রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীদের দাবি, কমিটিতে পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে মাহমুদ হাসান সজলকে সভাপতি এবং ইয়াছির আরাফাত সৈকতকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঠিয়া-দুর্গাপুর সংসদীয় আসন কেন্দ্রিক একটি ভার্চুয়াল সভায় রাজশাহী জেলার বিভিন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। এরপর জেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদাগাড়ী পৌর যুবলীগের এক নেতা অভিযোগ করেন, ইয়াছির আরাফাত সৈকত তাঁকে সহসভাপতি পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন।
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঠিয়া পৌর যুবলীগের এক কর্মীর অভিযোগ, তাঁকে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকেও জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পদ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।







