Sunday, October 11, 2026
  • সম্পর্কিত
  • যোগাযোগ
  • শর্তাবলী
  • গোপনীয়তা নীতি
  • বিজ্ঞাপন দিন
  • Login
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
No Result
View All Result
Home বিভাগ সমূহ খুলনা বিভাগ

কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের মালিক “কানু বাবুর” — জীবনী ও প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও সংস্কার করে পূনরায় মহিনি মিলটির চালুর দাবি এলাকা বাসির

admin by admin
November 14, 2025
in খুলনা বিভাগ, বাংলাদেশ, বিশেষ সংবাদ
Reading Time: 14 mins read
1 0
A A
0
0
SHARES
10
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter
কবি,কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন জুয়েল খান
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া :- মোহিনী মিলের প্রতিষ্ঠাতা মোহিনী মোহন চক্রবর্তী (জন্ম: ৬ জুলাই ১৮৩৮, মৃত্যু: ১৯২২) ছিলেন এক বিশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা, যিনি অবসর জীবনে কুষ্টিয়ায় মোহিনী মিলস লিমিটেড নামে একটি বস্ত্রকল প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর, মিলটির উত্তরাধিকার “কানু বাবু”, অর্থাৎ তার নাতি, হাতে যায়। স্থানীয় জনগণ তাঁকে কানু বাবু বলে সম্বোধন করত।
নির্মাণকাল ও শিল্প–সংস্কৃতিক অবদান
মিলটি ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রায় ১০০ একর জমিতে বিস্তৃত হয়, যা প্রায় ৯৯ বিঘা অঞ্চল জুড়ে फैला ছিল; একসময় এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল।
“কানু বাবু”-এর আমলে মিলপাড়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জায়গা—যেমন সন্ধ্যা সমিতি থিয়েটার, লাইব্রেরি, ও ফুটবল দল—যা শ্রমিকদের বিনোদন ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখেছিল।
কালের বিবর্তন ও মৃত্যুর পরে
যদিও সরাসরি “কানু বাবু” এর মৃত্যু তারিখ বা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, জানা যায় ১৯৬৫ সালের ভারত–পাক যুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকানার কারণে মিলে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে মোহিনী মিল ঘোষণা করা হয়, মানুষের এক সাময়িক ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে। আর সেই সময় কানু বাবুকে হয়তো বাড়িঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (গৃহবন্দী করা হয়েছিল), যা একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু তার মৃত্যু বা পরবর্তী জীবনের বিস্তারিত তথ্য এখনও অনুপলব্ধ।
মূল প্রতিষ্ঠাতা মোহিনী মোহন চক্রবর্তী (১৮৩৮–১৯২২)
মিল নির্মাণ ১৯০৮ সালে, প্রায় ৯৯ বিঘা (১০০ একর) জমিতে শুরু
উত্তরাধিকার “কানু বাবু” নামে পরিচিত নাতির দায়িত্ব গ্রহণ
সাংস্কৃতিক অবদান সন্ধ্যা সমিতি থিয়েটার, লাইব্রেরি, ফুটবল টিমিংসহ সমাজ+সংস্কৃতি স্থাপন
সাময়িক অসুবিধা ১৯৬৫ সালে মিল ‘শত্রু সম্পত্তি’ ঘোষিত, আটক ও দখলের ঘটনা ঘটেছিল
নির্দিষ্ট মৃত্যু নিরিখ “কানু বাবু” এর মৃত্যুর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি
কানু বাবু, অর্থাৎ মোহিনী মোহন চক্রবর্তীর নাতি, সাহিত্য–সংস্কৃতি আর শ্রম জীবনের ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সময়েই মোহিনী মিল শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, একটি সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছিল—যেখানে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বিনোদনের মেলবন্ধন ঘটেছিল। যদিও তাঁর শেষ জীবন ও মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তা সত্ত্বেও তিনি কুষ্টিয়ার শিল্প ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
কুষ্টিয়ার মহিনি মিল, কানুবাবু ও সিনেমা হল তৈরির ইতিহাস
কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে মহিনি মিলের নাম যেমন উজ্জ্বল, তেমনি এর উদ্যোক্তা কানাই লাল বাবু (কানুবাবু) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি শুধু একটি মিল স্থাপন করেননি, বরং স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চাহিদার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি কুষ্টিয়ায় প্রথম দিককার সিনেমা হল তৈরির উদ্যোগ নেন, যা কেবল একটি ব্যবসা নয়, বরং সমাজ ও সংস্কৃতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সিনেমা হল তৈরির প্রেক্ষাপট
১৯৩০–৪০-এর দশকে সিনেমা ছিল এক নতুন বিনোদন মাধ্যম।
তখন কুষ্টিয়া ছিল একটি ছোট শহর, যেখানে নাটক, যাত্রা ও পালাগান জনপ্রিয় হলেও আধুনিক সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল না।
কানুবাবু উপলব্ধি করেছিলেন—শুধু অর্থনীতি নয়, জনগণের সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্যও আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা দরকার।
সেই চিন্তা থেকেই তিনি কুষ্টিয়ায় একটি সিনেমা হল স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
সিনেমা হলের বিবরণ
সিনেমা হলটি মহিনি মিলে কাজ করা শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছিল প্রথম আধুনিক বিনোদনের স্থান।
কাঠ ও লোহার কাঠামোয় তৈরি হলেও হলে ছিল প্রজেক্টর, টিকিট ব্যবস্থা, আলাদা আসনবিন্যাস—তৎকালীন সময়ে যা ছিল একেবারেই অভিনব।
এখানে প্রদর্শিত হতো কলকাতা থেকে আনা হিন্দি ও বাংলা ছবি, এবং পরে পাকিস্তানি সিনেমাও।
বলা হয়ে থাকে, কুষ্টিয়ার প্রথম প্রজন্মের দর্শকরা এখানে বসেই প্রথম “আধুনিক সিনেমা”র স্বাদ পেয়েছিলেন।
বোনদের কারণে বিভক্তি ও প্রভাব
কানুবাবুর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
বিশেষ করে তার বোনদের অংশ দাবি ও উত্তরাধিকার বিরোধ সিনেমা হল ও মিলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এ বিরোধের ফলে সিনেমা হলের সঠিক পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
উত্তরাধিকার ও মালিকানা সমস্যার কারণে সিনেমা হলটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি; স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সফল হয়নি।
সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো সিনেমাকে কাছ থেকে দেখেছিল এই হলে।
এখানে সিনেমা প্রদর্শনের ফলে স্থানীয়ভাবে সাংস্কৃতিক চেতনা, শিল্প ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।
কুষ্টিয়ার শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে কানুবাবুর সিনেমা হল এক “পাইওনিয়ার” উদ্যোগ হিসেবে আজও স্মরণীয়।
পতন ও আজকের অবস্থা
মিলের মতো সিনেমা হলটিও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়।
বর্তমানে এর কোনো কার্যকর অস্তিত্ব নেই, কেবল ইতিহাসের পাতায় এবং প্রবীণদের স্মৃতিতে এটি বেঁচে আছে।
জমি-জায়গা ও সম্পত্তি দখল এবং ব্যবস্থাপনার অভাবে কুষ্টিয়ার এই ঐতিহাসিক সিনেমা হল বিলীন হয়ে যায়।
কানুবাবু শুধু একজন শিল্পোদ্যোগী নন, তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি কুষ্টিয়ায় প্রথমবারের মতো সিনেমার মতো আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
যদিও উত্তরাধিকার বিরোধ ও বোনদের দাবির কারণে এই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবু কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এটি অমূল্য অবদান হিসেবে রয়ে গেছে।
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মহিনি মিল আজ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবহেলা ও বেদখলের দুঃখগাথা নিয়ে। একসময় প্রায় তিনশো শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল এই মিল। শ্রমিকদের ঘর-বাড়ি থেকে শুরু করে মিলের অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছিল এক কর্মমুখর পরিবেশ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই সমস্ত শ্রমিকের ঘর আজ বেদখল অবস্থায় পড়ে আছে।
মিলের মালিক কানুবাবুর সখের তৈরি বিশাল মহলও আজ বেদখল হয়ে রয়েছে। মিলের অভ্যন্তরে একসময়কার কোটি কোটি টাকার দামী মেশিনপত্র এখনো পড়ে আছে, কিন্তু সেগুলোর দেখভাল করার মতো কেউ নেই। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে এগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব মেশিন যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা গেলে এখনও দেশের শিল্প খাত ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারতো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মিলপাড়া এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এবং কুষ্টিয়া শহরের সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, এই বেদখল হওয়া সম্পদ ও মেশিনপত্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা মনে করেন, সরকারের উদ্যোগে মহিনি মিলকে সংরক্ষণ করা গেলে এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা দেবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— “শত শত কোটি টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া কি রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি নয়?”
তাদের আহ্বান, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মিলটির সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনে সংস্কার, পুনর্গঠন বা অন্তত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।
 মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া — এক অভিজাত শিল্প-ঐতিহ্য ও বর্তমান কার্যহীনতার ট্র্যাজেডি
১. প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
প্রতিষ্ঠক: মোহিনী মোহন চক্রবর্তী — ব্রিটিশ আমলে অবসর নেওয়ার পর নিজের সঞ্চয় থেকে এই উদ্যোগ শুরু করেন ।
প্রতিষ্ঠা সাল: ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়ার নদীয়ার (নদিয়া) অংশে মিলটি স্থাপিত হয় ।
মাত্র ৮টি তাঁত দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, পরবর্তীতে এটি বাড়তে বাড়তে বিস্তৃত হয় ।
২. গুরুত্ব ও প্রভাব
সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ বস্ত্রকল হিসেবে সম্মান লাভ করে ।
সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও লজিস্টিক সুবিধার কারণে (রেল এবং নদীপথ সংযোগ) এটি খুলেছিল দেশের সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ ।
উৎপাদিত সামগ্রী যেমন: ধুতি, শাড়ি, গজ, তোয়ালে, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি দেশের ভেতর এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে রফতানি হতো ।
শ্রমিকসংখ্যা পৌঁছেছিল প্রায় ৩০০০ জন ।
৩. পরিবর্তন ও পতন
জাতীয়ায়ন হয় ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, দেশীয় অর্থনীতি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ।
১৯৮২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মিলটি বন্ধ হয়ে যায়; এর পিছনে প্রায়শই দুর্নীতি এবং ষড়যন্ত্র-এর কথা বলা হয়, যা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হারানোর কারণ ।
৪. বর্তমানের বেদুঃখ
বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে; প্রাচীন স্থাপনার বহু অংশ নষ্ট ও উচ্ছৃঙ্খল ।
সম্পত্তি পরিমাণ: প্রায় ৯৯ বিঘা জমি, যার মূল্য প্রায় ১,০০,০০০ হাজার  কোটি টাকা (বাজারমূল্য অনুযায়ী)
এই বিস্তীর্ণ জমির মধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, হাসপাতাল ও খেলার মাঠ—কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এগুলোর কোন ধারাবাহিকতা নেই ।
৫. পুনরুদ্ধার ও আধুনিকীকরণের প্রস্তাব
সাম্প্রতিক একটি আর্কিটেকচারাল থিসিস প্রকল্প-এ (‘Abandoned to Avant-Garde’) প্রস্তাবিত হয়েছে—মোহিনী মিলকে সংস্কৃতি, সংস্কার, অসংকৃত শিল্প, শিক্ষাবিদ, ও সামাজিক পুনরায় সংযোজন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা যেতে পারে ।
পরিকল্পনায় রয়েছে:
পুরানো ইট ও ট্রাস্ট কাঠামো সংরক্ষণ,
শিল্প প্রদর্শনী, পারফরমেন্স, মিউজিয়াম, কারুকার্য ও হস্তশিল্প প্রদর্শনের স্থান,
সমাজসেবা, পিডিএম ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সামাজিক স্থান—সব কিছু একত্রে সাজিয়ে একটি নবায়ন উপযোগী সাইট গড়ার চিত্র ।
সারসংক্ষেপ টেবিল
বিষয় তথ্য
প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি ১৯০৮, মোহিনী মোহন চক্রবর্তী; এশিয়ায় সর্ববৃহৎ বস্ত্রকল
উৎপাদন ও সম্প্রসারণ দামী কাপড়, রফতানি, ৩০০০ শ্রমিক
জাতীয়ায়ন ও বন্ধ জাতীয়ায়ন: ১৯৭২; বন্ধ: ১৯৮২
বর্তমান অবস্থা পরিত্যক্ত, ৯৯ বিঘা, অবমূল্যায়িত সম্পদ
পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব সংস্কৃতি কেন্দ্র, মিউজিয়াম, শিল্পকর্ম, পুনর্ব্যবহার
কার্যকরী সুপারিশ (সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য):
১. স্বীকৃতি ও মুল্যায়ন: জমি ও সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট বাজার মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ মালিকানার দিক বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ।
২.ঐতিহাসিক সুরক্ষা: স্থাপত্য ও শিল্প ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে সনদায়ন।
৩.ব্যবস্থাপনা কমিশন: সরকারের এবং স্থানীয় স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক ফোরাম গঠন।
৪.পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর: থিসিস-ভিত্তিক প্রস্তাব অনুসারে—মিলটিকে সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলা কেন্দ্র হিসাবে পুনরুজ্জীবিত করা।
৫.অর্থায়ন ও সহযোগিতা: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, শিল্পী ও সংস্কৃতি কার্যক্রম, অ্যাকাডেমিয়া–দের সংশ্লেষে একটি কার্যকরী অর্থায়ুক্ত রূপান্তর প্রকল্প চালু করা।
মোহিনী মিল কেবল একটি কারখানা নয়, এটি স্বদেশী আন্দোলনের প্রেরণা, পূর্ব বাংলার শিল্প ঐতিহ্য, এবং কুষ্টিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্মৃতিপথের অংশ। এটি পুনরুদ্ধারের সুযোগে একটি বহুমাত্রিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যা আজিও আমাদের কাছে গর্ব ও প্রত্যাশার উভয়ই প্রতীক। এই প্রতিবেদন সরকারের নজরে পৌঁছিয়ে, দ্রুত ও সৃজনশীল হস্তক্ষেপের পথে উদ্বুদ্ধ হোক—এটাই আমাদের কাম্য।
কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল পুনরুজ্জীবন: কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও নীতিগত রূপরেখা (এ-টু-জেড বিশদ প্রতিবেদন)
১) প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
কুষ্টিয়ার মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে “কুষ্টিয়া মোহিনী মিলস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড” নামে এ মিল প্রতিষ্ঠা করেন। চালু অবস্থায় এটি তৎকালীন ভারতবর্ষ–এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত ছিল; অল্প কয়েকটি তাঁত দিয়ে শুরু করে কর্মীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছায় এবং শাড়ি–ধুতি মানের জন্য খ্যাতি পায়।
পরবর্তীতে অব্যবস্থাপনা ও অবক্ষয়ের ধারায় মিলটি অচল হয়ে পড়ে; শতবর্ষী স্থাপনা আজ পরিত্যক্ত রূপে এলাকাবাসীর বেদনার কারণ। জাতীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যটন-তথ্যসূত্রগুলোও এটিকে “পরিত্যক্ত” ঐতিহাসিক শিল্পস্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২) কেন এখনই পুনরুজ্জীবন জরুরি
কর্মসংস্থানের চাহিদা: দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে; উৎপাদনশীল শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন।
টেক্সটাইল–আরএমজি ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ; সরবরাহ শৃঙ্খলে দক্ষ শ্রমশক্তির বিশাল ভাণ্ডার আছে—প্রায় ৪–৫ মিলিয়ন সরাসরি কর্মী। কুষ্টিয়ায় একটি আধুনিক টেক্সটাইল–হেরিটেজ কমপ্লেক্স এ দক্ষতাকে আঞ্চলিকভাবে টানতে পারবে।
হেরিটেজ ও পর্যটন: জেলা প্রশাসনের সরকারি সাইটে মোহিনী মিলকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তালিকাভুক্ত—অর্থাৎ সংস্কৃতি–ঐতিহ্যভিত্তিক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩) চালু হলে কত কাজ হবে: বাস্তবসম্মত চিত্র
নিচের হিসাবটি উদাহরণধর্মী রূপরেখা—স্থানভিত্তিক বিস্তারিত সমীক্ষার আগে এটি নীতিগত ধারণা দেবে।
ক) উৎপাদন ইউনিট (স্পিনিং–উইভিং–প্রসেসিং):
প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান: ~১,২০০–১,৮০০ (৩ শিফট, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিনারি ধরা হয়েছে)
পরোক্ষ: ১.৫×–২× বহুগুণ প্রভাব ⇒ অতিরিক্ত ~১,৮০০–৩,৬০০ (লজিস্টিকস, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, সেবা)
খ) হেরিটেজ–ট্যুরিজম ও কমিউনিটি স্পেস:
মিউজিয়াম, গাইড, ইভেন্ট, ক্র্যাফট মার্কেট, ফুড কোর্ট: ২৫০–৪০০
গ) ট্রেনিং–রিস্কিলিং সেন্টার (SEIP ইত্যাদি যুক্ত):
প্রশিক্ষক/স্টাফ/অ্যাডমিন: ৬০–১২০; বছরে ১,০০০–২,০০০ প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করে শিল্পে/উদ্যোগে যুক্ত করা সম্ভব—SEIP জাতীয় প্রোগ্রাম সরাসরি সমর্থন দিতে পারে।
সম্ভাব্য মোট: ৩,৩১০–৫,৯২০ জনের সরাসরি+পরোক্ষ কর্মসংস্থান। (এটি একটি রক্ষণশীল “ফেজ–১” চিত্র; পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল+হেরিটেজ পার্ক হলে সংখ্যা আরো বাড়বে।)
৪) কারা কাজ পাবেন—পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে
প্রবীণ/সাবেক শ্রমিকরা: যাদের কাছে লুম, কার্ডিং, ফিনিশিং–এর হাতে–কলমে অভিজ্ঞতা আছে—তাদের জন্য “রিটার্নশিপ” ট্র্যাকে দ্রুত নিয়োগ।
নতুন প্রজন্ম: টেক্সটাইল ডিপ্লোমা/বিএসসি, কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী; নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্কিল–ট্র্যাক।
পর্যটন–সংস্কৃতি খাত: ট্যুর গাইড, কিউরেটর, সংরক্ষণ কর্মী, ইভেন্ট–ম্যানেজমেন্ট।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা: হ্যান্ডলুম, ক্র্যাফট, সুভেনির, স্থানীয় ফুড–চেইন—লিজভিত্তিক শপ।
লজিস্টিকস ও সেবা: পরিবহন, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, আইটি–ডিজিটাল, ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট।
৫) নীতিগত ভিত্তি: কোন আইনে–কীভাবে
প্রটেকশন ও সংরক্ষণ: বাংলাদেশের Antiquities Act, ১৯৬৮ অনুযায়ী ঐতিহাসিক স্থাপনা/পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও ঘোষণার আইনি ভিত্তি আছে—মোহিনী মিলের প্রাচীন স্থাপত্যাংশকে “প্রটেক্টেড” নোটিফাইড জোন হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব।
পর্যটন/হেরিটেজ–গভর্ন্যান্স: গবেষণা–পলিসি নথিপত্রে টেকসই হেরিটেজ ট্যুরিজমের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার সুপারিশ রয়েছে—ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিওলজি, জেলা প্রশাসন, বিটিবি, স্থানীয় পৌরসভা–সবাইকে “ওয়ান–স্টপ” প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে।
পিপিপি বা লিজ–মডেল: রাষ্ট্রায়ত্ত/বন্ধ জুট–টেক্সটাইল মিলগুলোকে পিপিপি বা দীর্ঘমেয়াদি লিজে চালুর সরকারি উদ্যোগগুলোর নজির আছে; শিল্পমহলের কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি লিজকেই কার্যকর মনে করেন।
৬) অর্থায়ন–ব্যবসায়িক রূপরেখা (সংক্ষেপ)
ক্যাপেক্স (ফেজ–১, ৭৫–১০০ একর উন্নয়ন ধরা):
যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন, ইউটিলিটি, ETP, সোলার রুফটপ, ফায়ার–সেফটি: সম্ভাব্য ৬০–৯০ কোটি টাকা+ (ব্র্যান্ড–নতুন/রিফার্বিশড নির্ভর)।
সংরক্ষণ–পুনর্বাসন (চিমনি, শেড, গেট, ইটকাঠামো), মিউজিয়াম ও পাবলিক স্পেস: ২০–৩০ কোটি টাকা।
ওপেক্স: কাঁচামাল, এনার্জি, বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ—ক্যাশ–ফ্লো প্রোজেকশন ১২–১৮ মাসের “র‌্যাম্প–আপ” ধরে করতে হবে।
ফান্ডিং সোর্স: সরকারি অনুদান/Viability Gap Funding, পিপিপি ইকুইটি, ব্যাংক টার্ম–লোন, সবুজ অর্থায়ন (ETP/সোলার), দাতা–প্রকল্প (ADB–সমর্থিত SEIP–স্কিলিং কম্পোনেন্ট)।
৭) স্কিলস–পাইপলাইন: SEIP ও অংশীদারিত্ব
SEIP (Skills for Employment Investment Program) ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৮ লক্ষাধিক প্রশিক্ষণের টার্গেট নিয়ে শিল্প–অ্যাসোসিয়েশনসমূহের সঙ্গে কাজ করছে—মিল প্রাঙ্গণেই “টেক্সটাইল–মেইনটেন্যান্স–অপারেশন” ট্রেডে দ্রুত ব্যাচ চালু করা যায়।
৮) পরিবেশ–নিরাপত্তা–কমপ্লায়েন্স
ETP ও বর্জ্যব্যবস্থাপনা: ডাইং/প্রসেসিং ইউনিটের আগে পূর্ণাঙ্গ ETP, স্লাজ ম্যানেজমেন্ট, জিরো–লিকেজ পাইপ–নেটওয়ার্ক।
ফায়ার–স্ট্রাকচারাল সেফটি: আন্তর্জাতিক মান (হাইড্র্যান্ট, স্প্রিংকলার, সেফটি ড্রিল), পুরোনো ইট–কাঠামোর স্ট্রাকচারাল অডিট করে “অ্যাডাপটিভ রিইউজ”।
এনার্জি: রুফটপ সোলার+হাই–এফিশিয়েন্সি মোটর/কম্প্রেসার; বয়লার–এয়ার–ইনলেট রিকভারি।
হেরিটেজ–বাফার: চিমনি–গেট–ঐতিহ্যশেডের চারপাশে নির্মাণ–নিষেধাজ্ঞা বাফার জোন—Antiquities Act–এর স্পিরিট অনুযায়ী।
৯) ট্যুরিজম ও সংস্কৃতি কম্পোনেন্ট
মিল–মিউজিয়াম ও “ওয়ার্কিং গ্যালারি”: পুরোনো যন্ত্রাংশ/তাঁত প্রদর্শনী, গাইডেড ফ্যাক্টরি–ট্যুর (নিরাপত্তা–বাফারসহ), “মিলপাড়া হাট” (হ্যান্ডলুম–ক্র্যাফট), ওপেন–এয়ার থিয়েটার।
স্থানীয় রুট: লালন–আখড়া–কুঠিবাড়ি–গড়াই–মোহিনী মিল—একটি “কুষ্টিয়া হেরিটেজ সার্কিট”।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ: শিল্পস্থাপনা–ভিত্তিক কালচারাল–হাব/মিউজিয়াম মডেল—অনেক দেশে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণে কার্যকর (Bangladesh–কেন্দ্রিক একাধিক একাডেমিক প্রপোজালও তৈরি হয়েছে)।
১০) শাসন–ব্যবস্থাপনা (গভর্ন্যান্স) কাঠামো
স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (SPV): জেলা প্রশাসন/টেক্সটাইল ও জুট মন্ত্রণালয়, PPP Authority, বেসরকারি অপারেটর, স্থানীয় প্রতিনিধি—বোর্ডে। PPP Authority–এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো–গাইডলাইন নিলে প্রকল্প প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়।
স্টেকহোল্ডার কাউন্সিল: সাবেক শ্রমিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটন–উদ্যোক্তা।
কমিউনিটি–বেনিফিট শেয়ার: দোকান/কিয়স্কে স্থানীয় কোটা; প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগে “মিলপাড়া অগ্রাধিকার”।
১১) রিস্ক–মিটিগেশন
বাজার ঝুঁকি: গ্লোবাল অর্ডার ওঠানামা/ট্যারিফ–ঝুঁকি; পণ্যে বৈচিত্র্য (ইয়ার্ন+গ্রে ফেব্রিক+হোম–টেক্সটাইল), লোকাল–রিটেইল চ্যানেল, ট্যুরিজম–আয়—সব মিলিয়ে মাল্টিপল রেভিনিউ স্ট্রিম।
প্রশাসনিক ঝুঁকি: জমি–উচ্ছেদ–বেদখল রোধে সার্ভে–ডিমার্কেশন, সিকিউরিটি ও স্মার্ট–ফেন্সিং, ২৪/৭ মনিটরিং।
হেরিটেজ ঝুঁকি: রিস্টোরেশন–বাই–কনজারভেশন প্রিন্সিপল; কোনো “ফেক ফাসাদ” নয়—ডকুমেন্টেড রিপেয়ার।
সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা: কমিউনিটি কনসালটেশন, সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (SIA), অভিযোগ–নিবন্ধন ডেস্ক।
১২) কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (KPI)
১২–১৮ মাসে উৎপাদন সক্ষমতা: ≥৭০%
প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান: ১,৫০০+; ৩ বছরে ২,৫০০+
নারী–অংশগ্রহণ: ≥৩৫% (অপারেশন+সেবা মিলিয়ে)
SEIP/ট্রেনিং গ্র্যাজুয়েট: বছরে ≥১,২০০; ৬০%+ প্লেসমেন্ট
পর্যটক আগমন: বছরে ≥২ লাখ; স্থানীয় উদ্যোক্তা স্টল ≥১৫০
১৩) দ্রুত করণীয় (৯০–১৮০ দিন)
১.টাস্কফোর্স গঠন—জেলা প্রশাসন নেতৃত্বে: সম্পত্তি–অডিট, বেদখল তালিকা, নিরাপত্তা জোন।
২. প্রি–ফিজিবিলিটি—টেকনিক্যাল, ফিনান্সিয়াল, হেরিটেজ অডিট; জমি–ইউটিলিটি ম্যাপিং।
৩. সংরক্ষণ–ইমিডিয়েট অ্যাকশন: গেট–চিমনি–ভবন কাঠামোর জরুরি মেরামত; অনুপ্রবেশ–রোধ।
৪. PPP/লিজ RfQ খসড়া—দুটি ট্র্যাক: (i) টেক্সটাইল অপারেশন, (ii) হেরিটেজ–ট্যুরিজম অপারেশন।
৫. SEIP MoU—অন–সাইট ট্রেনিং সেন্টার, ৩ মাসের “ব্রিজ–স্কিলিং” ব্যাচ।
১৪) স্থানীয় মানুষের সরাসরি লাভ
চাকরি ও আয়: উৎপাদন–ট্যুরিজম–সার্ভিসে কয়েক হাজার কাজ; পার্শ্ব–ব্যবসা (খাবার, ট্রান্সপোর্ট, গাইড–সার্ভিস)।
নিরাপত্তা–শৃঙ্খলা: বেদখল–অবসান, আলোকায়ন, পাবলিক স্পেস—অপরাধ কমে।
গৌরব ও পরিচয়: ঐতিহ্য রক্ষা; কুষ্টিয়াকে “ইন্ডাস্ট্রিয়াল–হেরিটেজ সিটি” হিসেবে ব্র্যান্ডিং।
সরকারের নিকট প্রস্তাব–দাবি (সারসংক্ষেপ)
১. মোহিনী মিলকে “হেরিটেজ–ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিভাইভাল জোন” ঘোষণা—Antiquities Act–এর আলোকে সংরক্ষণ–বিল্ডিং কোড।
২. পিপিপি/দীর্ঘমেয়াদি লিজে দ্রুত দরপত্র—দুই অপারেটর ট্র্যাক; VGF/ট্যাক্স–ইনসেনটিভ।
৩. SEIP–সমর্থিত অন–সাইট স্কিলিং হাব—নারী–যুব–প্রাধান্য; প্লেসমেন্ট গ্যারান্টি।
৪  পরিবেশ–সেফটি–ETP বাধ্যতামূলক—ফায়ার/স্ট্রাকচারাল অডিটসহ।
৫. কুষ্টিয়া হেরিটেজ সার্কিট—বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড/জেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে।
টীকা ও সূত্র (নির্বাচিত)
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সরকারি পর্যটন পাতায় মোহিনী মিলে–এর ইতিহাস/তথ্য।
“কুষ্টিয়ার গৌরব মোহিনী মিল এখন পরিত্যক্ত”—ডেইলি অবজারভার।
রাষ্ট্রীয় জুটমিল পুনরুজ্জীবনে PPP/লিজ–বিষয়ক নীতি ও শিল্পমত।
SEIP প্রোগ্রাম (অফিসিয়াল সাইট) ও ADB প্রজেক্ট ফ্যাক্টশিট।
Antiquities Act, 1968 – বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের আইনগত ভিত্তি।
বাংলাদেশের আরএমজি/টেক্সটাইল সেক্টরের কর্মসংস্থান–পটভূমি।
মোহিনী মিলের পতনের ধাপ — সময়সাপেক্ষ বিশ্লেষণ
১. প্রতিষ্ঠা ও শীর্ষতা: ১৯০৮–১৯৬৫
১৯০৮ সালে মোহিনী মোহন চক্রবর্তী কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকায় প্রায় ৩৩ একর এলাকায় মিল স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে মোটামুটি ৯৯ বিঘা (প্রায় ১৬ একর) জমি জুড়ে বিস্তৃত হয়েছিল ।
১৯১২ সালে তাঁতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩, এবং দশ বছর পর তা দাঁড়ায় ৫২৯—এ সময় দৈনিক উৎপাদন ছিল ৫৫,০০০ গজ, বার্ষিক মুনাফা ছিল কোটি কোটি টাকা ।
২. সমস্যা ও প্রথম ধাক্কা: ১৯৬৫–১৯৭২
১৯৬৫–এর ভাৰত-পাক যুদ্ধের সময়, মোহিনী মিল ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (EPIDS) আওতায় চলে যায়; মালিক মোহিনী মোহন তখন দেশ ত্যাগ করেন ।
১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর মিল জাতীয়করণ করা হয় এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (BTMC) এর অধীনে পরিচালিত হতে থাকে ।
৩. জাতীয়ায়ন, অবক্ষয় এবং লোকসান: ১৯৭২–১৯৭৮
শুরুতে উৎপাদন চালু থাকলেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিক অশান্তির ফলে দ্রুত ক্ষতি শুরু। ১৯৭৮ সালে লোকসান দাঁড়ায় ১৮ কোটি টাকা — এটি ছিলেন তখনকার সময়ের বড় অঙ্ক ।
এই সংকটের মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য থেকে সহায়তায় BMR প্রকল্প চালু করা হয়, তবে তা খুব বেগবান হয় না ।
৪. প্রথম বন্ধ: ১৯৮২
অব্যাহত লোকসান ও অক্ষমতার কারণে, মন্ত্রণালয় ১৯৮২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মিলটি বন্ধ করে দেয় এবং “লিকুইডেশন সেল” গঠন করা হয় ।
মিলটির মূল্যায়ন করা হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা, কিন্তু তা বিক্রি হয় মাত্র প্রায় ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকায় — নজরুল ইসলামের কাছে ।
৫. নতুন নাম ও সংক্ষিপ্ত পুনরায় চেষ্টা: ১৯৮৪–১৯৯০
১৯৮৪ সালে নজরুল ইসলামের অধীনে “Shah Makhdoom Textile Mills” নামে মিল পুনরায় চালু হয়; তবে মাত্র ১০০ জন কর্মী নিয়ে শুরু হলেও, ১০ মাস মত বেতন বাকি থেকে যায় এবং ১৯৮৭ সালে বন্ধ হয়ে যায় ।
১৯৮৯ সালে আবার চালু করা হয়; কিন্তু পরের বছর ১৯৯০-এ পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ ছিল, যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হয়েছে এবং সরকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছিল ।
৬. দীর্ঘ বন্ধ বসবাস ও রেজাউভার চেষ্টা: ১৯৯০–২০০০ দশক
১৯৯১ সালে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও আগের মালিক ও ব্যাংকের মামলা চলায় কার্যক্রম স্থগিত থাকে ।
১৯৯২, ১৯৯৩ এবং ২০০২ সালে বিভিন্ন উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতারা—যেমন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা—মিল পুনরায় চালুর আশ্বাস দেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রয়ে যায় অমিটে ।
৭. ক্ষণস্থায়ী পুনরুজ্জীবন ও চূড়ান্ত পতন: ২০১০
অবশেষে, ২০১০ সালের ২১ মে PDSCL (People’s Development Services Corporation Ltd.) মিলে ইজারা নিয়ে “Shah Makhdum Textile Mill” নামে সংক্ষিপ্তভাবে চালু করে ।
তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—ততদিন মিলের অবস্থা ছিল পরিত্যক্ত, যন্ত্রপাতি নষ্ট ও জমির অবহেলা চোখে পড়ার মতো ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ।
৮. আজকের অবস্থা
প্রথম আলো অনুসারে, ৪২ বছরেও মিলটির সম্পূর্ণ বিক্রয় হয় নি; “লিকুইডেশন সেল”-এর অধীনে প্রায় অর্ধেক জমি বেদখল, ভবন-ইউটিলিটি দুরবস্থা, যন্ত্রাংশের অবক্ষয় দৃশ্যমান ।
বর্তমান দিনে মিলটি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত—দেয়াল–ছাদ ধ্বসে গেছে; চিমনি ভেঙে; বনায়নে ও ধুলোতে ঢেকে গেছে ।
সারসারাংশ: সময়সারিণীর চিত্র
সময়সীমা একশন/পরিস্থিতি
১৯০৮–~১৯৬৫ প্রতিষ্ঠা, শীর্ষ উৎপাদন, শেভেসি আন্দোলনের অঙ্গ।
১৯৬৫–১৯৭২ রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, EPIDS পর্যায়ে; মালিকের দেশত্যাগ।
১৯৭২–১৯৭৮ জাতীয়ায়ন, দুর্নীতি, বড়লোকসান (প্রায় ১৮ কোটি টাকা)।
১৯৮২ মিল বন্ধ এবং লিকুইডেশন সেল গঠন।
১৯৮৪–১৯৯০ শাহ মখদুম নামে পুনরুজ্জীবন, ব্যর্থতা ও পুনঃবন্ধ।
১৯৯০–২০০২ পুনরোরচনায় রাজনৈতিক আশ্বাস, বাস্তবায়নে ব্যর্থতা।
২০১০ সংক্ষিপ্ত PDSCL পরিচালনায় পুনরায় চালু; চূড়ান্ত সফল হলো না।
বর্তমান পরিত্যক্ত, জমির বেদখল, ভবন–যন্ত্রপাতির অবক্ষয়, স্মৃতিস্তূপে পরিণত।
মোহিনী মিল কেবল এক শিল্পকেন্দ্রই নয়—এটি ছিল এক সময়ের সামাজিক–অর্থনৈতিক প্রেরণা। তবে রাজনৈতিক ভুল, দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও দুঃসংযোগের সংগ্রাম এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে এক ভাঙা কালকক্ষে পরিনত করেছে। আজ স্থানীয় জনগণের, শিল্প–সংস্কৃতি দুনিয়ার এবং সরকারের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে নেওয়ার আকাংক্ষার এক নিয়তির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোহিনী মিলের জমির মালিকানা ও ইতিহাস: সাল অনুযায়ী বিশ্লেষণ
১. প্রাথমিক প্রতিষ্ঠা — ১৯০৮
মোহিনী মোহন চক্রবর্তী, কলকাতার সুতা ব্যবসায়ী, ১৯০৮ সালে প্রায় ৯৯ বিঘা জমির ওপর “মোহিনী মিলস অ্যান্ড কোম্পানি” প্রতিষ্ঠা করেন—কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকায়। প্রথমে মাত্র ৮টি তাঁত দিয়ে শুরু হলেও পরে এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন তিনজন শেয়ারহোল্ডার ছিলেন:
মোহিনী মোহন চক্রবর্তী,
জগৎকিশোর চৌধুরী,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—যিনি শেয়ারহোল্ডারের একজন ছিলেন
২. মোহিনী মোহনের উত্তরাধিকার ও কুশল বিষমতা
মোহিনী মোহনের মৃত্যুর পর (১৯২২), তার ইচ্ছানুযায়ী মিলের উত্তরাধিকার কস্টিয়া স্থানীয় “কানু বাবু” (নাতি) হেফাজতে চলে আসে। হিন্দু যুক্ত মালিকানার কারণে ১৯৬৫ সালের ভারত–পাক যুদ্ধের সময় মিলটিকে “শত্রু সম্পত্তি” ঘোষণা করা হয়, এবং খানিকটা বিশৃঙ্খলার মধ্যে কানু বাবুকে গৃহবন্দি করা হয়; তার মৃত্যুও হয় ১৯৬৭ সালে গৃহবন্দী অবস্থায় ।
৩. জাতীয়ায়ন ও লিকুইডেশন — ১৯৭২–১৯৮২
স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে মিলটি জাতীয়করণ করা হয় বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প করপোরেশনের (BTMC) অধীনে ।
অব্যবস্থাপনা ও লোকসানের কারণে ১৯৮২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে দায়-দেনা মেটানোর উদ্দেশ্যে একটি লিকুইডেশন সেল গঠন করা হয় ।
৪. বিক্রয় ও হাতবদল — ১৯৮৪–১৯৯১
১৯৮৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং নাম পরিবর্তন করে “Shah Makhdum Textile Mills Limited” নামকরণ করা হয় ।
পরবর্তী সময়ে ব্যাংক ঋণের বোঝা নিয়ে সম্পত্তির ওপর “দ্বিতীয় চার্জ” রাখা হয়; কিন্তু চুক্তি ভুল এবং উৎপাদন ব্যর্থ হলে ১৯৮৮ সালের ২৫ মে মিলটি পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় ।
১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি, লিকুইডেশন সেল আবার দরপত্র আহ্বান করে, কিন্তু মামলা এবং বিরোধিতার কারণে বিক্রয় স্থগিত থাকে ।
৫. পরবর্তীতে বিভিন্ন হস্তান্তর — ২০০৯–২০১২
২০০৯ সালে PDSCL নামে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র্য ট্রায়াল চালু হয়। ২০১১–২০১২ সালের মধ্যে মিলটির হস্তান্তর নিয়ে অনেক বার বিতর্ক ও চুক্তি—যেমন:
আব্দুল মতিন (২০১১),
এম আসলাম (দিনার এন্টারপ্রাইজ—২০১২),
InnergoTech Limited—তাদেরও পক্ষে সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় পুনরায় অবসায়ন শাখার তত্ত্বাবধানে আসে ।
৬. বর্তমান অবস্থা ও জমির পরিমাণ
বর্তমানে লিকুইডেশন সেলের অধীনে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ একর জমি (মোট ৩৬ একর থেকে প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে), বাকি জমি বেদখল বা অবহেলিত অবস্থায় ।
জমির ভিতরে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও ছিল, যেমন: ৪টি মসজিদ, ৪টি মন্দির, ১টি স্কুল, ১টি কলেজ, একটি হাসপাতাল, খেলার মাঠ—সবই ঐতিহাসিক অবস্থিতি ।
সারসংক্ষেপ (Timeline)
সাল ঘটনা
১৯০৮ মোহিনী মোহন চক্রবর্তী প্রায় ৯৯ বিঘা জমিতে মিল প্রতিষ্ঠা (শেয়ারহোল্ডার: মোহিনী মোহন, জগৎকিশোর চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
১৯২২ মোহিনী মোহনের মৃত্যু; কেয়ারটেকার হয় নাতি “কানু বাবু”
১৯৬৫ ভারত-পাক যুদ্ধের সময় “শত্রু সম্পত্তি” ঘোষণা, কানু বাবুকে গৃহবন্দী
১৯৭২ জাতীয়ায়ন; BTMC-র অধীনে চলে আসে
১৯৮২ উৎপাদন বন্ধ, লিকুইডেশন সেল গঠন
১৯৮৪ নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রয়; নাম পরিবর্তন: Shah Makhdum Textile Mills
১৯৮৮ পুনরায় বন্ধ
১৯৯১ দরপত্র আহ্বান; বিচার প্রক্রিয়ায় বিক্রয় স্থগিত
২০০৯–১২ পুনরায় বিভিন্ন হস্তান্তর (PDSCL, আব্দুল মতিন, এম আসলাম, InnergoTech)
বর্তমান প্রায় সাড়ে ১৬ একর জমি নিয়ন্ত্রণে; বিভিন্ন সামাজিক স্থাপনা; অব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও বেদখল
মোহিনী মিল ছিল এক সময়ের শিল্প–সামাজিক কেন্দ্র, যার জমি ও সম্পত্তির অধিকার অগ্রসর আদর্শ এবং সামাজিক ঐতিহ্যের নির্দেশক।
কিন্তু রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক অযোগ্যতার কারণে, এর জমি ও মালিকানার প্রতি যে হয়রানি, তা আজও অব্যাহত।
বর্তমান সময়ে জমির অংশ বেদখল, স্থানীয় স্থাপনার অবক্ষয়—সব মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে একটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক ট্র্যাজেডি এই সম্পত্তির পতনকে চিত্রায়িত করে।
সরকারী হস্তক্ষেপ, জমির সঠিক সনাক্তকরণ ও পুনর্বাসন ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা কঠিন।
কুষ্টিয়ার মহিনি মিল পুনরায় চালু হলে সরকারের কী কী লাভ হতে পারে
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মহিনি মিল এক সময় এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জুট মিল হিসেবে পরিচিত ছিল। আজ তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, যদি সরকার পুনরায় এটিকে চালু করে, তাহলে সরকারের জন্য বহুমুখী লাভ বয়ে আনতে পারে। নিচে সেগুলো এ টু জেড আকারে তুলে ধরা হলো—
🏭 অর্থনৈতিক সুবিধা
১. রপ্তানি আয়ের উৎস – বিশ্বে এখনো প্রাকৃতিক জুট পণ্যের বিশাল চাহিদা আছে। মহিনি মিল চালু হলে কোটি কোটি টাকার জুটপণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি – কমপক্ষে ৫–১০ হাজার শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজারসহ পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত থাকবে।
৩. স্থানীয় অর্থনীতির পুনর্জাগরণ – মিল এলাকার দোকান, ভাড়া বাড়ি, হোটেল, যানবাহনসহ আশেপাশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
৪  রাজস্ব বৃদ্ধি – সরকার কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ট্যাক্সের মাধ্যমে বছরে কয়েকশো কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে।
🌱 কৃষি ও পরিবেশগত সুবিধা
১. পাটচাষে উত্সাহ – বর্তমানে পাটচাষ কমে আসছে। মহিনি মিল চালু হলে কৃষকরা পাটচাষে উৎসাহিত হবে, ফলে কৃষিক্ষেত্রে ভারসাম্য ফিরবে।
২. পরিবেশবান্ধব শিল্প – জুট পণ্য প্লাস্টিকের বিকল্প, যা বৈশ্বিক জলবায়ু সুরক্ষায় বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
৩. গ্রামীণ উন্নয়ন – পাটের চাহিদা বাড়লে কৃষক থেকে শুরু করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।
🏢 সামাজিক ও ঐতিহাসিক সুবিধা
১. ঐতিহ্য সংরক্ষণ – মহিনি মিল শুধু একটি কারখানা নয়, এটি কুষ্টিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শ্রমিক আন্দোলনের প্রতীক। পুনরুজ্জীবিত হলে ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।
২. অপরাধ ও দখলদারিত্ব কমবে – মিলের জমি, আবাসিক এলাকা, মূল্যবান যন্ত্রপাতি বেদখল হয়ে আছে। চালু হলে এগুলো ফের সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
৩.সামাজিক স্থিতিশীলতা – কর্মসংস্থান তৈরি হলে স্থানীয় বেকারত্ব কমে সমাজে স্থিতি ও নিরাপত্তা বাড়বে।
 আন্তর্জাতিক সুবিধা
১. বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং – জুটকে বলা হয় “Golden Fiber of Bangladesh”। মহিনি মিল পুনরুজ্জীবিত হলে বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বাড়বে।
২. বাণিজ্য সম্প্রসারণ – মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকায় জুটপণ্যের বাজার আছে। সরকার নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
৩.আন্তর্জাতিক সহযোগিতা – টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জনে পরিবেশবান্ধব শিল্প চালুর কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব হবে।
📊 সরকারের সামগ্রিক লাভ
✅ বছরে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয়
✅ বেকারত্ব হ্রাস করে সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি
✅ কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের সমন্বিত উন্নয়ন
✅ পাটশিল্পের পুনর্জাগরণে জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি
✅ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী
সারসংক্ষেপে বলা যায়, মহিনি মিল পুনরায় চালু করা হলে শুধু কুষ্টিয়া নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, সমাজ ও পরিবেশে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি সরকারের জন্য একদিকে হবে অর্থনৈতিক সম্পদ, অন্যদিকে জাতীয় ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
কুষ্টিয়ার মহিনি মিল: গৌরব, পতন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
কুষ্টিয়ার মহিনি মিল ছিল শুধু একটি চিনিকল বা শিল্পকারখানা নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম প্রতীক। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান কাল অতিক্রম করে স্বাধীন বাংলাদেশেও এই মিল ছিল হাজারো শ্রমিকের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ এটি একটি অবহেলিত, বেদখল আর ভগ্নপ্রায় ঐতিহাসিক স্থাপনা মাত্র।
প্রতিষ্ঠা ও কানু বাবুর ভূমিকা
মহিনি মিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কানাই লাল বাবু (কানুবাবু)।
তিনি ছিলেন এক সময়কার ধনী ও প্রভাবশালী জমিদার শ্রেণির প্রতিনিধি, পাশাপাশি একজন উদার শিল্পপতি।
মিলটি নির্মাণের মূল লক্ষ্য ছিল চিনি উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান তৈরি করা।
১৯০০ সালের আশেপাশে মিলটির যাত্রা শুরু হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ আছে।
গৌরবময় দিন
সর্বোচ্চ সময়ে মহিনি মিলে প্রায় তিনশো থেকে পাঁচশো শ্রমিক সরাসরি কাজ করতেন।
পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কৃষক ও স্থানীয় মানুষ আখ চাষ এবং সরবরাহের মাধ্যমে এই মিলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এখানে উৎপাদিত চিনি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও খ্যাতি অর্জন করেছিল।
কুষ্টিয়ার অর্থনীতিতে মহিনি মিলের অবদান ছিল অনন্য
পতনের ধারা
পাকিস্তান আমলে দুর্নীতি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়।
স্বাধীনতার পর মিল জাতীয়করণ করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সরকারি উদ্যোগের অভাবে মিলটি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়।
১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে এটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
মিলপাড়া এলাকায় শত শত শ্রমিকের পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ে
জমি ও বেদখল ইস্যু
মিলের বিশাল জমি ও ভবন বর্তমানে বেদখল অবস্থায় পড়ে আছে।
অনেক জায়গা দখল হয়ে গেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে।
কোটি কোটি টাকার মূল্যবান মেশিনপত্র আজও মরিচা ধরে পড়ে আছে, অথচ তা সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেই।
কানু বাবুর মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
কানুবাবু মৃত্যুবরণ করেন স্বাধীনতার অনেক আগেই।
তার মৃত্যুর পর যথাযথ পরিচালনা বা উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া ঠিকভাবে না হওয়ায় মিলটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
ইতিহাস আজও কানুবাবুকে স্মরণ করে একজন শিল্পদ্রষ্টা হিসেবে, যিনি কুষ্টিয়ার অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
যদি পুনরায় চালু হয়…
1. কর্মসংস্থান: হাজার হাজার শ্রমিক ও কৃষকের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
2. অর্থনীতি: স্থানীয় আখচাষীরা পুনরায় লাভবান হবে, কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
3. রপ্তানি সম্ভাবনা: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিনি ও অন্যান্য উপজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
4. ইতিহাস রক্ষা: মহিনি মিলকে কেবল শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক হেরিটেজ সাইট হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
জনমত ও সরকারের প্রতি দাবি
এলাকাবাসীর দাবি— সরকারি হস্তক্ষেপে মিলটি সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হোক।
শুধু চিনি উৎপাদন নয়, মিলটিকে শিল্প-ঐতিহাসিক জাদুঘর ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা যেতে পারে।
এতে ইতিহাসও বাঁচবে, অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।
কুষ্টিয়ার মহিনি মিলের গল্প আসলে বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাসের একটি গৌরবময় অথচ করুণ অধ্যায়।
যদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল উদ্যোগ নেয়, তবে মিলটি আবার নতুন করে গড়ে উঠতে পারে। এটি কেবল একটি মিল নয়—এটি কুষ্টিয়ার মানুষের স্বপ্ন, ইতিহাস ও জীবিকার প্রতীক।
কবিতা
মহিনি মিলের স্বপ্ন ও স্মৃতি
কবি,কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন
গোধূলির আলো যখন ধীরে ধীরে ছুঁয়েছে কুষ্টিয়ার মাটি,
প্রতিটি পাথরের ফাটলে বাজে ইতিহাসের হাটিকাটি।
দূর অতীতের গন্ধ ভেসে আসে বাতাসে,
মহিনি মিলের প্রাচীর, কাদামাটির গায়ে লিখে রেখেছে চোখে।
কানু বাবুর স্বপ্ন, আখচাষীর চোখে ভরেছে আশা,
মিলের ধোঁয়া ও কোলাহলে ভেসে আসে জীবনের নানা বাঁশা।
শ্রমিকের হাতে ধরা আখ, ভাঙা মেশিনের ঝনঝনানি,
একটি শহরের বুকে গড়ে উঠেছিল অমলিন মানবিক গাথা।
প্রতিটি রঙিন সূর্যোদয়, প্রতিটি বিকেল,
মিলপাড়ার সরু রাস্তা যেন কাহিনীর খণ্ডচিত্র।
শিশুরা দৌড়ে যায় গেটের পেছনে,
হাতের ডানা মেলে স্বপ্নের আকাশে।
তখন শিল্পই ছিল প্রাণ, শ্রমিক ছিল হৃদয়,
মহিনি মিল যেন শহরের আত্মা, জীবনের জয়।
প্রজেক্টরের আলোতে হাসি আর কান্না মিলেমিশে,
সিনেমা হলে বসে স্বপ্নেরা বাঁধা দেয় মুক্তির নিশ্বাসে।
কিন্তু সময় আসে—ধুলো জমে প্রাচীরের কোণে,
মেশিনের শব্দ থেমে যায়, বন্ধ হয়ে যায় শ্রমিকের ডাকে।
দখল আর অবহেলার ছায়া ঢেকে দেয় গৌরবময় দিনগুলোকে,
বেদখল মহিনি মিল হয়ে পড়ে নিঃসঙ্গ ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী।
মালিক নেই, শ্রমিক নেই, শুধু স্মৃতি থাকল প্রাচীরের ভেতর,
মেশিনপত্র মরিচা ধরে শ্বাস নিতে চায় অনন্তের ভেতর।
কানুবাবুর হাসি, বোনদের দাবী,
সব মিলিয়ে ইতিহাসের পাতা হয়ে রয়ে গেল নিঃশব্দ বাঁধী।
শহরের বুকে গন্ধ আসে ভাঙা ইটের, কাদামাটির,
প্রতিটি কর্ণার যেন ফিসফিস করে পুরনো দিনের কথা।
হাজারো হাতের শ্রম, অগণিত স্বপ্ন,
সব মিলিয়ে এক সময়ের গৌরবের স্বপ্ন।
তবু আশা মরে না, যেমন আকাশে ভোরের রঙ,
মহিনি মিলের ধুলোয় লুকিয়ে আছে নতুন দিনের সঙ্গ।
যদি রাজনীতি শোনে, যদি সরকার চোখ খুলে,
মিল ফিরে পাবে প্রাণ, শ্রমিক হাসবে আবার সূর্যের আলোয়।
ধোঁয়া ভেসে আসে দূর আকাশের পথে,
শিশুরা আবার দৌড়ে যাবে গেটের পেছনে।
মেশিনপত্র ঝনঝন করবে, লোহার কোলাহল গুঞ্জরিত হবে,
আবার জীবনের গান বাজবে শ্রমিকের হৃদয় ও হাতে।
মহিনি মিল শুধু শিল্প নয়,
এটি মানুষের আশা, শ্রমের প্রতিফলন।
প্রাচীরের ফাটলে, কাদামাটির গন্ধে,
প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য গল্প।
চলুন, আমরা সবাই মিলটিকে ফিরিয়ে দিই,
কেবল চিনি নয়, স্বপ্নেরও রস উত্তোলন করি।
শ্রমিকের হাসি, শিশুর কণ্ঠ, শিল্পীর রঙিন কল্পনা,
সব মিলিয়ে হবে কুষ্টিয়ার গৌরব, ভবিষ্যতের শাপলা।
মহিনি মিল—তুমি শুধু ইট, লোহা আর কাদামাটির সংযোগ নয়,
তুমি মানুষের আশা, কানু বাবুর স্বপ্ন,
শহরের ইতিহাস, শ্রমিকের হৃদয়,
সব মিলিয়ে একটি সময়ের জীবন্ত চিত্র।
যদি ফের ফিরে আসে, যদি রাজনীতি শোনে,
সব শ্রমিক আবার ফিরে আসবে চাকা ঘুরাতে।
মেশিনপত্র ঝনঝন করবে, ইট-প্রাচীর বলবে নতুন কাহিনি,
শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে সোনালী কাপড়ের রঙ।
তবে মিল কেবল মহিনি কাপড় উৎপাদনের কেন্দ্র নয়,
এটি এক জীবন্ত ইতিহাস, এক সংস্কৃতির কেন্দ্র।
শহরের বুকে, মানুষের হৃদয়ে,
মহিনি মিল হয়ে উঠবে অনন্তকালীন স্মৃতি ও শিক্ষার প্রতীক।
আবেদনপত্র
প্রাপক:
মাননীয় শিল্পমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ঢাকা
বিষয়: কুষ্টিয়ার মহিনি মিল পুনরুদ্ধার ও পুনরায় চালু করার জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, কুষ্টিয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী মহিনি মিল একসময় বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই মিল থেকে অসংখ্য মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছিল, যা এলাকার অর্থনীতি ও জনগণের জীবনে নতুন আলো এনেছিল। কিন্তু বর্তমানে মিলটির আনাচে-কানাচে দখলদারদের আস্তানা গড়ে উঠেছে, আর এর ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে।
এলাকার সর্বস্তরের জনগণের আকাঙ্ক্ষা—যদি সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায়, তবে মহিনি মিল আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এই মিল পুনরায় চালু হলে কুষ্টিয়া জেলার মানুষ নতুনভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং বাংলাদেশ আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে গৌরব অর্জন করবে।
এছাড়া, জাতিসংঘ পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উন্নয়ন দর্শন ও অনুপ্রেরণার ছোঁয়ায় এই উদ্যোগ আরও টেকসই ও সফল হতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অতএব, মাননীয় মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক অনুরোধ, মহিনি মিলটি সরকারি উদ্যোগে পুনরুদ্ধার ও পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
বিনীত নিবেদক,
কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে
(নাম:) ____________________
(ঠিকানা:) __________________
(তারিখ:) __________________
আবেদনপত্র
প্রাপক:
জনাব ডেপুটি কমিশনার
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক
কুষ্টিয়া।
বিষয়: কুষ্টিয়ার মহিনি মিল পুনরুদ্ধার ও পুনরায় চালু করার জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, কুষ্টিয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী মহিনি মিল একসময় এ জেলার গর্ব ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ছিল। এ মিলের মাধ্যমে হাজারো শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবিকার পথ পেয়েছিল, যা কুষ্টিয়ার অর্থনীতিকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছিল।
দুঃখের বিষয়, বর্তমানে এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে পড়ে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় আছে। এর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও ধ্বংসের চিহ্ন। এই অবস্থা থেকে মিলটি পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি।
এলাকার সর্বস্তরের জনগণ বিশ্বাস করে—সরকারের সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান, ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মহিনি মিল আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। এর ফলে এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত খুলবে এবং কুষ্টিয়া বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।
অতএব, মাননীয় ডেপুটি কমিশনার মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক বিনীত অনুরোধ,
মহিনি মিল পুনরুদ্ধার ও পুনরায় চালু করার জন্য যথাযথ তদন্ত, তদারকি এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিনীত নিবেদক,
কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে
(নাম:) ____________________________
(ঠিকানা:) __________________________
(মোবাইল:) __________________________
(তারিখ:) ___________________________
কুষ্টিয়ার মহিনি মিলের রূপ ফিরিয়ে আনতে জনগণের দাবি
কুষ্টিয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী মহিনি মিল—যে মিল একসময় এলাকার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে দখলদারদের আস্তানায়। মিলের আনাচে-কানাচে পড়ে আছে অবহেলার ছাপ, ইতিহাসের নিদর্শন যেন হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
তবে এখনো এলাকার মানুষ আশাবাদী। তাদের দাবি—যদি সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায়, তাহলে আবারও জেগে উঠতে পারে এই মহিনি মিল। নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত হবে, এবং কুষ্টিয়া আবারও দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পনগরী হয়ে উঠতে পারে।
এলাকার সাধারণ জনগণ মনে করেন—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মত কোনো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া বা অনুপ্রেরণা পেলে এই মিল বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গৌরবের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।
সুতরাং, মহিনি মিল পুনরুদ্ধারে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের জনগণ।
তাদের প্রত্যাশা—অচিরেই এই মাটিতে আবারও জেগে উঠবে হাসি, ফিরে আসবে কাজের চাকা, এবং পুরনো মহিমা ফিরে পাবে মহিনি মিল।

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া :- মোহিনী মিলের প্রতিষ্ঠাতা মোহিনী মোহন চক্রবর্তী (জন্ম: ৬ জুলাই ১৮৩৮, মৃত্যু: ১৯২২) ছিলেন এক বিশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা, যিনি অবসর জীবনে কুষ্টিয়ায় মোহিনী মিলস লিমিটেড নামে একটি বস্ত্রকল প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর, মিলটির উত্তরাধিকার “কানু বাবু”, অর্থাৎ তার নাতি, হাতে যায়। স্থানীয় জনগণ তাঁকে কানু বাবু বলে সম্বোধন করত।
নির্মাণকাল ও শিল্প–সংস্কৃতিক অবদান
মিলটি ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রায় ১০০ একর জমিতে বিস্তৃত হয়, যা প্রায় ৯৯ বিঘা অঞ্চল জুড়ে फैला ছিল; একসময় এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল।
“কানু বাবু”-এর আমলে মিলপাড়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জায়গা—যেমন সন্ধ্যা সমিতি থিয়েটার, লাইব্রেরি, ও ফুটবল দল—যা শ্রমিকদের বিনোদন ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখেছিল।
কালের বিবর্তন ও মৃত্যুর পরে
যদিও সরাসরি “কানু বাবু” এর মৃত্যু তারিখ বা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, জানা যায় ১৯৬৫ সালের ভারত–পাক যুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকানার কারণে মিলে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে মোহিনী মিল ঘোষণা করা হয়, মানুষের এক সাময়িক ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে। আর সেই সময় কানু বাবুকে হয়তো বাড়িঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (গৃহবন্দী করা হয়েছিল), যা একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু তার মৃত্যু বা পরবর্তী জীবনের বিস্তারিত তথ্য এখনও অনুপলব্ধ।
মূল প্রতিষ্ঠাতা মোহিনী মোহন চক্রবর্তী (১৮৩৮–১৯২২)
মিল নির্মাণ ১৯০৮ সালে, প্রায় ৯৯ বিঘা (১০০ একর) জমিতে শুরু
উত্তরাধিকার “কানু বাবু” নামে পরিচিত নাতির দায়িত্ব গ্রহণ
সাংস্কৃতিক অবদান সন্ধ্যা সমিতি থিয়েটার, লাইব্রেরি, ফুটবল টিমিংসহ সমাজ+সংস্কৃতি স্থাপন
সাময়িক অসুবিধা ১৯৬৫ সালে মিল ‘শত্রু সম্পত্তি’ ঘোষিত, আটক ও দখলের ঘটনা ঘটেছিল
নির্দিষ্ট মৃত্যু নিরিখ “কানু বাবু” এর মৃত্যুর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি
কানু বাবু, অর্থাৎ মোহিনী মোহন চক্রবর্তীর নাতি, সাহিত্য–সংস্কৃতি আর শ্রম জীবনের ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সময়েই মোহিনী মিল শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, একটি সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছিল—যেখানে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বিনোদনের মেলবন্ধন ঘটেছিল। যদিও তাঁর শেষ জীবন ও মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তা সত্ত্বেও তিনি কুষ্টিয়ার শিল্প ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
কুষ্টিয়ার মহিনি মিল, কানুবাবু ও সিনেমা হল তৈরির ইতিহাস
কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে মহিনি মিলের নাম যেমন উজ্জ্বল, তেমনি এর উদ্যোক্তা কানাই লাল বাবু (কানুবাবু) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি শুধু একটি মিল স্থাপন করেননি, বরং স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চাহিদার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি কুষ্টিয়ায় প্রথম দিককার সিনেমা হল তৈরির উদ্যোগ নেন, যা কেবল একটি ব্যবসা নয়, বরং সমাজ ও সংস্কৃতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সিনেমা হল তৈরির প্রেক্ষাপট
১৯৩০–৪০-এর দশকে সিনেমা ছিল এক নতুন বিনোদন মাধ্যম।
তখন কুষ্টিয়া ছিল একটি ছোট শহর, যেখানে নাটক, যাত্রা ও পালাগান জনপ্রিয় হলেও আধুনিক সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল না।
কানুবাবু উপলব্ধি করেছিলেন—শুধু অর্থনীতি নয়, জনগণের সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্যও আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা দরকার।
সেই চিন্তা থেকেই তিনি কুষ্টিয়ায় একটি সিনেমা হল স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
সিনেমা হলের বিবরণ
সিনেমা হলটি মহিনি মিলে কাজ করা শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছিল প্রথম আধুনিক বিনোদনের স্থান।
কাঠ ও লোহার কাঠামোয় তৈরি হলেও হলে ছিল প্রজেক্টর, টিকিট ব্যবস্থা, আলাদা আসনবিন্যাস—তৎকালীন সময়ে যা ছিল একেবারেই অভিনব।
এখানে প্রদর্শিত হতো কলকাতা থেকে আনা হিন্দি ও বাংলা ছবি, এবং পরে পাকিস্তানি সিনেমাও।
বলা হয়ে থাকে, কুষ্টিয়ার প্রথম প্রজন্মের দর্শকরা এখানে বসেই প্রথম “আধুনিক সিনেমা”র স্বাদ পেয়েছিলেন।
বোনদের কারণে বিভক্তি ও প্রভাব
কানুবাবুর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
বিশেষ করে তার বোনদের অংশ দাবি ও উত্তরাধিকার বিরোধ সিনেমা হল ও মিলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এ বিরোধের ফলে সিনেমা হলের সঠিক পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
উত্তরাধিকার ও মালিকানা সমস্যার কারণে সিনেমা হলটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি; স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সফল হয়নি।
সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো সিনেমাকে কাছ থেকে দেখেছিল এই হলে।
এখানে সিনেমা প্রদর্শনের ফলে স্থানীয়ভাবে সাংস্কৃতিক চেতনা, শিল্প ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।
কুষ্টিয়ার শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে কানুবাবুর সিনেমা হল এক “পাইওনিয়ার” উদ্যোগ হিসেবে আজও স্মরণীয়।
পতন ও আজকের অবস্থা
মিলের মতো সিনেমা হলটিও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়।
বর্তমানে এর কোনো কার্যকর অস্তিত্ব নেই, কেবল ইতিহাসের পাতায় এবং প্রবীণদের স্মৃতিতে এটি বেঁচে আছে।
জমি-জায়গা ও সম্পত্তি দখল এবং ব্যবস্থাপনার অভাবে কুষ্টিয়ার এই ঐতিহাসিক সিনেমা হল বিলীন হয়ে যায়।
কানুবাবু শুধু একজন শিল্পোদ্যোগী নন, তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি কুষ্টিয়ায় প্রথমবারের মতো সিনেমার মতো আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
যদিও উত্তরাধিকার বিরোধ ও বোনদের দাবির কারণে এই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবু কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এটি অমূল্য অবদান হিসেবে রয়ে গেছে।
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মহিনি মিল আজ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবহেলা ও বেদখলের দুঃখগাথা নিয়ে। একসময় প্রায় তিনশো শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল এই মিল। শ্রমিকদের ঘর-বাড়ি থেকে শুরু করে মিলের অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছিল এক কর্মমুখর পরিবেশ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই সমস্ত শ্রমিকের ঘর আজ বেদখল অবস্থায় পড়ে আছে।
মিলের মালিক কানুবাবুর সখের তৈরি বিশাল মহলও আজ বেদখল হয়ে রয়েছে। মিলের অভ্যন্তরে একসময়কার কোটি কোটি টাকার দামী মেশিনপত্র এখনো পড়ে আছে, কিন্তু সেগুলোর দেখভাল করার মতো কেউ নেই। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে এগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব মেশিন যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা গেলে এখনও দেশের শিল্প খাত ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারতো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মিলপাড়া এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এবং কুষ্টিয়া শহরের সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, এই বেদখল হওয়া সম্পদ ও মেশিনপত্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা মনে করেন, সরকারের উদ্যোগে মহিনি মিলকে সংরক্ষণ করা গেলে এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা দেবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— “শত শত কোটি টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া কি রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি নয়?”
তাদের আহ্বান, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মিলটির সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনে সংস্কার, পুনর্গঠন বা অন্তত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।
 মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া — এক অভিজাত শিল্প-ঐতিহ্য ও বর্তমান কার্যহীনতার ট্র্যাজেডি
১. প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
প্রতিষ্ঠক: মোহিনী মোহন চক্রবর্তী — ব্রিটিশ আমলে অবসর নেওয়ার পর নিজের সঞ্চয় থেকে এই উদ্যোগ শুরু করেন ।
প্রতিষ্ঠা সাল: ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়ার নদীয়ার (নদিয়া) অংশে মিলটি স্থাপিত হয় ।
মাত্র ৮টি তাঁত দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, পরবর্তীতে এটি বাড়তে বাড়তে বিস্তৃত হয় ।
২. গুরুত্ব ও প্রভাব
সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ বস্ত্রকল হিসেবে সম্মান লাভ করে ।
সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও লজিস্টিক সুবিধার কারণে (রেল এবং নদীপথ সংযোগ) এটি খুলেছিল দেশের সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ ।
উৎপাদিত সামগ্রী যেমন: ধুতি, শাড়ি, গজ, তোয়ালে, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি দেশের ভেতর এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে রফতানি হতো ।
শ্রমিকসংখ্যা পৌঁছেছিল প্রায় ৩০০০ জন ।
৩. পরিবর্তন ও পতন
জাতীয়ায়ন হয় ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, দেশীয় অর্থনীতি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ।
১৯৮২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মিলটি বন্ধ হয়ে যায়; এর পিছনে প্রায়শই দুর্নীতি এবং ষড়যন্ত্র-এর কথা বলা হয়, যা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হারানোর কারণ ।
৪. বর্তমানের বেদুঃখ
বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে; প্রাচীন স্থাপনার বহু অংশ নষ্ট ও উচ্ছৃঙ্খল ।
সম্পত্তি পরিমাণ: প্রায় ৯৯ বিঘা জমি, যার মূল্য প্রায় ১,০০,০০০ হাজার  কোটি টাকা (বাজারমূল্য অনুযায়ী)
এই বিস্তীর্ণ জমির মধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, হাসপাতাল ও খেলার মাঠ—কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এগুলোর কোন ধারাবাহিকতা নেই ।
৫. পুনরুদ্ধার ও আধুনিকীকরণের প্রস্তাব
সাম্প্রতিক একটি আর্কিটেকচারাল থিসিস প্রকল্প-এ (‘Abandoned to Avant-Garde’) প্রস্তাবিত হয়েছে—মোহিনী মিলকে সংস্কৃতি, সংস্কার, অসংকৃত শিল্প, শিক্ষাবিদ, ও সামাজিক পুনরায় সংযোজন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা যেতে পারে ।
পরিকল্পনায় রয়েছে:
পুরানো ইট ও ট্রাস্ট কাঠামো সংরক্ষণ,
শিল্প প্রদর্শনী, পারফরমেন্স, মিউজিয়াম, কারুকার্য ও হস্তশিল্প প্রদর্শনের স্থান,
সমাজসেবা, পিডিএম ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সামাজিক স্থান—সব কিছু একত্রে সাজিয়ে একটি নবায়ন উপযোগী সাইট গড়ার চিত্র ।
সারসংক্ষেপ টেবিল
বিষয় তথ্য
প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি ১৯০৮, মোহিনী মোহন চক্রবর্তী; এশিয়ায় সর্ববৃহৎ বস্ত্রকল
উৎপাদন ও সম্প্রসারণ দামী কাপড়, রফতানি, ৩০০০ শ্রমিক
জাতীয়ায়ন ও বন্ধ জাতীয়ায়ন: ১৯৭২; বন্ধ: ১৯৮২
বর্তমান অবস্থা পরিত্যক্ত, ৯৯ বিঘা, অবমূল্যায়িত সম্পদ
পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব সংস্কৃতি কেন্দ্র, মিউজিয়াম, শিল্পকর্ম, পুনর্ব্যবহার
কার্যকরী সুপারিশ (সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য):
১. স্বীকৃতি ও মুল্যায়ন: জমি ও সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট বাজার মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ মালিকানার দিক বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ।
২.ঐতিহাসিক সুরক্ষা: স্থাপত্য ও শিল্প ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে সনদায়ন।
৩.ব্যবস্থাপনা কমিশন: সরকারের এবং স্থানীয় স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক ফোরাম গঠন।
৪.পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর: থিসিস-ভিত্তিক প্রস্তাব অনুসারে—মিলটিকে সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলা কেন্দ্র হিসাবে পুনরুজ্জীবিত করা।
৫.অর্থায়ন ও সহযোগিতা: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, শিল্পী ও সংস্কৃতি কার্যক্রম, অ্যাকাডেমিয়া–দের সংশ্লেষে একটি কার্যকরী অর্থায়ুক্ত রূপান্তর প্রকল্প চালু করা।
মোহিনী মিল কেবল একটি কারখানা নয়, এটি স্বদেশী আন্দোলনের প্রেরণা, পূর্ব বাংলার শিল্প ঐতিহ্য, এবং কুষ্টিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্মৃতিপথের অংশ। এটি পুনরুদ্ধারের সুযোগে একটি বহুমাত্রিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যা আজিও আমাদের কাছে গর্ব ও প্রত্যাশার উভয়ই প্রতীক। এই প্রতিবেদন সরকারের নজরে পৌঁছিয়ে, দ্রুত ও সৃজনশীল হস্তক্ষেপের পথে উদ্বুদ্ধ হোক—এটাই আমাদের কাম্য।
কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল পুনরুজ্জীবন: কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও নীতিগত রূপরেখা (এ-টু-জেড বিশদ প্রতিবেদন)
১) প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
কুষ্টিয়ার মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে “কুষ্টিয়া মোহিনী মিলস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড” নামে এ মিল প্রতিষ্ঠা করেন। চালু অবস্থায় এটি তৎকালীন ভারতবর্ষ–এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত ছিল; অল্প কয়েকটি তাঁত দিয়ে শুরু করে কর্মীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছায় এবং শাড়ি–ধুতি মানের জন্য খ্যাতি পায়।
পরবর্তীতে অব্যবস্থাপনা ও অবক্ষয়ের ধারায় মিলটি অচল হয়ে পড়ে; শতবর্ষী স্থাপনা আজ পরিত্যক্ত রূপে এলাকাবাসীর বেদনার কারণ। জাতীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যটন-তথ্যসূত্রগুলোও এটিকে “পরিত্যক্ত” ঐতিহাসিক শিল্পস্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২) কেন এখনই পুনরুজ্জীবন জরুরি
কর্মসংস্থানের চাহিদা: দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে; উৎপাদনশীল শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন।
টেক্সটাইল–আরএমজি ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ; সরবরাহ শৃঙ্খলে দক্ষ শ্রমশক্তির বিশাল ভাণ্ডার আছে—প্রায় ৪–৫ মিলিয়ন সরাসরি কর্মী। কুষ্টিয়ায় একটি আধুনিক টেক্সটাইল–হেরিটেজ কমপ্লেক্স এ দক্ষতাকে আঞ্চলিকভাবে টানতে পারবে।
হেরিটেজ ও পর্যটন: জেলা প্রশাসনের সরকারি সাইটে মোহিনী মিলকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তালিকাভুক্ত—অর্থাৎ সংস্কৃতি–ঐতিহ্যভিত্তিক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩) চালু হলে কত কাজ হবে: বাস্তবসম্মত চিত্র
নিচের হিসাবটি উদাহরণধর্মী রূপরেখা—স্থানভিত্তিক বিস্তারিত সমীক্ষার আগে এটি নীতিগত ধারণা দেবে।
ক) উৎপাদন ইউনিট (স্পিনিং–উইভিং–প্রসেসিং):
প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান: ~১,২০০–১,৮০০ (৩ শিফট, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিনারি ধরা হয়েছে)
পরোক্ষ: ১.৫×–২× বহুগুণ প্রভাব ⇒ অতিরিক্ত ~১,৮০০–৩,৬০০ (লজিস্টিকস, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, সেবা)
খ) হেরিটেজ–ট্যুরিজম ও কমিউনিটি স্পেস:
মিউজিয়াম, গাইড, ইভেন্ট, ক্র্যাফট মার্কেট, ফুড কোর্ট: ২৫০–৪০০
গ) ট্রেনিং–রিস্কিলিং সেন্টার (SEIP ইত্যাদি যুক্ত):
প্রশিক্ষক/স্টাফ/অ্যাডমিন: ৬০–১২০; বছরে ১,০০০–২,০০০ প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করে শিল্পে/উদ্যোগে যুক্ত করা সম্ভব—SEIP জাতীয় প্রোগ্রাম সরাসরি সমর্থন দিতে পারে।
সম্ভাব্য মোট: ৩,৩১০–৫,৯২০ জনের সরাসরি+পরোক্ষ কর্মসংস্থান। (এটি একটি রক্ষণশীল “ফেজ–১” চিত্র; পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল+হেরিটেজ পার্ক হলে সংখ্যা আরো বাড়বে।)
৪) কারা কাজ পাবেন—পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে
প্রবীণ/সাবেক শ্রমিকরা: যাদের কাছে লুম, কার্ডিং, ফিনিশিং–এর হাতে–কলমে অভিজ্ঞতা আছে—তাদের জন্য “রিটার্নশিপ” ট্র্যাকে দ্রুত নিয়োগ।
নতুন প্রজন্ম: টেক্সটাইল ডিপ্লোমা/বিএসসি, কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী; নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্কিল–ট্র্যাক।
পর্যটন–সংস্কৃতি খাত: ট্যুর গাইড, কিউরেটর, সংরক্ষণ কর্মী, ইভেন্ট–ম্যানেজমেন্ট।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা: হ্যান্ডলুম, ক্র্যাফট, সুভেনির, স্থানীয় ফুড–চেইন—লিজভিত্তিক শপ।
লজিস্টিকস ও সেবা: পরিবহন, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, আইটি–ডিজিটাল, ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট।
৫) নীতিগত ভিত্তি: কোন আইনে–কীভাবে
প্রটেকশন ও সংরক্ষণ: বাংলাদেশের Antiquities Act, ১৯৬৮ অনুযায়ী ঐতিহাসিক স্থাপনা/পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও ঘোষণার আইনি ভিত্তি আছে—মোহিনী মিলের প্রাচীন স্থাপত্যাংশকে “প্রটেক্টেড” নোটিফাইড জোন হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব।
পর্যটন/হেরিটেজ–গভর্ন্যান্স: গবেষণা–পলিসি নথিপত্রে টেকসই হেরিটেজ ট্যুরিজমের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার সুপারিশ রয়েছে—ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিওলজি, জেলা প্রশাসন, বিটিবি, স্থানীয় পৌরসভা–সবাইকে “ওয়ান–স্টপ” প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে।
পিপিপি বা লিজ–মডেল: রাষ্ট্রায়ত্ত/বন্ধ জুট–টেক্সটাইল মিলগুলোকে পিপিপি বা দীর্ঘমেয়াদি লিজে চালুর সরকারি উদ্যোগগুলোর নজির আছে; শিল্পমহলের কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি লিজকেই কার্যকর মনে করেন।
৬) অর্থায়ন–ব্যবসায়িক রূপরেখা (সংক্ষেপ)
ক্যাপেক্স (ফেজ–১, ৭৫–১০০ একর উন্নয়ন ধরা):
যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন, ইউটিলিটি, ETP, সোলার রুফটপ, ফায়ার–সেফটি: সম্ভাব্য ৬০–৯০ কোটি টাকা+ (ব্র্যান্ড–নতুন/রিফার্বিশড নির্ভর)।
সংরক্ষণ–পুনর্বাসন (চিমনি, শেড, গেট, ইটকাঠামো), মিউজিয়াম ও পাবলিক স্পেস: ২০–৩০ কোটি টাকা।
ওপেক্স: কাঁচামাল, এনার্জি, বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ—ক্যাশ–ফ্লো প্রোজেকশন ১২–১৮ মাসের “র‌্যাম্প–আপ” ধরে করতে হবে।
ফান্ডিং সোর্স: সরকারি অনুদান/Viability Gap Funding, পিপিপি ইকুইটি, ব্যাংক টার্ম–লোন, সবুজ অর্থায়ন (ETP/সোলার), দাতা–প্রকল্প (ADB–সমর্থিত SEIP–স্কিলিং কম্পোনেন্ট)।
৭) স্কিলস–পাইপলাইন: SEIP ও অংশীদারিত্ব
SEIP (Skills for Employment Investment Program) ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৮
Post Views: 546

Share this:

  • Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
  • Share on X (Opens in new window) X
  • Email a link to a friend (Opens in new window) Email
  • Print (Opens in new window) Print

Like this:

Like Loading…

Related

admin

admin

সম্পর্কিত পোস্ট

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : নুরুল আমিন এমপি

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : নুরুল আমিন এমপি

by admin
October 11, 2026
0
3

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি সময়ের চাহিদা আর চলমান অগ্রসর পৃথিবীর সাথে তালমিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সমৃদ্ধ তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা, জ্ঞানার্জন, চর্চা...

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে

by admin
October 11, 2026
0
6

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশি নিহতদের পাশাপাশি চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা সৌদি...

নড়াইল সদর থানা পুলিশের অভিযানে প্রাইভেটকার ও ৫০ বোতল এস্কাফসহ গ্রেপ্তার

নড়াইল সদর থানা পুলিশের অভিযানে প্রাইভেটকার ও ৫০ বোতল এস্কাফসহ গ্রেপ্তার

by admin
October 11, 2026
0
28

নড়াইল সদর থানা পুলিশের অভিযানে প্রাইভেটকার ও ৫০ বোতল এস্কাফসহ গ্রেপ্তার উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে: নড়াইল সদর থানা...

অর্ধ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, নিজ জেলায় কর্মরত ।১২ বছর চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিনের রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

অর্ধ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, নিজ জেলায় কর্মরত ।১২ বছর চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিনের রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

by admin
October 11, 2026
0
20

বিশেষ প্রতিনিধি চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিনের রমরমা ঘুষ বাণিজ্য চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মোঃ নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে রমরমা...

বুড়িচংয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ

বুড়িচংয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ

by admin
October 9, 2026
0
3

বুড়িচংয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং (কুমিল্লা) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ফলাফল বিশ্লেষণ ও শিক্ষার...

জাতীয় পর্যায়ে “”শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ

জাতীয় পর্যায়ে “”শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ

by admin
October 9, 2026
0
17

জাতীয় পর্যায়ে ""শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক" সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিজস্ব প্রতিনিধি কক্সবাজার থেকে (কামরুন তানিয়া)...

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের বিভাগ সমূহ

সাম্প্রতিক পোস্ট

  • তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : নুরুল আমিন এমপি October 11, 2026
  • রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে October 11, 2026
  • বীরগঞ্জে উত্তরবঙ্গের পরিচিত কবিয়াল ক্ষিতীশ সরকারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, মোটরসাইকেল-স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট October 11, 2026
  • নড়াইল সদর থানা পুলিশের অভিযানে প্রাইভেটকার ও ৫০ বোতল এস্কাফসহ গ্রেপ্তার October 11, 2026
  • অর্ধ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, নিজ জেলায় কর্মরত ।১২ বছর চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিনের রমরমা ঘুষ বাণিজ্য October 9, 2026
  • বুড়িচংয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ October 9, 2026
  • জাতীয় পর্যায়ে “”শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ October 9, 2026
  • ধর্মপাশা থেকে নিখোঁজ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের মরদেহ মিলল মোহনগঞ্জে October 9, 2026
  • নরসিংদী জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান: সদর থানা এলাকায় ২২ জন গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার October 9, 2026
  • রাজশাহীতে সাংবাদিকদের উপর হামলা-মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন October 9, 2026
  • গাজীপুরে পুলিশের সাফল্যের চতুর্থবার শ্রেষ্ঠ ওসি শাহীনুর, শ্রেষ্ঠ সার্কেল October 9, 2026
  • গোপালগঞ্জে ৩০ বোতল মাদকসহ একজন আটক। October 9, 2026
  • সিরাজগঞ্জে ১৫৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৫২ শিক্ষার্থী পেল বৃত্তি ও সম্মাননা October 9, 2026
  • আইএমএফের নিউজ কাভারেজ করতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন সাংবাদিক সায়ীদ আবদুল মালিক October 9, 2026
  • চৌদ্দগ্রামে ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা October 9, 2026
  • মধুপুরে ঝড়ের তাণ্ডব: ৫৩ হেক্টরে কলা-পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি October 9, 2026
  • সাভারে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জামিল গ্রেপ্তার, আগের পাঁচ মামলাও বিচারাধীন October 9, 2026
  • বুড়িচং সরকারি হাসপাতালে সেপ্টেম্বরে ৪২ টি নরমাল ডেলিভারি October 8, 2026
  • বাদাম বিক্রি করে উদ্যোক্তা হয়েছে সাকিব October 8, 2026
  • নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুলের উদ্যোগে মহাদেবপুর জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে ৯ বিষয়ে অনার্স চালুর অনুমতি। October 8, 2026
  • বাসকের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের আবদুল মন্নান জানু October 8, 2026
  • বুড়িচংযে মোবাইল কোর্টে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা October 8, 2026
  • বুড়িচং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির নেতা আবু নাছের মুন্সী October 7, 2026
  • সিলেট নগরীতে ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’র বিরুদ্ধে ইউকে ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ October 7, 2026
  • মদনে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে গোবিন্দশ্রী শাখা বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী October 7, 2026
  • কালীগঞ্জে আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারের অনুদানের চেক বিতরণ October 7, 2026
  • রামগড় বিজিবির ব্যবস্থাপনায় জব্দকৃত তিন কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস October 7, 2026
  • বিরামপুরে স্কুলের রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ October 7, 2026
  • লালপুরে মেয়ে সেজে প্রতারণা, বাপ-বেটা আটক October 7, 2026
  • কচুয়ায় গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির যৌথ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত October 7, 2026

Recent Comments

    দৈনিক দেশের সংবাদ

    02 ফেব্রুয়ারি 2012, আমি নির্ভীক, আমি ভয় পাই না, আমি দেশের কথা বলব, স্বাধীনতার কথা বলব, জনগণের কথা বলব। এর সাহসী সাংবাদিকতা, সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু এবং অনন্য বিন্যাস এবং নকশা সহ উপস্থাপনার কারণে, দেশের সংবাদ দ্রুত মানুষের হৃদয় জয় করে, এমনকি সবচেয়ে পরিশীলিত এবং দূরদর্শী পাঠকদের আনুগত্য বাড়িয়ে তোলে।

    আমাদের অনুসরণ করো

    প্রশাসক

      [wps_visitor_counter]

      [wps_visitor_counter]

      বিষয়শ্রেণী দ্বারা ব্রাউজ করুন

      • /প্রবাসী খবর
      • অপরাধ
      • আইন/আদালত
      • আলোচিত নিউজ/ছবি
      • ইতিহাসের পাতায়
      • ইসলাম ধর্ম
      • কবিতা/ছড়া/সাহিত্য
      • করোনাভাইরাস
      • খুলনা বিভাগ
      • খেলা ধুলা
      • চট্টগ্রাম বিভাগ
      • চাকরি
      • জাতীয়
      • জেনেনিন আপনার রাশিফল
      • ঢাকা বিভাগ
      • তথ্যপ্রযুএি
      • নামাজের সূচি
      • নারী কর্মীরা প্রযুক্তিতে ন্যায্যতা
      • ন্তর্জাতিক
      • প্রশাসন
      • বরিশাল বিভাগ
      • বাণিজ্য
      • বাংলাদেশ
      • বাংলাদেশের সকল ক্যাম্পাস
      • বিনোদন
      • বিভাগ সমূহ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বিশ্ব
      • ভারত/কলিকাতা
      • মতামত
      • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • রংপুর বিভাগ
      • রাজধানী ঢাকা
      • রাজনীতি
      • রাজশাহী বিভাগ
      • রুপচচাৃ/বিউটি পার্লার
      • লাইফস্টাইল
      • শিক্ষা
      • স।রাদেশ
      • সর্বশেষ
      • সাংবাদিক/মিডিয়া
      • সিলেট বিভাগ
      • স্বাস্থ্য
      • হিন্দু সহ অন্যান্য
      • হোম
      তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : নুরুল আমিন এমপি

      তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : নুরুল আমিন এমপি

      October 11, 2026
      রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে

      রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে

      October 11, 2026
      বীরগঞ্জে উত্তরবঙ্গের পরিচিত কবিয়াল ক্ষিতীশ সরকারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, মোটরসাইকেল-স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট

      বীরগঞ্জে উত্তরবঙ্গের পরিচিত কবিয়াল ক্ষিতীশ সরকারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, মোটরসাইকেল-স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট

      October 11, 2026
      • সম্পর্কিত
      • যোগাযোগ
      • শর্তাবলী
      • গোপনীয়তা নীতি
      • বিজ্ঞাপন দিন

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      Welcome Back!

      Login to your account below

      Forgotten Password?

      Retrieve your password

      Please enter your username or email address to reset your password.

      Log In
      No Result
      View All Result
      • হোম
      • সর্বশেষ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বাংলাদেশ
      • করোনাভাইরাস
      • রাজনীতি
      • বিশ্ব
      • বাণিজ্য
      • বিভাগ সমূহ
        • ঢাকা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
        • খুলনা বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • চাকরি
      • খেলা ধুলা
      • বিনোদন
      • মতামত
      • লাইফস্টাইল

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      %d