যুদ্ধের ২৪তম দিনে এসে আমেরিকা কোনও ভাবেই ইরানের কৌশল ও পাল্টা আঘাতের সাথে পেরে উঠছে না। ইসরাইলের আকাশ এখন ইরানি ড্রোন, মিসাইলের জন্য উন্মুক্ত বলা যায়। তাই এটা এখন পরিস্কার যে, আমেরিকা ও ইসরাইল এখন মরিয়া হয়ে যুদ্ধবিরতি চাইছে এবং যুদ্ধবিরতি আদায় করতে ব্যার্থ হলে তাদের নিজেদের দেশেই জনগনের মারাত্মক চাপে পড়বে তারা। প্রয়োজনে নাকে খত দিয়ে হলেও যুদ্ধবিরতি তাদের চাইই চাই।
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মোড়ল- ইরান!
বন্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও মন গলাতে ব্যার্থ। ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের সর্বময় কর্তৃত্ব এখন দিব্যমান। তাই মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর বাইডেন বা ট্রাম্পের হুকুম চলে না? যে আমেরিকা নিজেকে বিশ্বের ‘মোড়ল’ দাবি করত, তাদের সেই দম্ভ এখন দর্পচূর্ণ! ইসরাইলি আস্ফালন ও মার্কিন রণতরীর গর্জন, সবকিছুই এখন তেহরানের ইশারার সামনে ফিকে। তেলের বাজারেও এখন আর ওয়াশিংটনের খবরদারি চলে না, বরং নতুন বাস্তবতা হলো- জ্বালানি তেল বাজারের চাবিকাঠি এখন ইরানের হাতে!
এদিকে সৌদি আরব এখন দিকভ্রান্ত! সৌদি আরামকো বিশ্ব বাজারকে জানিয়ে দিয়েছে তারা এপ্রিল মাসে বিশ্ব বাজারে তেল পাঠাবে না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় বড় তেল ক্রেতারা বলছে- আমেরিকার উপর ভরসা করে কোনও লাভ নেই, বরং ইরানের উপর আস্থা রাখা যায়। কেননা এই যুদ্ধ থামার যেমন কোনও লক্ষন নাই, তেমনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ারও কোনও নিশ্চয়তা নাই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ইরানের শর্ত মেনেই আমেরিকাকে যুদ্ধবিরতিতে যেতে হবে।
বিশ্ব তেল ব্যবসায়ীদের ভয়!
ইসরাইলের ফাদে পা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক এই যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রথম সপ্তাহেই মার্কিনীরা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে যা ২৪তম দিনে এসে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ! বিশ্ব বাজারে পেট্রোলের দাম এখন আকাশচুম্বী, শেয়ার বাজারে ধস, সাধারণ মধ্যবিত্ত মার্কিনিদের দিশেহারা অবস্থা। ডোনাল্ড ট্রাম্প যত বড় হুঙ্কারই দিক না কেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন- ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্ভিগ্নে এবং নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা না দিলে, তারা তেলের ট্যাংকার চালাতে রাজি নন। এককথায়- মার্কিন বা বহুজাতিক নৌ প্রহরা দিয়েও তেলবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালী পার করা সম্ভব নয়।
ইরানের আগুন ঝরা হুশিয়ারি!
ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার হুশিয়ারি দিয়েছেন- যদি ইসরাইল বা আমেরিকা ইরানি তেল স্থাপনায় আবার আঘাত করে, তবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কোনও তেলক্ষেত্রই নিরাপদ রাখবে না। ইরানের চ্যালেঞ্জ, “যদি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার দিয়ে কেনার ক্ষমতা থাকে, তবেই যুদ্ধ চালিয়ে যাও!”
এদিকে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান এবং ইসরাইলের বড় বড় তেল শোধনাগারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে এলএনজি এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। আর মধ্যপ্রাচ্যের এসব আরব মুসলিম দেশের মানুষের মাঝে চরম অস্থিরতা ও ভয় কাজ করছে। যুদ্ধ যতই লম্বা হচ্ছে তাদের মনে ভয় ততই বাড়ছে।
পশ্চিমাদের উপলব্ধি!
আমেরিকা ও পশ্চিমা-বিশ্বের সামরিক বিশেষজ্ঞদের উপলব্ধি হচ্ছে- ইরান ২০ বছর আগে থেকেই এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। গড়ে তুলেছে বিশ্বসেরা ড্রোন ও মিসাইলের ভান্ডার। তাছাড়া পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার জন্য শুধুই একটা ঘোষণা দেয়া বাকি। সংগত কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আমেরিকা ও ইসরাইলের জন্য আত্মঘাতী হয়েছে?
পশ্চিমা রাষ্ট্রনেতারা ইরানের এই উত্থানকে এক ঢোকে গিলতেও পারছে না, আবার ফেলতেও পারছে না। মারাত্মক উভয় সংকটে রয়েছে পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতারা। পশ্চিমাদের ভয়- ইরানের এই উত্থান শুধু ইসরাইল নয়, বরং পুরোবিশ্বের জন্যই অসনি সংকেত। পশ্চিমারা এটাও বুঝতে পারছে যে-ইরানের সাথে যদি মুসলিম উম্মাহ’ও জেগে উঠে, তবে পশ্চিমাদের শক্তিদম্ভ অচিরেই মাটিতে মিশে যাবে।
আমরা সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম।
Views: 230
Related