তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরে বিএনপি মতাদর্শী এক কীটনাশক ব্যবসায়ী রাশেদ খাঁন মিলনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে (ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী) ভুমিহীন সাঁওতাল পরিবার নিঃস্ব হয়ে আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে। কীটনাশক দোকান থেকে ৯২ হাজার টাকার মালামাল বাঁকি নিয়ে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের পরেও ৬ লাখ ৯২ হাজার টাকার মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তানোরের তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) মোহরগ্রামের বাসিন্দা সুশীল হেমরমের পুত্র রতন হেমরমের সঙ্গে পরিচয় হয় চাঁন্দুড়িয়া বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী রাশেদ খাঁন মিলনের। বিগত ২০১৮ সালের দিকে মিলনের পরামর্শে রতন আলুচাষ করেন। এসময় তিনি মিলনের দোকান থেকে বাঁকিতে প্রায় ৯২ হাজার টাকার সার-কীটনাশক কিনেন। পরে ৪০ হাজার টাকা জমা দেন এবং ৫২ হাজার টাকা বাঁকি থাকে। কিন্ত্ত সেই বছর আলুতে লোকসান হয় এতে পুঁজি হারিয়ে বিপাকে পড়েন রতন। ফলে তিনি যথা সময়ে বাঁকি টাকা দিতে পারেননি।এদিকে কীটনাশক ব্যবসায়ী মিলন তার বাঁকি টাকা আদায়ের জন্য অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি রতনকে আবারো আলু চাষে সহযোগীতার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে রুপালী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার পরামর্শ দিয়ে তার নামে একাউন্ট খোলায়। এবং একাউন্ট খোলার পর কৌশলে তার কাছে ব্যাংক চেকের ফাকা দুটি পাতা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে মিলন তাকে সহযোগীতা তো করেইনি উল্টো রতনের কাছে ৬ লাখ ৯০ হাজার পাওয়া দাবি করে আদালতে মামলা করেন। অন্যদিকে মামলার পর রতন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কীটনাশক ব্যবসায়ী মিলনের এমন প্রতারণার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মিলনের শাস্তির দাবিতে আদিবাসী সংগঠনগুলো বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রতন হেমরম বলেন, কীটনাশক ব্যবসায়ী মিলন প্রতারণা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। তিনি বলেন, এখন মামলার হাজিরা দেওয়ার কারনে সংসার চালাতে পারছি না, তার ছেলে মেয়ে রয়েছে চারজন। বড় ছেলে ও মেয়ে কলেজে লেখা পড়া করছে। এক ছেলে আগামিতে এসএসসি পরীক্ষা দেবে ও ছোট মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখা পড়া করছে। মামলার কারণে তাদের লেখা পড়া করানো কঠিন হয়ে পড়েছে, এমনকি তারা স্বামী-স্ত্রী মামলার দুঃচিন্তায় দুবার অসুস্থ হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রতন হেমরম বলেন, মাত্র ৫২ হাজার টাকা বাঁকির জন্য ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে চলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দিনমজুর মানুষ তিন বেলা খেতেই পাচ্ছি না, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া অনিশ্চিত, সরকারি খাস জায়গায় ভাঙা ঘরে বসবাস করছি। তার পক্ষে এতো টাকা পরিশোধ করার মতো কোনো সম্বল নাই। তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে কীটনাশক ব্যবসায়ী রাশেদ খাঁন মিলন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রতন হেমরম তার কাছ থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন। কয়েকবার টাকা চাওয়ার পরও টাকা না দেওয়ায় মামলা করেছি। তিনি কি বিবেচনায় ভিন্ন গ্রামের একজন দিন মজুরকে এতোটকা কর্জ দিলেন এবং টাকার অঙ্ক না লিখে ফাঁকা চেকের পাতা নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মিলন বলেন,সাক্ষাতে কথা বললে সব বুঝতে পারবেন।#
তানোর প্রতিনিধি
Views: 440
Related