দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হ’ত্যাকাণ্ডের ঠিক এক বছর পর আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আজ রোববার (১২ জুলাই, ২০ Harp) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন।
আগামী ১৯ জুলাই এই মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে মিটফোর্ড হাসপাতালের গেটের সামনে সোহাগকে প্রকাশ্যে পাথর ও ইট দিয়ে মাথা থেঁ’তলে নৃশংসভাবে হ’ত্যা করা হয়।
সেই নি’র্মম হ’ত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরদিন নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
বর্তমানে ২১ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে, ৩ জন জামিনে এবং বাকি ৮ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
সন্তানদের ফেলে মায়ের চলে যাওয়ার নতুন আকুতি, সোহাগ হ’ত্যাকাণ্ডের পর যখন তাঁর পরিবার এবং বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই পরিবারটিতে নেমে এসেছে আরেকটি বড় ধাক্কা।
নিহত সোহাগের দুটি ফুটফুটে সন্তানকে রেখে তাদের মা (সোহাগের স্ত্রী) অন্য জায়গায় চলে গেছেন।
পিতৃহীন দুই অবুজ শিশু এখন মাতৃহীন হয়ে চরম অসহায় দিন কাটাচ্ছে! নি’হত সোহাগের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, একদিকে ভাই হারানোর বিচার পাওয়ার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করছেন, অন্যদিকে মাতৃহীন এই দুই এতিম শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
এখনো পলাতক থাকা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এই নৃশংস হ’ত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে সোহাগের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
Post Views: 102
Related