মোঃমোমিনুল ইসলাম দিনাজপুর প্রতিনিধি
জলবায়ু নীতিনির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে স্থানীয় যুব সংগঠনগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আঞ্চলিক যুব সম্মেলন—এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬ (RCY APAC 2026)-এর সাইড ইভেন্ট ‘তিস্তা: উত্তরের স্পন্দন’।
‘নীতিমালা থেকে বাস্তব প্রয়োগ: উত্তর বাংলাদেশের বাস্তবতায় যুবদের ভূমিকা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই বিশেষ আয়োজনে উত্তরাঞ্চলের তাপপ্রবাহ, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ জলবায়ু সংকটের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়। রূপান্তর, মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘ (এমসিজেএসএস) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সাইড ইভেন্ট আয়োজিত হয়।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আঞ্চলিক সম্মেলনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৮টি দেশ থেকে ৫০০-এর বেশি তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি রয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জলবায়ু বাস্তবতা মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে তরুণদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা পর্বে উঠে আসে তৃণমূলের যুব সংগঠনগুলোর নানা সীমাবদ্ধতার কথা। বক্তারা জানান, অর্থায়ন ও সম্পদের ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব, দক্ষ জনবলের সংকট এবং প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরিতে জটিলতার কারণে অনেক স্থানীয় সংগঠন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি ভূমিকা রাখতে পারছে না। এছাড়া নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুবদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তের অভাবকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে জলবায়ু নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, যুবসমাজকে কেবল কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী না ভেবে নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের পূর্ণ অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সুযোগ, অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পেলে তরুণেরাই টেকসই জলবায়ু মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে।









