তরের শিক্ষার মান উন্নয়নে সকল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এবং মাই স্কুলের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. শাহনেওয়াজ কাজল, এ প্লাস গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মো. মঈনুদ্দিন ভূঁইয়া নঈম,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল গফুর ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানা শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মোঃ আলআমিন রাসেল প্রমুখ!
অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. নাজমুল হক বাবর,অভিভাবক সদস্য জিয়াউর রহমান নয়ন, সদস্য ইউনুস চৌধুরী সোহাগ, এনামুল হাসান, ডা. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, মমিনুল ইসলাম, কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মহিউদ্দিন শরীফ ও মাওলানা আব্দুল মুমিন* সহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, মাদরাসার ৭০ বছরের গৌরবময় পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই মিলনমেলার আয়োজন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহপাঠী ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কাছে পেয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সবাই।
আয়োজকরা জানান, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং প্রাক্তনদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে এই মিলনমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।







