দেশের বড় বড় করপোরেট জায়ান্ট, যাদের একেকটা প্রজেক্টের বাজেট শত কোটি টাকা,যাদের মুনাফার হিসাব সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে;এই দুর্যোগে তাদের বড় কোনো ত্রাণ বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ আপনি কখনও দেখবেন না।
বসুন্ধরা গ্রুপ বা এই লেভেলের বড় বড় কোম্পানিগুলো চাইলে একাই পুরো একটা অঞ্চলের গৃহহীন মানুষকে আবার নতুন করে ঘর তৈরি করে দিতে পারে।
এই নিষ্ঠুর উদাসীনতার রহস্যটা কি জানেন?
এর রহস্য লুকিয়ে আছে খাঁটি পুঁজিবাদের দর্শনে, -“বিনিয়োগ সেখানেই হবে,যেখান থেকে দ্রুত এবং সবচেয়ে বেশি মুনাফা উঠে আসবে।”
দেশের এই বড় বড় কোম্পানিগুলো মূলত পশ্চিমা ধাঁচের চরম আত্মকেন্দ্রিক পুঁজিবাদকে এমনভাবে গিলেছে,যেখানে মানুষের দুর্ভোগের চেয়ে তাদের লাভের অঙ্কটাই একমাত্র ধ্রুব সত্য।
এই কোম্পানিগুলো কিন্তু টাকা খরচ করে না,তা নয়।তারা দেদারসে কোটি কোটি টাকা ঢালে। কিন্তু কোথায় ঢালে?
তারা টাকা ঢালবে কোটি টাকার রিয়েলিটি শো-তে, বড় কোনো জমকালো কনসার্টে,কিংবা ঝকঝকে কোনো সেলিব্রিটিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বানিয়ে মিডিয়া কাভারেজ পাওয়ার পেছনে।
কারণ,সেখানে টাকা ঢাললে রাতারাতি ব্র্যান্ডের ভ্যালু বাড়ে, পরদিনই তাদের প্রোডাক্টের বিক্রি ডাবল হওয়ার রাস্তা তৈরি হয়।সহজ কথায় -সেখানে মুনাফার নিশ্চয়তা আছে।
কিন্তু চট্টগ্রামের একটা প্রত্যন্ত বানভাসি গ্রামে গিয়ে দুই ট্রাক শুকনো খাবার দেওয়া,কিংবা ঘরহারা একটা পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার পেছনে করপোরেটদের ভাষায় কোনো “রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট” নেই।বন্যার্ত মফিজ বা রহিমাকে ঘর বানিয়ে দিলে তাদের শেয়ারের দাম বাড়ে না,
বা পরদিন তাদের কোনো সিমেন্ট বা স্টিলের ফ্যাক্টরির বিক্রি হু হু করে বাড়ে না।পুঁজিবাদী চশমায় এই জনকল্যাণ হলো চরম অদক্ষতা এবং স্রেফ টাকার অপচয়!
এই কোম্পানিগুলো বড়জোর কী করে জানেন?
নামকাওয়াস্তে কিছু কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা সিএসআর-এর নাটক সাজায়।
কয়েকজন আমলার হাতে বা কোনো তহবিলে একটা চেক তুলে দিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেয়,যা তাদের বিশাল মুনাফার তুলনায় সমুদ্রের এক ফোঁটা পানির সমানও নয়।
ওটা দিয়ে তারা মূলত কর ফাঁকি দেওয়ার আইনি সুবিধা নেয় আর কাগজে-কলমে নিজেদের ‘মানবিক’ প্রমাণ করার একটা সস্তা পিআর স্ট্যান্টবাজি করে।
কিন্তু মাঠপর্যায়ে গিয়ে জনমানুষের জীবন বাঁচানোর মতো টেকসই কোনো কাজ তারা করে না।করতে দেখবেন না।
অথচ এই কোম্পানিগুলো গড়ে উঠেছে এই দেশেরই একদম তৃণমূলের আমজনতার টাকায়।সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের সুবিধা নিয়ে,দেশের সম্পদ ব্যবহার করে,এ দেশের শ্রমিকের সস্তা শ্রমকে শোষণ করেই আজ তারা এই সাম্রাজ্য বানিয়েছে।
কিন্তু সমাজ যখন বিপদে পড়ে,দেশ যখন ক্রাইসিসে থাকে,তখন এই পুঁজিপতিদের কোথাও খুঁজে পাবেন না।
এটাই পুঁজিবাদী দর্শন
কম দেখুন
Views: 94
Related