সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশের দলিত নারীর বিপন্নতা ও অগ্রযাত্রায় করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করে ‘বার্ষিক দলিত নারী সম্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০ টায় ঢাকার সোবহানবাগস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মিলনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি জনাব মাহমুদা হাবিবা, এমপি। সভাপতিত্ব করেন নাগরিক উদ্যোগ এর চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা। বাংলাদেশের দলিত আন্দোলনের প্রেক্ষিত ও অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলিত নারী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনি রানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) এম এম মাহমুদুল্লাহ, ডাব্লিউডিডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি, সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিস (ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়) এর নির্বাহী পরিচালক শাহরিয়ার সাদাত, ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিস এর হেড অব প্রোগ্রাম ফরিদা বেগম, কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর ম্যানেজার অব প্রোগ্রাম সাপোর্ট ড. এ্যালেন স্বাগত বাড়ই।
নাগরিক উদ্যোগ এর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলিত নারী ফোরামের সভাপতি দীপ্তি রাজবংশী, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)-কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, এএসডিডিডাব্লিউ-খুলনা এর নির্বাহী পরিচালক লিপিকা বৈরাগী, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ-ঢাকা মহানগর শাখার নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক মালা রানী শর্মা, আচিক মিচিক সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সম্মিলনীর সূচনা ঘটে। প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি সম্মিলনীর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন দলিত নারী ফোরামের প্রকল্প কর্মকর্তা তামান্না সিং বাড়াইক। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় মিরনজিল্লা সিটি কলোনীর সুপর্না দাস, নাগরিক উদ্যোগের স্বান্তনা আইয়ুব, ফাহমিদা সুলতানা ইভা, মোহন রবিদাস, মৌসুমী রায়, মিতা হাজং, দলিত নারী ফোরামের পূজা রানী, মিনা রানী, মালা রানী, মনিকা রানী, জোনাকী ও জয়শিখা।
সম্মিলনীতে বক্তাগণ, দলিতদের নিজস্ব শক্তি তৈরী করতে হবে। যাতে করে কারো মুখাপেক্ষি হতে না হয়। উচ্চশিক্ষায় দলিতদের এগিয়ে নিতে পারলেই সেটি সম্ভব। আমাদের বাধাগুলোতে ধাক্কা খেয়ে জ্বলে উঠতে হবে, ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আইন ও নীতিমালার যে যে অংশে বৈষম্য রয়ে গেছে, সেখানে আশু সংশোধনী জরুরী।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) এম এম মাহমুদুল্লাহ বলেন, অনেক বছর যাবৎ সমাজের পিছিয়েপড়া মানুষদের সাথে কাজ করছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। চা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট প্রদান ছাড়াও সমাজসেবা অধিদপ্তর সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা সমন্বিতভাবে ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’ নামে আখ্যায়িত করলেও এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে গ্রহনযোগ্য ও মর্যাদাকর নাম প্রত্যাশা করছি। সরকার এটি নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকার ১ লক্ষ চা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দিতে প্রস্তুত কিন্তু সে পরিমাণ শিক্ষার্থী আমরা পাচ্ছি না। ফলে, শিক্ষা ক্ষেত্রে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে অগ্রসর করানো সময়ের দাবী।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি জনাব মাহমুদা হাবিবা, এমপি বলেন, রাজশাহীর জনপ্রতিনিধি হিসেবে বরেন্দ্রসহ তৃণমূলের নৃগোষ্ঠী, প্রান্তিক মানুষের সাথে মেশা ও আন্তরিকভাবে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। বৈষম্যের অবসানে সরকার একা নয় সবাইকে কাজ করতে হবে। নারীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে সব সম্ভব হবে। সংরক্ষণ এবং বিভাজনে গেলে মূলস্রোতধারায় আসা কঠিন হবে। ঘর থেকেই মানসিকতার জায়গায় ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। আবাসন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশনসহ নানা সংকটে কমবেশি সবাই আছে। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যৌথতার ভিত্তিতে এগুতে হবে। পুরুষদের বাদ দিলে হবে না, কেননা তাদের সাথে না রাখলে তারাই ঘরের নারীদের বাইরে আসতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। নারীদের নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট আন্তরিক, কেননা তিনি তাঁর পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য। আপনারা মাঠ ছাড়বেন না। আমার দিক থেকে আমি সংসদের ভেতরে-বাইরে আপনাদের কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার তৃণমূলের বিশেষ পণ্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চায়, আমরা আপনাদের যুক্ত হতে আহবান জানাবো।
নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, দলিত নারীদের প্রতি চলমান অবিচার ও বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে এবং নারীদেরকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নাগরিক উদ্যোগ-এর সহায়তায় দলিত নারী ফোরাম ২০১১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। শুরু থেকেই দলিত নারী ফোরাম সবচেয়ে বঞ্চিত ও সবচেয়ে দরিদ্র নারীদের নিয়ে লক্ষ্য ভিত্তিক, এলাকা ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে ‘দলিত নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন’ তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি আগামীতে ফোরামের কাজ কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে এবং দলিত নারীদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।







