গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সড়কের দুই পাশে লাগানো দেড় শতাধিক ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১০ বছর আগে কামদিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর থেকে কোচমুড়ি গ্রাম পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৪০০ ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে এসব গাছের মূল্য ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। কামদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাহেদ হোসেন চৌধুরী দরপত্র আহ্বান ও বন বিভাগের অনুমতি না নিয়েই গত ৮ ফেরুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক গাছ কেটেছেন। পরে কাঠ ব্যবসায়ী জিলান চৌধুরীর কাছে এসব গাছ বিক্রয় করেন। শ্যামপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, গাছ কাটার সংবাদ গত ১১ ফেব্রুয়ারি ট্রাকসহ প্রায় ২৫টি গাছের গুঁড়ি জব্দ করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান এসআই মিলন চ্যাটার্জি। এ সময় ট্রাকের চালক ও তার সহকারীগণ পালিয়ে যান। এসআই মিলন বলেন, বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানানো হয়েছে। জনৈক ফরিদুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার সময় সাধারণ জনগণ বাধা দিতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাহেদ হোসেনের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও ভয়ভীতি দেখায়। এ কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী জহুরুল ইসলাম বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গাছ কাটতে হয়। তবে কামদিয়া ইউনিয়নের গাছ কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেই। দরপত্রও আহ্বান করা হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্টার মিজানুর রহমান বলেন, কামদিয়া ইউনিয়নের গাছ কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। গাছ বিক্রয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মোশাহেদ হোসেন বলেন, গাছগুলো অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে লাগানো হয়। সরকারি বা খাস জায়গার নয়। দরপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দরপত্রের প্রক্রিয়া করতে গেলে খাজনার চেয়ে বাজনাই বেশি। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান বলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।








