আসামের ধুবড়িতে মাজারে বুলডোজার চালানোর চেষ্টা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা; অলৌকিকভাবে আহত চালক ও পুলিশ। ফুটেজ ও তথ্য সহায়তা আব্দুল বারেকঃ
– মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মহান আউলিয়াকেরামের কারামত আসামের ধুবড়িতে উগ্রবাদী বিজেপির উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা: মাজারে বুলডোজার চালাতে গিয়ে আহত পুলিশ ও চালকের; নাক মুখ দিয়ে রক্ত ভয়ে পালাচ্ছে উগ্রবাদী বিজেপির গুন্ডা বাহিনি।
ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর রাজস্ব সার্কেলের আলমগঞ্জ পার্ট-৯ এলাকায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে শতাধিক নয়, ৫০ থেকে ৬০টিরও বেশি এক্সকাভেটর ও বুলডোজার ব্যবহার করে কয়েক শ পরিবারের বসতবাড়ি ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানের একপর্যায়ে পীর শাহাবুদ্দিন আউলিয়ার মাজারে যন্ত্রের ধাক্কা লাগাকে পুলিশের গাড়ি মাজারের সাথে আটকে যায় আর পেছনে আনতে পারছে না যে চেষ্টা করছে তার নাম মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ভয়ে প্রশাসন পিছু ঘটেছে এবং সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে।
আব্দুল বারেকের দেয়া তথ্য ছবি ও ভিডিও তে সহযোগিতা করেছেন আব্দুল বারেক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মাজার ভাঙার জন্য এক্সকাভেটর এগিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্রটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশ ও চালকের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেরুতে থাকে ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। স্থানীয় কমিটির অনুরোধে মাজার ও সংলগ্ন কবরস্থানের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
এর আগে প্রশাসন ৫৫০ পরিবার উচ্ছেদ, বাস্তুচ্যুত করে চার হাজারের বেশি মানুষ
উগ্রবাদী বিজেপির চক্রজালে নিরিহ আসহায় মুসলমানদের উচ্ছেদ কল্পে, আলমগঞ্জ পার্ট-৯ এলাকায় প্রায় ৮০০ বিঘা সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি থেকে আনুমানিক ৫৫০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ১৫০ বিঘা জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ওই অংশে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যম স্ক্রল-এর প্রতিবেদনে ৬৪০টিরও বেশি পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং চার হাজারের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার বর্তমানে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, অস্থায়ী আশ্রয় কিংবা রাস্তার পাশে ত্রিপল টাঙিয়ে বসবাস করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য ও আদালতের বিষয় । অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস এবং ভূমি রাজস্ব পরিশোধের দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অনেক পরিবার নদীভাঙন ও বন্যার কারণে অন্য এলাকা থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছিল।
আদালতে বিচারাধীন জমির বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে গৌহাটি হাইকোর্টে হওয়ার কথা। প্রশাসন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাজার, কবরস্থান ও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, জমির মালিকানা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বক্তব্য এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে যাচাই করা জরুরি। একটি উচ্ছেদ অভিযান কতটা আইনসম্মত, তা শুধু প্রশাসনের বক্তব্য দিয়ে নয়; আদালতের নথি, জমির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। এই অবৈধ বিজেপি অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এভাবে আইন আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। কেবল মুসলমানদেরকে এবং মুসলমানদের স্থাপনা গুলোকে যেমন মসজিদ মাজার কবরস্থান ধ্বংস করছে যা মূলত অধর্ম উগ্রবাদী। ৮০০ বছর মুসলমানরা ক্ষমতায় ছিল তারা চাইলে হিন্দুদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পার কিন্তু তারা তা করেনি এই নরেন্দ্র মোদি বিজেপির এই কথা চিন্তা করা উচিত। প্রশ্ন এখন একটাই—উন্নয়ন ও সরকারি জমি উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষের মানবিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্থাপনার আইনগত সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, প্রশাসনের বক্তব্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—সব পক্ষের তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।








