রংপুর ব্যুরো: রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় সাড়ে ১১ একরের ঐতিহ্যবাহী ভাড়ারদহ বিলের সৌন্দর্য এখন কচুরিপানার দখলে চলে গেছে। বিলের পুরো এলাকার কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে। রাতের আধারে বিলের পাড় বসে মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আড্ডা। ফলে নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ দর্শনার্থীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মূলত গড়ডাঙ্গী ও চিকলী নদীর মিলনস্থলে সৃষ্ট এই বিলটি সময়ের বিবর্তনে ভরাট হয়ে সমতল ভ‚মিতে পরিণত হয়েছিল। ২০২১ সালে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বিলটি খনন করে এবং পাড়ে বিপুল সংখ্যক গাছ রোপণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন এটিকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করার পর পাখির কলতান ও দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছিল বিল এলাকা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিলটি অসাধু চক্র ও কিশোর গ্যাংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিলের মাছ লুটের পাশাপাশি সেখানে আস্তানা গড়ে তোলে। রাতের পাশাপাশি দিনেও সেখানে বসে মাদকের আসর। মোস্তফাপুর ও আশপাশের এলাকার একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রæপকে বিলের পাড়ে নিয়মিত ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করতে দেখা যায়। ফলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় এবং পানি দূষিত হওয়ায় বিল থেকে হারিয়ে গেছে পাখি। মরে যাচ্ছে মৎস্য অভয়াশ্রমের মাছ। জঘন্য এমন পরিস্থিতি সত্তে¡ অদূরে থাকা পুলিশ কিংবা প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ বিষয়ে বিলের পাহারাদার আতিয়ার রহমান কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ভাড়ারদহ বিল দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিএমডিএর উপসহকারী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কচুরিপানা সরানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার বলেন, বিলের পাড়ে মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে সেখানে পুলিশ দেখলেই তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









