সাভার প্রতিনিধি:
ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির অধিকার বুঝে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন মো. সাইদুর রহমান সাওন। কিন্তু বারবার যোগাযোগ, বৈঠক ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েও বিরোধের সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। এর মধ্যে জমির একটি অংশ ব্যবসায়ী এস এম আব্দুল মান্নানের কাছে বায়না করা হলেও জমি বুঝে নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সাভারের বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পাশের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধে দুই দাবিদারের প্রশ্ন—এত উদ্যোগের পরও সমস্যার সমাধান হবে কবে?
জমি বুঝে নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ
সাওনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বুঝে নিতে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাধা ও হুমকির মুখে পড়েন তাঁরা। তাঁর দাবি, তাঁরা ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছ থেকে জমি কেনেনি।
সাওনের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কিশোর বাবু বিভিন্নজনের কাছে বলেছেন, “আমরা তো তাদের কাছ থেকে জমি কিনিনি।” এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাওনের প্রশ্ন, জমি কেনা না হয়ে থাকলে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের সমাধান হচ্ছে না কেন?
দীর্ঘদিনেও বিরোধের সমাধান না হওয়ায় একপর্যায়ে জমির একটি অংশ ব্যবসায়ী এস এম আব্দুল মান্নানের কাছে বায়না করেন সাওন বলে জানা গেছে। মান্নানের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট সকালে জমির সীমানা পরিমাপের বিষয়ে কথা বলতে গেলে কিশোর বাবু ও কয়েকজনের কাছ থেকে বাধা ও হুমকির মুখে পড়েন তিনি। তাঁর দাবি, নিজের দাবিকৃত জমি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেও সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন না।
মধ্যস্থতা ও আলোচনার উদ্যোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এক নেতার ছেলের মধ্যস্থতায় বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ সময় কিশোর বাবু, ওই নেতার ছেলে এবং জমির দাবিদারদের স্বজনদের নিয়ে কারখানার ভেতরে বৈঠক হয়। সেখানে জমিটি কারখানা কর্তৃপক্ষের কিনে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। বৈঠকে কারখানার মালিকপক্ষের আইনজীবী ও কারখানার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে সাওন ও মান্নানও তাঁদের লোকজন নিয়ে এসেছিলেন। আলোচনায় তাঁদের ওয়ারিশ সূত্রে জমির দাবির বিষয়টি এবং জমির পর্চা নিয়ে কথা হয়েছে। বৈঠকের পর মালিকপক্ষের আইনজীবী কারখানায় গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।”
ন্যায্য সমাধানের অপেক্ষায় দুই দাবিদার
দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলতে থাকায় সাওন ও মান্নান অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা অন্যের জমি চান না; ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে চান। বারবার যোগাযোগ, বৈঠক ও মধ্যস্থতার উদ্যোগের পরও সমাধান না হওয়ায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এখন তাঁদের প্রশ্ন, আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে কবে? বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি কিশোর বাবুর ভূমিকা কী এবং দীর্ঘদিনের এই জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে কখন?
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিশোর বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






