“দোয়া কবুল” তো অনেক দুরের কথা, আমাদের মুসলিম সমাজে “দোয়া” জিনিসটাই চেনে না। আমরা বংশ পরম্পরায়, “ভারতীয় ইসলাম” পেয়েছি, যেটাতে “দোয়া” জিনিসটাকে দূষিত করে ফেলেছে। সুপরিকল্পিতভাবে, ষড়যন্ত্র করে “দোয়া” জনিসটাকে ভুল শিখিয়েছে।
কি ভুল শিখিয়েছে?
দোয়ার শেখার জন্য ছোট ছোট বই আছে ; দেখেছেন? ঘর হতে বাহির হইবার দোয়া ; ঘরে প্রবেশ করিবার দোয়া। ঘুমানোর আগের দোয়া ; ঘুম হতে উঠে দোয়া। খাওয়ার আগে দোয়া ; খাওয়া শেষ করে দোয়া। টয়লেটে যাইবার দোয়া। স্ত্রী সহবাসের দোয়া………… এভাবে সারাদিনের প্রতিটি কাজের জন্য দোয়া শিখিয়েছে। এমন বই দেখেছেন? এমন দোয়া শিখেছেন?
মুখস্ত করা আরবী লাইনগুলো কোন দোয়া নয়। দোয়া হলো – আল্লাহর কাছে আপনার চাহিদা জানিয়ে, সম্পুর্ন আস্থার সাথে করা, অসহায় আবদার।
আপনার পাপের কারনে, আপনি হয়তো ইবাদতের সাওয়াব (প্যেন্ট/মার্ক/নম্বর) থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কিন্তু, আল্লাহ আপনাকে যেটা দান করবেন, সেটা থেকে বঞ্চিত হবেন না। যত বড় পাপী হোক না কেন – সে কখনো আল্লাহর দান থেকে বঞ্চিত হয় না। মুর্তিপুজারী, কাফের, আল্লাহকে অস্বীকারকারী নাস্তিক, সবাইকেই আল্লাহ দান করেন। আল্লাহ সবারই প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। পাপের কারনে, আল্লাহর দান বন্ধ হয় না।
তাহলে, আল্লাহর কাছে আপনি অনেক কিছু চেয়েছেন ; বেশীরভাগ জিনিসই পাননি কেন? এর পেছনে দুটি কারন আছেঃ
- আপনার চাওয়াটাই হয় না। আপনি মনে করেন, অমুক আরবী বাক্য মুখস্ত বললে, আল্লাহ তমুক জিনিস দান করেন। আপনি মন্ত্র শিখেছেন ; দোয়া শেখেন নি। একটি শিশু যেমন আস্থার সাথে, সম্পুর্ন অসহায় হয়ে, তার মা-বাবার কাছে চকোলেট চায়, আইস্ক্রিম চায়, সেভাবে কখনো আল্লাহর কাছে চাইতে পেরেছেন? সেভাবে একদিন চেয়ে দেখুন – আল্লাহর রহমত কিভাবে চলে আসে, সেটা নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।
- আপনি সম্পুর্ন আস্থার সাথে ও অসহায় হয়ে আল্লাহর কাছে চেয়েছেন ; তবুও সেই জিনিসটি পাচ্ছেন না। তাহলে, হয় সেই জিনিসটি পাবার সময় এখনো আসেনি ; অথবা, আল্লাহ আপনাকে অন্য আরেকটি, আরও ভালো জিনিস দিয়েছেন – আপনি টেরই পাননি। আপনি চেয়েছেন বড় চাকরী ; ওদিকে আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন হালাল ও সন্মানজনক ব্যাবসা। ওদিকে, আপনি এখনো চাকরীর জন্য হায় হায় করছেন। আর বলছেন -আমার দোয়া কবুল হয়নি।
কি বুঝলেন?
দোয়া কোন মন্ত্র নয়। দোয়া হলো, আল্লাহর কাছে অসহায় হয়ে চাওয়া। আপনি যেটা চেয়েছেন, সেটা না দিয়ে, আল্লাহ অন্য একটি ভালো জিনিস দান করেন। সেটাও দোয়া কবুল। পাপের জন্য দোয়া আটকে থাকে না। বাচ্চা যত দুষ্টু হোক না কেন ; মা তাকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে না। যত পাপী হোন না কেন – আল্লাহ দোয়া কবুল করা বন্ধ করেন না। দোয়া জিনিসটা ভালোভাবে চিনুন।
দ্রষ্টব্যঃ
এই লেখাতে সাধারন দোয়ার ব্যাপারে বর্ননা করেছি। এর চেয়ে ভালো আরও দুই ধরনের দোয়া আছেঃ









