১৯৪৭-এর দেশভাগে ছিন্ন শিকড় খুঁজতে ফিরতে পারেন বংশধররা | যশোর-বাগেরহাট-খুলনা-সাতক্ষীরা ঘিরে ‘ডায়াসপোরা ট্যুরিজম’ করিডোর | চার জেলায় চার রকম ‘রুটস ডেস্টিনেশন’ | সুন্দরবন ও বাগেরহাটের ঐতিহ্য হতে পারে আন্তর্জাতিক আকর্ষণের কেন্দ্র
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলেএকটি পুরোনো দলিল। তাতে লেখা একটি গ্রামের নাম। পাশে হয়তো একটি পুকুরের উল্লেখ। কারও কাছে আছে দাদার হাতে লেখা চিঠি, কারও কাছে পুরোনো ছবি, আবার কারও কাছে শুধু একটি স্মৃতি—‘আমাদের বাড়ি বাংলাদেশে ছিল।’
কিন্তু কোথায় ছিল সেই বাড়ি?
দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনেক পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম। ১৯৪৭ সালের দেশভাগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যায়। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে গ্রামের নাম, সড়ক, নদীর গতিপথ, বসতি ও প্রশাসনিক সীমানা। কিন্তু পারিবারিক স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি পূর্বপুরুষের ঠিকানা।
আজ সেই স্মৃতিই বাংলাদেশের পর্যটনের একটি নতুন সম্ভাবনার ভিত্তি হতে পারে।
নাম—ডায়াসপোরা ট্যুরিজম।
এটি শুধু পর্যটক আনার পরিকল্পনা নয়। এটি পূর্বপুরুষের বাড়ি, গ্রামের স্মৃতি, পুরোনো স্থাপনা, নদী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে যুক্ত করে তৈরি হতে পারে বিশেষ ধরনের ‘রুটস জার্নি’।
আর এই সম্ভাবনার পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলা—যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
চার জেলা, চার রকম শিকড়ের গল্প
এই চার জেলার পর্যটনকে যদি শুধু দর্শনীয় স্থান দিয়ে দেখা হয়, তাহলে একটি বড় সম্ভাবনা অদৃশ্য থেকে যাবে।
কারণ এ অঞ্চলের ইতিহাস শুধু স্থাপনায় নেই।
ইতিহাস আছে মানুষের চলে যাওয়া বাড়িতে। পুরোনো পুকুরে। নদীর ঘাটে। গ্রামের মন্দির-মসজিদে। জমিদারবাড়ির ভগ্ন দেয়ালে। পুরোনো বাজারে। পারিবারিক স্মৃতিতে।
এই স্মৃতিগুলোকে গবেষণা ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তৈরি হতে পারে একটি ‘South-West Roots Tourism Corridor’।
যশোর : ‘হারানো গ্রামের খোঁজে’
ধরা যাক, কলকাতার একটি পরিবার জানে—তাদের পূর্বপুরুষ যশোরের কোনো এক গ্রামে বসবাস করতেন। পরিবারের কাছে আছে শুধু গ্রামের নামের একটি পুরোনো বানান এবং একজন প্রয়াত প্রবীণের মুখে শোনা কয়েকটি স্মৃতি।
সাধারণ পর্যটনে এই পরিবারের যশোর ভ্রমণের কারণ নাও থাকতে পারে।
কিন্তু ‘রুটস ট্যুরিজম’ থাকলে গল্পটি বদলে যাবে।
তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে স্থানীয় গবেষক, ইতিহাসবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও প্রশাসনের সহায়তায় পুরোনো রেকর্ড অনুসন্ধান করা যেতে পারে। জমির পুরোনো দলিল, খতিয়ান, মৌজা, পারিবারিক নথি ও স্থানীয় স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য ঠিকানা শনাক্ত করা যেতে পারে।
ঠিকানা নিশ্চিত হলে তৈরি হবে একটি ‘Ancestral Village Trail’।
পর্যটক দেখবেন পূর্বপুরুষের বসতভিটার জায়গা। দেখবেন পুরোনো পুকুর। হাঁটবেন সেই গ্রামের পথে। স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে শুনবেন গ্রামের ইতিহাস।
একটি সাধারণ জেলা ভ্রমণ তখন পরিণত হবে পারিবারিক ইতিহাসের অনুসন্ধানে।
যশোরের সম্ভাবনা এখানেই—একটি জেলার পর্যটনকে একটি পরিবারের গল্পের সঙ্গে যুক্ত করা।
খুলনা : নদী, বন্দর ও হারানো ঠিকানার গল্প
খুলনার ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে নদী ও বন্দরকেন্দ্রিক ঐতিহ্য।
একসময় নদী ছিল মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফলে পুরোনো নদীপথ, ঘাট, বাজার ও জনপদ অনেক পরিবারের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকতে পারে।
একজন বংশোদ্ভূত পর্যটকের কাছে খুলনার কোনো নদীর ঘাট হয়তো শুধুই একটি ঘাট নয়।
সেটি হতে পারে তার দাদার শৈশবের গল্পের জায়গা।
‘Roots Trail’-এ যুক্ত হতে পারে পুরোনো নদীপথ, স্থানীয় বাজার, ঐতিহাসিক বসতি, খাবার, নৌভ্রমণ ও পারিবারিক স্মৃতি।
এখানে আরেকটি সম্ভাবনা রয়েছে—Oral History Tourism।
স্থানীয় প্রবীণ মানুষদের সাক্ষাৎকার ধারণ করে তৈরি করা যেতে পারে ডিজিটাল আর্কাইভ। কোনো পর্যটক তার পরিবারের পুরোনো ঠিকানা খুঁজতে এলে সেই আর্কাইভ থেকে পাওয়া যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
অর্থাৎ খুলনায় পর্যটন শুধু ‘কোথায় যাবেন’ প্রশ্নের উত্তর দেবে না; বরং ‘কার গল্প খুঁজবেন’—সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারবে।
বাগেরহাট : পূর্বপুরুষের স্মৃতি থেকে বিশ্ব ঐতিহ্যে
চার জেলার মধ্যে বাগেরহাটের একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে—এখানে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ঐতিহ্য রয়েছে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় বাগেরহাটের Historic Mosque City of Bagerhat ১৯৮৫ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রাচীন খলিফাতাবাদ নগরীর স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন এ অঞ্চলের মধ্যযুগীয় নগরসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।
ফলে বাগেরহাটে ‘রুটস ট্যুরিজম’ যুক্ত হলে একই ভ্রমণে পাওয়া সম্ভব হতে পারে—পারিবারিক ইতিহাস, স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য, নদী ও সুন্দরবন।
ধরা যাক, ভারতের কোনো পরিবার জানতে পারল তাদের পূর্বপুরুষের বসতি ছিল বাগেরহাটের কোনো এলাকায়।
তাদের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ হতে পারে—
‘My Ancestral Home—Bagerhat’।
সকালে পূর্বপুরুষের বসতভিটা অনুসন্ধান, দুপুরে স্থানীয় খাবার, বিকেলে ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, এরপর নদীপথে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ—শেষে সুন্দরবনের দিকে যাত্রা।
বাগেরহাটের ক্ষেত্রে এভাবেই Heritage Tourism + Roots Tourism + Nature Tourism একসঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।
সাতক্ষীরা : সীমান্তের ওপারে ছড়িয়ে থাকা পারিবারিক স্মৃতি
সাতক্ষীরার সম্ভাবনা আরও আলাদা।
সীমান্তবর্তী এই জেলার বহু জনপদের সঙ্গে ওপারের মানুষের ঐতিহাসিক ও পারিবারিক যোগাযোগের স্মৃতি রয়েছে। ফলে এখানে ‘রুটস ট্যুরিজম’ তৈরি হলে সীমান্ত-সংলগ্ন জনপদ, পুরোনো বাজার, নদী, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনকে একসঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
একজন পর্যটক হয়তো জানেন, তাঁর দাদা সাতক্ষীরার কোনো একটি গ্রামে থাকতেন।
কিন্তু গ্রামের বর্তমান ঠিকানা তার জানা নেই।
এখানেই প্রয়োজন হবে ‘Find Your Roots Bangladesh’ ধরনের একটি কেন্দ্রীয় সেবা।
পুরোনো দলিল, নাম, গ্রাম, মৌজা, পারিবারিক স্মৃতি কিংবা ছবি জমা দিয়ে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য-সহায়তায় সম্ভাব্য ঠিকানা খোঁজার চেষ্টা করা যেতে পারে।
ঠিকানা পাওয়া গেলে পর্যটকের জন্য তৈরি হবে একটি ব্যক্তিগত রুট—
বাড়ি → পুকুর → বাজার → ধর্মীয় স্থাপনা → নদী → স্থানীয় সংস্কৃতি → সুন্দরবন।
তখন সাতক্ষীরা আর শুধু সীমান্ত জেলা থাকবে না।
হয়ে উঠবে ‘হারানো ঠিকানা খোঁজার জেলা।’
সুন্দরবন—চার জেলার পর্যটনের ‘ম্যাগনেট’
এই চার জেলার সম্ভাবনাকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে সুন্দরবন।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় বাংলাদেশের সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়।
ফলে একজন আন্তর্জাতিক বা প্রবাসী পর্যটকের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সফরটি এমন হতে পারে—
কলকাতা/ঢাকা → যশোরের Roots Trail → খুলনার নদী ও ঐতিহ্য → বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী → সাতক্ষীরার সীমান্ত-সংলগ্ন জনপদ → সুন্দরবন।
অর্থাৎ একটি ভ্রমণে পাওয়া গেল ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি।
এই সমন্বিত অভিজ্ঞতাই হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনের নতুন ব্র্যান্ড।
বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলছে, ধারণাটি বাস্তবসম্মত
ডায়াসপোরা-কেন্দ্রিক পর্যটন একেবারে নতুন ধারণা নয়।
ঘানার Year of Return ২০১৯ সালে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীকে পূর্বপুরুষের ভূমির সঙ্গে সংযোগের আহ্বান জানিয়ে বড় পর্যটন প্রচারণায় পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে Beyond the Return উদ্যোগে পর্যটন, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও ‘roots tourism’-কে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়।
ভারতও ২০২৪ সালে Chalo India Global Diaspora Campaign চালু করে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগে ভারতীয় প্রবাসীদের ‘Incredible India Ambassador’ হিসেবে যুক্ত করে তাদের বিদেশি বন্ধুদের ভারত ভ্রমণে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডও ২০২৬-২০৩০ সময়ের নতুন Diaspora Strategy-তে বিদেশে থাকা আইরিশদের সঙ্গে পরিচয়, সংস্কৃতি, সংযোগ এবং দেশে ফেরা—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
অর্থাৎ মানুষের শিকড়, পরিচয় ও প্রবাসী সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করার আন্তর্জাতিক নজির রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন হলো—আমরা কি নিজেদের ইতিহাসের এই সম্ভাবনাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারব?
সবচেয়ে বড় ঘাটতি—তথ্যভাণ্ডার নেই
সম্ভাবনা থাকলেও কাজটি সহজ নয়।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে তথ্যের অভাব।
১৯৪৭ সালে কোন পরিবার কোথা থেকে কোথায় গেছে, তাদের পূর্বপুরুষের বসতভিটা কোথায় ছিল, জমির মালিকানা কী ছিল, পুরোনো গ্রামের নাম কীভাবে বদলেছে—এসব তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
তাই প্রথম কাজ হতে পারে একটি Digital Roots Archive তৈরি করা।
এতে থাকতে পারে—
পুরোনো মৌজা ও গ্রামের নাম, জমির নথি, ঐতিহাসিক মানচিত্র, পুরোনো ছবি, স্থানীয় ইতিহাস, মৌখিক ইতিহাস, ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনার তথ্য এবং দেশভাগ-সংক্রান্ত পারিবারিক স্মৃতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব ও পর্যটন বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই গবেষণায় যুক্ত করা যেতে পারে।
স্থানীয় সাংবাদিক, প্রবীণ নাগরিক, মুক্তিযুদ্ধ ও স্থানীয় ইতিহাস গবেষক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনও হতে পারে তথ্য সংগ্রহের অংশীদার।
পর্যটনের আগে দরকার বিশ্বাস
এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কোনো পুরোনো বাড়ি বা জমিকে শুধু পর্যটনের জন্য ‘পূর্বপুরুষের বাড়ি’ ঘোষণা করা যাবে না।
তথ্য যাচাই করতে হবে।
পারিবারিক দলিল, সরকারি রেকর্ড, স্থানীয় সাক্ষ্য, পুরোনো মানচিত্র ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঠিকানা শনাক্ত করতে হবে।
কারও ব্যক্তিগত বাড়ি হলে তার মালিকের অনুমতি নিতে হবে।
ধর্মীয় স্থাপনা হলে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রাখতে হবে।
কোনো পরিবারের ব্যক্তিগত ইতিহাস প্রকাশের ক্ষেত্রেও গোপনীয়তা ও সম্মতির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে।
অর্থাৎ ‘Roots Tourism’ হবে গবেষণাভিত্তিক পর্যটন—কল্পনাভিত্তিক গল্প নয়।
স্থানীয় মানুষই হবেন মূল অংশীদার
ডায়াসপোরা ট্যুরিজম সফল করতে হলে শুধু বড় হোটেল বা পর্যটন কোম্পানিকে সামনে রাখলে চলবে না।
গ্রামের মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে স্থানীয় তরুণদের—
Heritage Guide
Local Storyteller
Community Host
River Guide
Food Experience Provider
Craft Seller
হিসেবে।
একজন পর্যটক স্থানীয় বাড়িতে দুপুরের খাবার খেলেন। অন্য একজন স্থানীয় কারিগরের কাছ থেকে পণ্য কিনলেন। আরেকজন নৌকায় নদী ভ্রমণ করলেন।
তাহলে পর্যটনের অর্থ সরাসরি স্থানীয় মানুষের হাতে পৌঁছাবে।
‘রুটস ফেস্টিভ্যাল’ হতে পারে নতুন আকর্ষণ
চার জেলায় বছরে একবার করে ‘Roots Festival’ আয়োজন করা যেতে পারে।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আয়োজন করা যেতে পারে—
পুরোনো ছবি প্রদর্শনী, দেশভাগের স্মৃতি সংগ্রহ, স্থানীয় খাবারের মেলা, লোকসংগীত, নদীভ্রমণ, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, পারিবারিক ইতিহাসবিষয়ক আলোচনা এবং স্থানীয় ইতিহাসের প্রদর্শনী।
এতে পর্যটন যেমন বাড়বে, তেমনি হারিয়ে যেতে বসা স্থানীয় ইতিহাসও সংরক্ষিত হবে।
প্রশ্ন এখন একটাই
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন কি শুধু সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ কিংবা নদী-প্রকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে?
নাকি পর্যটনের নতুন সংজ্ঞায় যুক্ত হবে মানুষের হারানো ঠিকানা?
একজন প্রবাসী হয়তো বাংলাদেশে এসে বলবেন—
‘আমি এই দেশকে দেখতে আসিনি।’
‘আমি এসেছি আমার দাদাকে খুঁজতে।’
সেই দাদা হয়তো আর নেই।
বাড়িটিও হয়তো নেই।
পুকুরটি আছে, কিন্তু নাম বদলে গেছে।
গাছটি আছে, কিন্তু কেউ জানে না সেটি কার হাতে লাগানো হয়েছিল।
তবু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন মানুষ হয়তো প্রথমবার বুঝতে পারবেন—তার পারিবারিক ইতিহাস কোনো পুরোনো গল্প নয়; তার একটি ভূগোলও আছে।
সেই ভূগোলকে যদি গবেষণা, প্রযুক্তি ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পেতে পারে পর্যটনের সম্পূর্ণ নতুন একটি বাজার।
শুধু ‘Visit Bangladesh’ নয়—
হতে পারে নতুন আহ্বান—
‘Find Your Roots Bangladesh।’
কারণ কখনো কখনো পর্যটন মানুষকে নতুন জায়গায় নিয়ে যায়।
আর কখনো কখনো পর্যটন মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই জায়গায়—
যেখানে তার গল্প শুরু হয়েছিল।








