বরগুনা সংবাদদাতা:
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম হুমায়ূন হাসান শাহীন। এর ছয় দিন পর, ২৫ আগস্ট একই ধরনের অভিযোগে মোস্তাকের বড় ভাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে শোকজ করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া।
পৃথক দুটি শোকজ নোটিশের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তালতলী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে অবিলম্বে শোকজ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে যখন বিএনপির রাজনীতি করা ছিল নানা ঝুঁকিপূর্ণ, তখন মোস্তাক ও রিয়াজ নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। হামলা-মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তাঁরা দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি তাঁদের সহযোদ্ধাদের।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শামীম আহসান, মংসেলেন তালুকদার, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. আল-আমিন, সদস্য সচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আসলাম আকন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম জহির, তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন হোসেন রোমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নেহাল ইসলাম রাকিব এবং তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সুমন কারী বলেন, দলের কঠিন সময়ে মোস্তাক ও রিয়াজ তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন।
তাঁরা বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁদের ভূমিকা ছিল সক্রিয়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের শোকজের ঘটনায় আমরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।”
নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক মামলা-হামলা ও রাজপথের প্রতিকূলতায় মোস্তাক ও রিয়াজ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর কাছে অভিভাবকের মতো ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে তালতলীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখায় তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক তৃণমূল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দুঃসময়ে যাঁরা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শোকজের ঘটনায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, দলের ভেতরে কোনো অভিযোগ বা মতবিরোধ থাকলে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের আশঙ্কা, বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে তালতলী বিএনপির তৃণমূলে বিভাজন আরও বাড়তে পারে। এতে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তৃণমূলের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীরা মনে করেন, তালতলীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে মোস্তাক ও রিয়াজের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা না হলে ভবিষ্যতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।
একজন তৃণমূল নেতা আক্ষেপ করে বলেন, “দলের কঠিন সময়ে যাঁদের পাশে পাওয়া গেছে, তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। দলীয় শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে একই সঙ্গে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবদানও মূল্যায়ন করা দরকার।”
নেতাকর্মীরা শোকজের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা মোস্তাক ও রিয়াজের বিরুদ্ধে দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
তবে শোকজ নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিষয় এবং এর জবাবে মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।####
Post Views: 139
Related