গোপাল চন্দ্র রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উদাসীনতায় বেহাত হতে চলেছে ওই স্কুলের নামে থাকা দুই বিঘা অর্থাৎ ৬৬শতাংশ জমি। যার বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর ডোমারের কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডোমারে শিক্ষার প্রসারে শহরের উপকন্ঠে শহীদ স্মৃতি নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩সালে তৎকালীন ওই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার ও অপর কয়েক মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের নামে শহরে ৫৪শতাংশ এবং ডোমার পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকায় দুই বিঘা (৬৬শতাংশ) জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে স্কুলটি জাতীয় করনসহ নানা কর্মকান্ডে কেটে যায় অনেক বছর। ধীরে ধীরে লেখা পড়ায় স্কুলটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল কতৃপক্ষের উদাসীনতায় গত ২০০০সালে অনুষ্ঠিত ভূমি রেকর্ড জরিপে বিএস রেকর্ডে স্কুলের নামে ৫৪শতাংশ জমি রেকর্ড ভুক্ত হলেও অপর ৬৬শতাংশ জমি রেকর্ড ভুক্ত করতে পারেনি। কাজীপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যাক্তি ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে বাড়ি ঘর তৈরি করে নিজের জমি হিসেবে দাবি করে আসছে এবং তাদের নামে বিএস রেকর্ড ভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও জমির রেকর্ড সংশোধন কিংবা পরিবর্তনের জন্য কোনরূপ পদক্ষেপ গ্রহন করেনি স্কুল কতৃপক্ষ। বর্তমানে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রথমেই স্কুলের জমি উদ্ধারে মনোযোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর গাছ রোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬৬শতাংশ জমিতে বিভিন্ন জাতের গাছ রোপন করেন। পরদিন গাছগুলো কাজী পাড়া এলাকার আফজাল হোসেন, সোহাগ ইসলাম, নুরুজ্জামান, আমিনার রহমান, রুপা বেগম অবৈধ দখল কারীরা ভেঙে দেন। এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি আব্দুল জব্বার উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেন।
ইতিপূর্বে স্কুলের স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে না জানা, যথাযথ ভাবে জমিনের রক্ষণাবেক্ষণ না করা, লীজের ব্যবস্থা না করা, প্রতি বছর ১০থেকে ১৫হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব হারানো, স্কুলের কয়েক সহকারী শিক্ষককে বাড়তি সুবিধা দেয়া, পক্ষপাত মুলক আচরণ করা, ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নাম করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা, উদাসীনতা, অদক্ষতা, অসদাচরণ এবং আত্মসাৎ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী(শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি-৩ (ক), (খ)ও (ঘ) ধারায় এবং একই বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) ধারা মোতাবেক প্রধান শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে ১০দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের রংপুর বিভাগীয় উপ পরিচালক আজিজুর রহমান।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার জানান, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সময় আমি স্কুলের নামে জমি ক্রয় করি। দীর্ঘদিন ধরে জমির তত্বাবধান না করায় জমিটুকু বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা গাছ লাগিয়েছি তারা গাছগুলো ভেঙে দিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাইদুল ইসলাম জানান, স্কুলের জমি উদ্ধারের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার দায়িত্ব নিয়েছেন।









