আর্যভট্টের কথা তো জানেন? আর্যভট্টের একটা বিষয় আমার কাছে বিস্ময়কর লাগে। বিস্ময়কর বললে কম বলা হয়- অতি বিস্ময়কর বলতে হয়ে। এটা হচ্ছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময়কাল বা তারিখ নির্ধারণ। মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময়কাল এইন তারিখ দিয়ে দেওয়া নাই- বর্ণনা করা আছে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান দিয়ে। যেমন, বর্ণনা করা হয়েছে যে সেই সময় সূর্য, চন্দ্র, বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি সবাই রেবতী নক্ষত্রের সাথে একই রেখায়, অর্থাৎ শূন্য ডিগ্রী, দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। এইটাই ছিল সময় নির্দেশ করার কায়দা। এইটা ধরে আর্যভট্ট হিসাব করে বের করলেন যে ঘটনাটা ঘটেছে খ্রিস্টপূর্ব ৩১০২ সনে।
কারবারটা বুঝেন। আর্যভট্ট জন্মেছিলেন ৪৭৬ সনে, ভারতের পাটনায়। তখন টেলিস্কোপ তো দূরের কথা, সেইসব নিয়ে চিন্তাভাবনাও শুরু হয়নি। পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষ এটাই জানতো না পৃথিবী গোলাকার। সেই সময় একটা লোক খালি চোখে আকাশ দেখে অংক করা শুরু করলেন। অংক যে করবেন, তখন বিশ্বে গণিতের দৌড়ও প্রাথমিক পর্যায়ে। কাগজে লেখার জন্যে কলমও ছিল না। সেই সময় ভদ্রলোক হিসাব কিতাব করে বললেন, হুম, মহাভারতে গ্রহনক্ষত্রের যে অবস্থানের কথা বলা হয়েসে সেই অনুযায়ী সময়টা হবে খৃস্টের জন্মের ৩১০২ বছর আগের বছরটা। যুগটা ছিল দ্বাপর যুগ, আর সেই বছরের ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ থেকে শুরু হয় কলিযুগ।
পরে নানাসময় এইটা নিয়ে ইয়ে হয়েছে। পণ্ডিতরা পরীক্ষা করেছে, অংক করেছে, কেউ কেউ গ্রহ নক্ষত্র জাগা মত বসিয়ে সিমুলেশন করেও দেখেছে। একদম হুবহু একই সময় আসে না- হিসাবে এক বছর আগেপরে হয়। বিস্ময়কর নয়? এইলোকের বয়স নাকি তখন বাইশ তেইশ চব্বিশ এইরকম। গণিত নিয়ে তিনি একটা বইও তখন লিখে ফেলেছেন। গণিত ব্যাপারটায় আমি মোটেই পাকা নই, কিন্তু পাইয়ের মান যে একটা গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার সেটা বেশ বুঝতে পারি। এই লোক নাকি পাইয়ের মান দশমিকের পর চার সংখ্যা পর্যন্ত সঠিকভাবে বের করেছিলেন।
পাই নিয়ে ঘটনাটা বলি। পাইয়ের মান নিয়ে গণইতে পাকা ছোকরাগুলি ফটফট করে আর কি সব বলে, আমি এইসব কিছুই বুঝি না। আমার এক পণ্ডিত বন্ধুকে একদিন গোপনে জিজ্ঞাসা করি, এই রে, আমাকে পাইয়ের ব্যাপারটা একটু বল তো, এইটা নিয়ে কিছু না জানলে তো মান সম্মান থাকছে না। দুই গেলাস পানীয়ের বিনিময়ে বন্ধু আমাকে বলে কিনা, আরেহ, এই যে গেলাসের মুখটা, এইটার ঠিক মাঝ বরাবর মেপে যে সংখ্যা পাবি যেটার সাথে গেলাসের মুখের পরিধির অনুপাতই হচ্ছে পাই। তাইলে এটা নিয়ে এতো উৎপাতের কি আছে? এটা নাকি একটা নিখুঁত সংখ্যা নয়, অসীমের কাছাকাছি একটা জিনিস।
আর্যভট্ট নিয়ে এরকম অনেকগুলি বিস্ময়কর ব্যাপার আছে। পাটনার একটা গ্রামের এই যুবক গণিতে এইরকম পাকা হলেন কি করে? তাঁর বাড়ী যে গ্রামে, কুসুমপুরা, সেই গ্রামটা ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাছেই। তিনি পড়েছিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়েই। আর্যভট্টের একজন টিকাকার লিখেছেন যে আর্যভট্ট নাকি পরবর্তীতে নালন্দার শিক্ষক ছিলেন, সেখানকার ভিসিও হয়েছিলেন।
কি একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো বলে আর্যভট্টকে দিয়ে শুরু করেছিলাম, মূল কথাটা ভুলে গেলাম। থাক, পরে মনে পড়লে আবার লিখে দিব। এইটা বড় অস্বস্তিকর, চট করে ভুলে যাই- পরে মনে পরে আবার, কিন্তু কখন মনে পড়বে জানিনা। বয়স বাড়ছে বলে এইরকম হচ্ছে? না, এরকম আমার আগেও হয়েছে। একটা বিষয় নিয়ে কথা শুরু করেছি, ভূমিকা একটু লম্বা হয়ে গেল তো মূল কথাটা হারিয়ে ফেলি, ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যাই। আজও কোন একটা সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়েই হয়তো বলবো বলে আর্যভট্ট নিয়ে ভূমিকা ফেঁদেছিলাম, এখন আটকে গেছি। থাক।
আচ্ছা বলেন তো, আর্যভট্ট যখন পাইয়ের মান বের করছেন বা মহাভারতের সময়কাল নির্ধারণের অংক করছিলেন, আরবের লোকেরা তখন কি করছিল?
-Imtiaz Mahmood









