আমি রাষ্ট্রপতিকে তখনই বলছিলাম, রাষ্ট্রপতি আপনি কী আদেশ জারি করতে পারেন, এটা কী সম্ভব?
রাষ্ট্রপতি বললেন, আমি তো পারি না, আমাকে পারাচ্ছে!
রাজহংসকে দিয়ে জোরপূর্বক স্বর্ণের ডিম পারানোর মতো ঘটনা।
দুই. আর্টিকেল ৭৩ অনুসারে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান। ফলে তিনি এখানে ভাষণ দিয়েছেন। আমাদের মাননীয় বিরোধীদলীয় সদস্যগণ তার সেই ভাষণ শুনতে চাননি, ওয়াকআউট করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপরই আলোচনা করছেন এবং ৫০ ঘন্টা আলোচনা জন্য প্রস্তাব দিছেন। হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিন. রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধান অনুযায়ী আমাদের এখানে আছেন কোনো কোনো সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে তখন শপথ নিয়েছিলেন, সংবিধান তখন ভালো ছিল, রাষ্ট্রপতিও তখন ভালোই ছিল। কিন্তু সংসদে ভাষণের দিনে মনঃপূত হলেন না।
চার. শপথের দিন আমাদের নেতৃবৃন্দ আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলাম, আজকে তো আমরা শপথ নিব, এখানে তো দেখি দুইবার শপথ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রথমবার শপথ নিয়ে দ্বিতীয়বারে শপথ নিতে গেলেই তো আগেরটা ভায়োলেশন হয়ে যাবে। এখন কী করব!
তিনি বললেন, আমি তো এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। ব্যালেটের মধ্যে একটা ধানের শীষ ছিল, একটা কোদাল মার্কা ছিল, আরো দু—একটা কী কী যেন ছিল।
(এ সময়ে অপর পাশ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমীর শফিকুর রহমান সাউন্ড বাইট দিলেন দাঁড়িপাল্লাও ছিল)
– আচ্ছা দাঁড়িপাল্লাও ছিলো, আপনারা খুশী হইছেন?
(জামায়াতের আমীর আবারো সাউন্ড বাইট দিলেন শাপলা কলিও ছিল)
আচ্ছা শাপলাও ছিল। না, উনার আসনে শাপলা দাঁড়ায়নি; ঢাকা-১৭-তে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আসনে।
আপনাদের একজন ডাক্তার সাব দাঁড়াইছিলেন এবং উনার পরিচয় দিছেন ‘আমি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইলেশন করতেছি, জানো না!’
ভিজুয়াল চিত্রটা কল্পনা করেন, এ মুহুর্তে সংসদ হাউজের দৃশ্য কেমন হবে। ঠিকটাই কল্পনা করেছেন! পুরো হাউজে হাসির রোল পড়ে গেল।
সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে সংবিধান ও আইন-বিষয়ক একাডেমিক ক্ষুরধারা ডিসকাশনই করে থাকেন না; সংসদ সদস্যদেরকে শেখান এবং আবার প্রাণ খুলে হাসানও। উনি একের ভেতর সব।
Views: 170
Related