প্রায় ৫০০ জনকে ওষুধ-চশমা প্রদান, বিভিন্ন চোখের সমস্যায় ৪০ জনের বিনামূল্যে অপারেশন
রাজ্জাক মিয়া,কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মরহুম ডিআইজি মো. জালাল আহমেদ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর এলাকার আব্দুল হান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
টিম জার্নালিস্ট’স-এর প্রধান উপদেষ্টা এম. মুক্তাদির হোসেনের নেতৃত্বে টিম জার্নালিস্ট’স-এর তত্ত্বাবধানে এ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম সফল ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে সম্পন্ন হয়। কুলাউড়া মুক্ত স্কাউটের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রপেলার ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতা এবং ইস্পানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চোখ পরীক্ষা, চোখের প্রেসার ও লেন্স পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি ও চশমার পাওয়ার নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৪০ জন রোগীর বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যার জন্য বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন সেবাগ্রহীতাকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন মরহুম ডিআইজি মো. জালাল আহমেদ চৌধুরীর সহধর্মিণী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক (অর্থ) ও যুগ্ম সচিব নাজনীন পারভীন। এছাড়া তাঁর দুই ছেলে ওয়াসিক আহনাফ চৌধুরী ও আদিব আহনাফ চৌধুরী, মরহুমের বড় ভাই শামসুল আরেফিন চৌধুরী এবং কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
নাজনীন পারভীন বলেন, “জালাল আহমেদ চৌধুরী সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতেন। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুলাউড়ার মানুষের জন্য এ ধরনের একটি সেবামূলক আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
মরহুমের বড় ভাই শামসুল আরেফিন চৌধুরী বলেন, “জালাল মানুষের পাশে থাকতে পছন্দ করতেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন। তাঁর স্মরণে মানুষের জন্য এমন একটি সেবামূলক আয়োজন অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এ আয়োজনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত হয়েছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
টিম জার্নালিস্ট’স-এর প্রধান উপদেষ্টা এম. মুক্তাদির হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন। প্রায় ৫০০ জনকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ৪০ জন রোগীর বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “মানুষের জন্য আয়োজিত এমন একটি সেবামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করেছে। আমি নিজেও উপস্থিত হয়ে সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি।”
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “অর্থের অভাবে অনেক সময় চোখের চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। এখানে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ ও চশমা পেয়েছি। যাদের অপারেশন প্রয়োজন, তাদেরও বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ উদ্যোগে আমরা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছি।”
ক্যাম্পে আরও উপস্থিত ছিলেন কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মুহিত বাবলু, টিম জার্নালিস্ট’স-এর সদস্য সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মামুন, সাংবাদিক সামসু উদ্দিন বাবু, সাংবাদিক রুবেল বক্স পাভেল, সাংবাদিক আজিজুর রহমানসহ টিম জার্নালিস্ট’স-এর সকল সদস্য।
কুলাউড়া মুক্ত স্কাউটের সদস্যরা রোগীদের নিবন্ধন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে কুলাউড়ার বিভিন্ন এলাকার নানা বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীদের সহায়তা করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।








