শান্তাহার প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার-নাটোর বাইপাস সড়কের পাশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি স্থাপনা এবং এর সামনে স্তূপ করে রাখা বড় বড় গাছের গুঁড়ি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল। সড়কের পাশের জায়গাটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, স্থাপনাটি নির্ধারিত সীমানার মধ্যে রয়েছে কি না এবং সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে তোলা ছবিতে দেখা যায়, সড়কের পাশে সবুজ টিনের বেড়া দিয়ে একটি ঘর বা স্থাপনা ঘিরে রাখা হয়েছে। এর সামনের খোলা জায়গায় বিভিন্ন আকারের গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা রয়েছে। পাশ দিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। এ ধরনের স্থাপনা ও মালামাল রাখার কারণে সড়কের পাশের জায়গার ব্যবহার এবং যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে কোনো প্রভাব পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন ব্যক্তিরা।
স্থানীয়ভাবে ওই এলাকায় কাঠের ব্যবসা, কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা জানা গেছে। তবে স্থাপনাটি সরকারি জমি, হাইওয়ের জায়গা নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে অনুমাননির্ভর কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সঠিক সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করার দাবি উঠেছে।
সড়কের পাশে স্থাপনা, নজরদারি জরুরি
শান্তাহার-নাটোর বাইপাস একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। সড়কের পাশে কোনো স্থাপনা নির্মাণ, কাঠের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা কিংবা ব্যবসায়িক কাজে জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সড়কের নির্ধারিত সীমানা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সড়কের পাশের জায়গায় কাঠের গুঁড়ি বা অন্যান্য মালামাল রাখার কারণে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে কি না, যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না কিংবা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা দরকার।
হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
শান্তাহার-নাটোর বাইপাস সড়কের পাশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা স্থাপনাটি এবং এর সামনের জায়গা ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কের সীমানা নির্ধারণ, জমির মালিকানা যাচাই এবং স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পরীক্ষা করা হোক। তদন্তে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল, অনুমোদনহীন স্থাপনা কিংবা সড়কে চলাচলে বাধা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পাশাপাশি সড়কের পাশে কাঠ, বালু ও অন্যান্য মালামাল রাখার ক্ষেত্রে বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনারও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা
সড়কের পাশের জায়গা সরকারি হোক বা ব্যক্তিমালিকানাধীন—তার ব্যবহার যেন আইনসম্মত হয় এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাচাই ছাড়া অভিযোগ প্রতিষ্ঠা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা প্রয়োজন।
তাই শান্তাহার-নাটোর বাইপাস সড়কের পাশে টিনের বেড়া দেওয়া স্থাপনা, কাঠের গুঁড়ি সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
সড়কের সীমানা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনসম্মতভাবে জায়গার ব্যবহার বজায় রাখতে প্রশাসন ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।








