মোঃমাসুদ রানা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় পাহাড়ি ও বাঙালি সুবিধা বঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে এক বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল দলের সহযোগিতায় প্রায় ৪৫০ জন দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
জ্বর, সর্দি-কাশি, চক্ষুজনিত সমস্যা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন মৌসুমি অসুস্থতার চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের জন্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
এছাড়াও সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে সম্প্রতি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় নার্সদের একটি দল ও এ মেডিকেল ক্যাম্পেইনে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং চিকিৎসক দের সহযোগিতায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এক জনপ্রতিনিধি বলেন, সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক পরিচালিত এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিভিন্ন এলাকার তরুণীদের চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যারা প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন মেডিকেল সরঞ্জামাদি নিয়েছেন তাদের মাধ্যমে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার সুফল পাচ্ছেন।
এছাড়াও বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়ে গুইমারা এলাকার সুবিধাভোগি সর্বসাধারণ এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সিন্দুকছড়ি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই নিয়মিত আয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম লায়ন্স হসপিটালের সহযোগিতায় একই স্থানে একটি ‘বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পেইন’ এবং পরবর্তীতে পুনরায় বড় পরিসরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে ‘মেডিকেল ক্যাম্পেইন’ পরিচালিত হবে। তিনি জানান, এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও জনগণের কল্যাণে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।







