আমরা “অধিকারের” জন্য লড়তে শিখেছি, কিন্তু “দায়িত্ব পালন” করতে শিখিনি।
এটাই আজকের সমাজের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই প্রশ্ন শুরু হয়—
“বেতন কত?”
“বছরে কত ছুটি?”
“বোনাস আছে?”
“ইনক্রিমেন্ট কবে হবে?”
কিন্তু খুব কম মানুষই জিজ্ঞেস করে—
“আমি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য কী মূল্য যোগ করব?”
সন্তান হিসেবে আমরা বাবা-মায়ের কাছে অধিকার চাই।
স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একে অপরের কাছে অধিকার চাই।
নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে অধিকার চাই।
কর্মচারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানের কাছে অধিকার চাই।
কিন্তু নিজের দায়িত্বের জায়গায় এলে আমরা অদ্ভুত নীরব হয়ে যাই।
আমরা বলি—
“ওরা সবাই পেয়েছে, তাই আমিও পাব।”
কিন্তু খুব কমই বলি—
“আমি কি ওদের মতো অবদানও রেখেছি?”
মনে রাখবেন,
আপনার অধিকার, অনেক সময় অন্য কারও দায়িত্ব।
আর আপনার দায়িত্বই নিশ্চিত করে অন্য কারও অধিকার।
আপনি যদি একজন শিক্ষক হন, আপনার দায়িত্বই একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা পাওয়ার অধিকার।
আপনি যদি একজন চিকিৎসক হন, আপনার দায়িত্বই একজন রোগীর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার।
আপনি যদি একজন বাবা হন, আপনার দায়িত্বই সন্তানের নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অধিকার।
আপনি যদি একজন নাগরিক হন, আপনার দায়িত্বই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।
আজ আমরা সবাই নিজের অধিকারের হিসাব রাখি।
কিন্তু নিজের দায়িত্বের খাতা খুলতে চাই না।
ফলাফল?
অফিসে সবাই ভালো বেতন চায়, কিন্তু সৎভাবে কাজ করতে চায় না।
পরিবারে সবাই সম্মান চায়, কিন্তু সম্মান দিতে চায় না।
দেশে সবাই উন্নয়ন চায়, কিন্তু নিয়ম মানতে চায় না।
যে জাতি শুধু অধিকার চেনে, সে জাতি কখনো মহান হতে পারে না।
মহান হয় সেই জাতি,
যেখানে মানুষ নিজের অধিকার দাবি করার আগে নিজের দায়িত্ব পালন করে।
কারণ—
যখন সবাই নিজের অধিকার নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সংঘাত জন্মায়।
আর যখন সবাই নিজের দায়িত্ব পালন করে, তখন সবার অধিকার আপনাআপনিই নিরাপদ হয়ে যায়।
আজ অন্যকে নয়, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন—
আমি কি শুধু আমার প্রাপ্য চাইছি, নাকি আমার প্রাপ্য পাওয়ার যোগ্য দায়িত্বটুকুও পালন করছি?
অধিকার দাবি করা সহজ।
দায়িত্ব পালনই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্রের পরিচয়।
“আপনার মতে—অধিকার আগে, নাকি দায়িত্ব? কেন? মন্তব্যে লিখুন।”
#dywisdom #DrYousuf #awazbd #masterhealer









