হাকিকুল ইসলাম খোকন,
ধাক্কা-ধাক্কি-বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের সুযোগ পাননি বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী। অথচ তারা ৫ দিন আগে বিভিন্ন স্টেট থেকে নিউইয়র্কে এসে হোটেল-মোটেলে অবস্থান নিয়েছিলেন। জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত সমাবেশে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশ ছাড়াও গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে আওয়ামী লীগ প্রতিহত করার কর্মসূচিতেও তারা সরব ছিলেন। দলীয় চেয়ারম্যানের আশে-পাশে থাকা কতিপয় ব্যক্তির নির্দয় আচরণের শিকার নেতা-কর্মীরা সোস্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও নিজেদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকে এজন্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন। কারণ, পর্যায়ক্রমে ভেতরে ঢুকে তারেক রহমানের সাথে করমর্দন শেষে কয়েক সেকেন্ডের জন্যে কুশলাদিক বিনিময়ের অভিপ্রায়ে অন্তত: ২২০ জন হোটেলের করিডোর থেকে লাইনে ছিলেন। শ’ খানেকের মত সুযোগ পেয়েছিলেন বলে বাপসনিউজ এবং জনপ্রিয় পোর্টাল আইবিএননিউজ২৪.কম জানতে পেরেছে ।এ সময় তারেক রহমানের পাশে ছিলেন আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মিজানুর রহমান ভূইয়া মিল্টন, ফয়সল চৌধুরী, নাহিদুল হকসহ আরোও অনেকে ।এক পর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর তারেক রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এসএসএফ’র অনুমতিক্রমে একে একে ভেতরে ঢুকে সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করেন। বাইরে থেকে জানানো হয় যে, তুমুল বাক-বিতন্ডা চলছে কার আগে কে ঢুকবে-সে প্রতিযোগিতায়। অথচ এসএসএফ বিতরণকৃত পাস ছাড়া কারো ঢোকার অনুমতি ছিল না। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বাপসনিউজকে জানান, বিগত ১৭ বছরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন এবং বিভিন্ন স্টেট কমিটির সুপার ফাইভ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, নিউইয়র্ক মহানগরের সুপার ফাইভ ইত্যাদি মিলে ৩০০ জনের একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি এসএসএফকে হস্তান্তর করা হয় ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে। ফলে ২৫ সেপ্টেম্বর জুমআর নামাজের পর সেগুলো বিতরণে করা সম্ভব হয়নি পুরোপুরিভাবে। এছাড়া, কথিত নাগরিক সম্বর্ধনা বাতিল হওয়ায় টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট হোটেলের একটি মিলনায়তনে নেতা-কর্মীগণের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। সেটিও এসএসএফ’র অনুমতিলাভে সক্ষম হয়নি নানা অজুহাতে।খবর বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজ ।হোটেল লবিতে নেতা-কর্মীগণের সাথে কুশলাদি-পর্বে মূলধারার রাজনীতিক-ব্যবসায়ী আকতার হোসেনকে দেখা গেছে ।
আর এমন একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থার অসহায় ভিকটিম হয়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা। তারাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করতে না পেরে। যদিও সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেএফকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে হোটেল ত্যাগের সময় লবিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ এবং আব্দুল লতিফ সম্রাট পৃথক পৃথকভাবে বাপসনিউজ এর সংবাদদাতাকে জানান, জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে খুবই ব্যস্ত থাকায় চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীগণের সাথে প্রত্যাশা অনুযায়ী সময় দিতে পারেননি। তারপরও তার আন্তরিকতায় ক্রুটি ছিল না। কারণ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীগণের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তার অজানা নেই।
অপরদিকে, তৃণমূলের নেতা-কর্মীগণের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র নেতা এ সংবাদদাতার কাছে অভিযোগ করেছেন, দলীয় নেতা-কর্মীগণের সাথে চেয়ারম্যানের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং নাগরিক সম্বর্ধণার দায়িত্বটি সমন্বয় করার কথা কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের। যতটা অব্যবস্থাপনা তৈরী হয়েছিল তার জন্যে তিনিই দায়ী। আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২৮ মাস আগে নিউইয়র্ক স্টেট, নিউইয়র্ক মহানগরসহ ১৩ স্টেটে বিএনপির কমিটি করা হয়। আর এটি হয়েছে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদকসহ ৫ সদস্যবিশিষ্ট। সে সময় এগুলোকে ‘সুপার ফাইভ’ হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং জানানো হয় যে, খুব শীঘ্রই এই ৫ জনে পূর্নাঙ্গ কমিটির অবশিষ্ট পদগুলো পূরণ করে হাই কমান্ডে পাঠাবেন অনুমোদনের জন্যে। কিন্তু ২৮ মাসেও সেই অনুমোদন না আসায় সর্বত্র একধরনের হতাশা বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এমন অনুযোগ বেশ কয়েকজন উপস্থাপনও করেছেন কুশলাদিক বিনিময়ের সুযোগপ্রাপ্তরা। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই সাংগঠনিক অব্যবস্থাপনা দূর করার-এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ১৪ বছর আগে। সেই কমিটিরও অনুমোদন আসেনি আজ অবধি। আরো উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসে ম্যানহাটানের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করেন তারেক রহমান। সেই হোটেলের লবিতেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চার সদস্যকে পাশে নিয়ে নেতা-কর্মীগণের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন তারেক রহমান।






