ঈদের ব্রেক শেষে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমি অপেক্ষায় ছিলাম আন্দালিভ রহমান পার্থকে কখন মাঠে নামানো হয়!
অবশেষে রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে নামানো হলো পার্থকে। প্রথম দিনে ১৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড খেলেছেন। এই পুরোটা সময়ে যেভাবে উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, মনে হচ্ছিলো মাঠে যেন মেসিকে নামিয়ে দিয়ে ডাগআউটে নির্ভার থেকে খেলা উপভোগ করছেন স্কালোনি!
পার্থ শুরু করেছেন কারা জুলাইয়ে শক্তি আর কারা জুলাই শক্তি নয় ন্যারেটিভে ৫ আগস্ট-পরবর্তী থেকে যেভাবে শুরু হয়েছিল ক্রেডিট এককভাবে ছিনতাই করে নেয়ার সোশাল বিভাজন মিশন, তার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমানে যেভাবে মিথ্যায় একইভাবে বিএনপি জুলাই সনদ বা গণভোট-বিরোধী আর আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে জানপ্রাণ দিয়ে দিচ্ছি, সেই ন্যারেটিভ ভিত উড়িয়ে দিয়ে।
যেভাবে আওয়ামী লীগের অপকর্মের সমালোচনা করা হলে ট্যাগ করে দিতো, রাজাকার।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা করলেই ট্যাগ করে দিতো, রাজাকার।
গুম-খুন, ভোট ডাকাতি নিয়ে মুখ খুললেই ট্যাগ করতো, রাজাকার।
এখনো ঠিক একইভাবে যুক্তিতর্কে পরাস্ত হয়ে ট্যাগ করে দেয়, জুলাই-বিরোধী।
এরপর এড্রেস করলেন জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির তথা তাদের অবস্থান। পার্থর বক্তব্য, উই হ্যাভ নো প্রব্লেম উইথ জুলাই সনদ। সমস্যাটা আমাদের মধ্যে প্রক্রিয়া নিয়ে।
গণঅভ্যুত্থান-পরবতী সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আপনারা যদি রেভুলোশনারি সরকার করতেন তাহলে এ সংবিধানের কোনো কার্যকারিতা থাকতো না। পুরোনো সংবিধানে নতুন সরকার করে, আবার সেই সংবিধানকে বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন; এটা তো আসলে হতে পারে না।
ইয়েস উই নিড চেঞ্জড। আমরা পলিটিশিয়ান এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সংবিধানে রেলিভেন্ট অংশ একইসঙ্গে জুলাইয়ের স্পিরিট আপহোল্ড করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। বাট আপনারা তো সেই কাজটা করতে দিচ্ছেন না, আমাদের উলটো সাইড করে দিচ্ছেন।
আপনাদের বিরোধীদলীয় সম্মানিত নেতা, উনি কথা বলার সময়ে আমাদেরকে কত সুন্দর করে ভদ্রভাবে রিকগনাইজ করে বলেন, কিন্তু এরপরই আপনাদের কাছে ফ্লোর গেলে আপনারা একেকজনই এ্যাটাক করে কথাবার্তা শুরু করে দেন, এজ ইফ জুলাইতে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নাই!
গত ১৬ বছরে এখানের আমাদের, আপনাদের কার ওপরে জেল-জুলুম হয়নি?
জুলাইয়ে এসে ৬ বলে আপনারা ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগে ৩০০ রান আমরা সবাই (বিএনপি-জামায়াত) মিলেই করেছি।
এরপর আইনকানুন ও বাস্তবতা নিয়ে ক্ষুরধারা যুক্তিতর্ক করলেন কয়েক মিনিট, যেটা সালাহউদ্দিন আহমেদ করে যাইতেছেন রেগুলারই। তাই আর আলাপ টানলাম না।
অফকোর্স আমাদের জুলাইকে রেস্পেক্ট করতে হবে, বাট কান্ট্রি মুভ অন। আমরা তো সেটাই চাচ্ছি একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করি কীভাবে দেশ এগোবে। জুলাই সনদ আমাদেরকে বাস্তবায়ন করতে হবে, যেভাবে সাক্ষরিত হয়েছিল। আমাদের ঐক্য বিএনপি যদি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে না-চায় আমি পার্থ তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো।
এরমধ্যে একটু খোঁচাও দিলেন জামায়াতকে, আপনারা তো প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধীতা করেন, আবার গোপনে ভারতের সঙ্গে মিটিংও করেন। সমস্যা তো নাই। আসেন না আমাদের সঙ্গে, আমরা বসি আলাপ-আলোচনা করি। সারাজীবনেই ইসলামভিত্তিক রাজনীতি করে ভোটের আগে বলতেছেন, আমরা শরিয়া আইন চাই না।
আমাদের প্রত্যেক সংসদ সদস্যকেই মনে রাখতে হবে কথা বলার সময়ে আমরা যেন জুলাইকে আন্ডারমাইন না করি।
ভুলে যাবেন না যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চিটাগংয়ে ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছিল।
এক যুগ আগে যে পার্থকে চিনেছি সংসদ বক্তৃতার মাধ্যমে সে পার্থকে একই রূপে প্রথমদিনে পারফরম্যান্সে পেয়ে মনে হচ্ছে, যেদিন সংসদে দাঁড়াবেন, সেদিনের কাজটাজ ফেলে সংসদ টিভির সামনে বসে যেতে হবে তার বক্তৃতার কনসার্ট শোনার জন্য।
Views: 195
Related