মধ্যযুগে রাধাকে বলা হতো ‘রাইকিশোরী’| বিয়ের সময় শ্রীকৃষ্ণের পত্নী সত্যভামার বয়স কত ছিল? আঠারোর নিচেতো অবশ্যই| মধ্যযুগের ইওরোপের অন্যতম কাব্যগ্রন্থ ‘গোলাপগাথা’য় (রচনাকাল: ১২০০ শতক) সাত/আট বছরের কন্যাকে রমণযোগ্যা বিবেচনা করা হয়েছে|
পূর্বভারতের শিবের বয়সের কোনো গাছপাথর নেই, কিন্তু ধ্যান করে শিবের ঘুম ভাঙ্গিয়ে তাকে বিয়ে করেছিল উদ্ভিন্নযৌবনা কিশোরী গৌরী বা উমা, যার বয়স অবশ্যই দশের কম, কারণ এই কদিন আগেও কন্যাশিশুর দশ বছর বয়স হবার আগে হিন্দুরা গৌরীদান করতো| প্রাচীন ভারতে ঋষিদেরকে সালাঙ্কারা কিশোরী উপহার দেবার নিয়ম ছিল, যজ্ঞে কিংবা পিতৃশ্রাদ্ধে|
সুতরাং কিশোরী বিবাহের জন্য হজরত মুহম্মদকে (স.) দোষ দেবার আগে মনে রাখতে হবে, প্রাচীন ও মধ্যযুগে এগুলো কোনো ব্যাপারই ছিল না| আপনারা ইস্কুলে ভাবসম্প্রসারণ করতেন, মনে পড়ে?
‘মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি-ধ্বজা ধরে আমরাও হবো বরণীয়|’
সুতরাং মগবাজারের কিশোরী মোহন, নতুন কিছুই করছেন না, নিজের পূর্বপুরুষের কিংবা ধর্মপুরুষের ঐতিহ্য অনুসরণ করে তিনি স্বীয় কীর্তির ধ্বজা উড়িয়ে ভাবসম্প্রসারণ করছেন মাত্র| এছাড়া বাংলাদেশে যেহেতু গুপ্তযুগ কিংবা গুপ্ত মধ্যযুগ চলছে, মধ্যযুগের নিয়মই গুপ্তভাবে অনুসরণ করতে হবে| আপনারা যারা আধুনিক হতে চান, সেটা আপনাদের সমস্যা!
অবশেষে একটি তাগড়া তরুণ শরীরের স্থলে বুড়ো-হাবড়া মার্ডগার্ড ভাঙা শরীরের সঙ্গে কিশোরীর সঙ্গমজনিত বিবমিষা ও কষ্টের কথা যদি বলেন, তবে বলবো, প্রাচীন ও মধ্যযুগে, কোথাকার কোন সামান্য মেয়েবাচ্চার কষ্টকে উপর তলার লোক থোরাই কেয়ার করতো|
ছবি: সম্প্রতি তক্ষশীলায় খননকার্যের সময়ে আবিষ্কৃত এই তৌলনযন্ত্র মগবাজার Sheik’s (লোকজন ভুল করে উচ্চারণ করে ‘সেক্স’) মিউজিয়মে দান করেছেন মহামহিম পাকিস্তান সরকার| তৌলনদণ্ডে ল্যাটিনে লেখা রয়েছে: Ab honestis gubernari volumus! ! যার অর্থ: ‘সৎ লোকের শাসন চাই!’ ঘটনাটা কাকতালীয় না হলেও কোকিল-তালীয়তো বটেই|
সম্ভবত আলেকজান্ডারের গ্রীক সেনাবাহিনীর সঙ্গে তৌলনযন্ত্রটি খ্রিস্টপূর্ব যুগে ভারতবর্ষে এসেছিল! গ্রীকদের আনা তৌলনযন্ত্রে কয়েক শ বছর পরে প্রচলিত ভাষা ল্যাটিনে বাণী লেখা কেন, জিগ্যেস করলে বলবো: ‘এটুকু না করলে, গল্পের গরু কীভাবে গাছে উঠতো?’
কম দেখুন
Post Views: 174
Related