যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই মুসলিম নারী রশিদা তলাইব ও ইলহান ওমর।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে মিশিগানের ১২ নম্বর কংগ্রেসনাল আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস ডি হুপারকে হারিয়েছেন রশিদা তলাইব। অন্যদিকে মিনেসোটার ৫ নম্বর আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছেন ইলহান ওমর।
মিশিগানের ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন তলাইব। মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং ই’সরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনায় সরব থাকার কারণে তিনি পরিচিত।
গাজায় ই’সরায়েলের সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের বিরোধিতা করে আসছেন তলাইব। গত বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব হ’ত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ই’সরায়েলি সামরিক কমান্ডারের গ্রে’প্তার ও তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সম্ভাব্য যু’দ্ধাপরাধের তদন্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা।
ই’সরায়েলের কঠোর সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক বিতর্কেও পড়েছেন তলাইব। ২০২৩ সালে ই’সরায়েল-হা’মাস যু’দ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে প্রতিনিধি পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সোমালি-আমেরিকান ইলহান ওমর ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান অভিবাসীদের অধিকার ও প্রগতিশীল নীতির পক্ষে সোচ্চার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইলহান। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রশিদা তলাইব ও ইলহান ওমর দুজনই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে তাঁরা কংগ্রেসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
চলমান মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে। নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।







