প্রেস বিজ্ঞপ্তি
মানববন্ধনে বক্তারা সুনামগঞ্জের ছাতক ঘাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক সাইফুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ওপেন টেন্ডার না করে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ঘাট ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ঘাটকে কেন্দ্র করে ইজারাদারদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী ইজারাদাররা অভিযোগ করেন ছাতক ঘাটের ওপেন টেন্ডার চলতি বছরের ১ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি। এর পরিবর্তে ঘাটটি এক মাস করে বিভিন্ন পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের বিভিন্ন টেন্ডার ও ঘাট ইজারা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি সুবিধাভোগী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিচালক সাইফুল ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের মামলা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য ছাতক ঘাটের ইজারা নিয়ে হাইকোর্টে চলমান সিভিল মামলা নম্বর ৩০৬৩-এর প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মামলাটির কারণে ঘাট ইজারা কার্যক্রমে জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক সাইফুলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হাইকোর্টের মামলাটি ‘ব্রেকেট’ করার জন্য তিনি বিআইডব্লিউটিএর আইন শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন।তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আইন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন—এমন তথ্য তারা পাননি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পরিচালক যদি আইন শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই নির্দেশের লিখিত নথি কোথায় এবং আইন শাখা বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিয়েছে? ঘাট নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাতক ঘাটের ইজারা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ ও স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে কাউকে এক মাসের জন্য ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ভুক্তভোগী ইজারাদারদের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে সুনামগঞ্জ ছাতক ঘাট এলাকায় সংঘর্ষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঘাট ব্যবসায়ীরা।









