মা* যাওয়ার পরও কি একজন নারীর ইজ্জত আর পর্দার হেফাজত নিশ্চিত করা সম্ভব?
কিংবা সড়ক দু**টনায় স্বজন হারিয়ে এমনিতেই যখন মানুষের কষ্টের শেষ নেই , তখন কি পোস্টমর্টেমক-এর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আইনি ভোগান্তি পোহানো আসলেই জরুরি?

ঠিক এই মানবিক আর শরিয়তসম্মত দাবিগুলো নিয়েই সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের জন্য একটি জবরদস্ত বিল তুলতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, পুরুষের পোস্টমর্টেম পুরুষ ডাক্তার করবেন, আর নারীর পোস্টমর্টেম করবেন নারী ডাক্তার!
মৃ**দে\হে\র মর্যাদা রক্ষা করে সম্পূর্ণ ‘পর্দার ভেতর’ আধুনিক পদ্ধতিতে এই কাজ করার দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সড়ক, রেল বা নৌ-দু**টনায় কেউ মা* গেলে পরিবার যদি লিখিত দেয় যে, তারা মৃ** নিয়ে সন্তুষ্ট এবং কোনো আইনি জটিলতা বা পরীক্ষা চান না, তবে পোস্টমর্টেম ছাড়াই লা** দাফন বা সৎকারের অনুমতি দিতে হবে।
আইনমন্ত্রী এই প্রস্তাব শুনে রীতিমতো প্রশংসা করেছেন! তিনি বলেন, পয়েন্টগুলো খুবই ভ্যালিড এবং নীতিগতভাবে আমি এর সাথে একমত।
মন্ত্রী আরও জানান, খালেদা জিয়ার আমল থেকেই নারী স্বজনদের সম্মানের কথা ভেবে নারী ডাক্তার দিয়ে পোস্টমর্টেম করানোর একটা প্রশাসনিক চর্চা আছে। তবে সমস্যা হলো সব জায়গায় তো পর্যাপ্ত নারী ডাক্তার পাওয়া যায় না!
তবে খুশির খবর হলো, সরকার নিজেই ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের বড়সড় উদ্যোগ নিচ্ছে। আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, শাহজাহান চৌধুরীর এই প্রস্তাবগুলো হুবহু সেই সংশোধনীতে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর সাংসদ বিলটি আপাতত প্রত্যাহার করে নেন।
এই সাংসদ কিন্তু ‘ম* ও জু* নিষিদ্ধকরণ’ নিয়েও বিল তুলতে চেয়েছিলেন। তবে আইনমন্ত্রী স্মিত হেসে মনে করিয়ে দেন যে, জু** আইন তো এই অধিবেশনেই পাস হয়ে গেছে, আর ম** সংক্রান্ত বিষয়গুলো মা**কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেই আছে। ফলে সেই বিলটিও তিনি তুলে নেন।
মৃ**র শোকের ওপর পোস্টমর্টেমের বাড়তি মানসিক ও শারীরিক কষ্ট দূর করতে এই উদ্যোগগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়।

নারীদের পোস্টমর্টেম নারী ডাক্তার দিয়ে করানো এবং আকস্মিক দু**টনায় ময়নাতদন্তের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার এই দাবি নিয়ে আপনাদের মতামত কী?