আজ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯ দফা দাবীতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের উদ্যোগে ভূমি ও জলবায়ু বিষয়ক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কমরেড বদরুল আলম ভূমিহীনদের অধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের সকল খাসজমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দিতে হবে। শহরের শ্রমজীবী মানুষ মূলত গ্রাম হতে নানা কারনে উচ্ছেদ হয়ে শহরে এসে কায়িক শ্রমের কাজে নিযুক্ত হচ্ছে। এ শ্রমিকরা শহরের কাজেকর্মে বেঁচে থাকার মত মজুরী পায় না। মানবেতর জীবন করছে। শহরের শ্রমিকদেরও মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে তাদের মাঝে খাসজমি বন্দোবস্ত দিতে হবে।
কৃষিজমি রক্ষায় গুরুত্বারোপ করে বদরুল আলম খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জনে সকল কৃষিজমি সংরক্ষণ করায় বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন।
কমরেড আলম আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর জন্য আমরা দায়ী নই। বিশ্বের ধনী দেশগুলো শিল্পোৎপাদন, জীবনযাপন ও ভোগবিলাসের জন্য কার্বন নির্গমন করে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাদের রয়েছে ঐতিহাসিক ও প্রতিবেশগত দায়। তাদেরকে দক্ষিণের ভুক্তভোগী দেশগুলোকে খেসারত দিতে হবে।
সমাবেশ হতে অন্যান্য বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদি ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হচ্ছে। ভূমিহীন ও নদী ভাঙ্গা মানুষের ভুমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, নানা অজুহাতে কৃষকের জমি বেহাত করা করা হচ্ছে। এ কৃষি জমি দখল করা বন্ধের আহ্বান জানান।
সমাবেশ হতে নিম্নোক্ত দাবীসমূহ পেশ করা হয়ঃ—
১. ভূমিহীনদের মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্ত দিতে হবে
২. খাসজমির ভুয়া বন্দোবস্ত বাতিল করতে হবে
৩. খাসজমির অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে
৪. খাসজমি বন্দোবস্ত ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও সক্রিয় করতে হবে
৫. জলবায়ু উদ্বাস্তুদের স্বীকৃতি দিতে হবে
৬. জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
৭. নদি ভাঙ্গন ও সিকস্তি পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে
৮. শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
৯. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করতে হবে






