গত রাতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা সচিবালয়ের ৭নং ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ ২৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “দেশের প্রধান সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়স্থল সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সচিবালয়, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এটি সাধারণত সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে থাকার কথা। প্রশাসনে কেন্দ্রবিন্দুতে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিক নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “দেশে গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ১৬ বছরের স্বৈরাচারি শাসনব্যবস্থা পতিত হওয়ার পর থেকে, পতিত শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা ও দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এখন এই দুর্নীতির দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই সচিবালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কি কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, নাকি এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে দ্রুততম সময়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হয়। যদি এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। এই ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের উদাসীনতা ও অসতর্কতা বা সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। ”
তারা বলেন, “অগ্নিনির্বাপণের সময় ট্রাক চাপায় এক ফায়ারফাইটার প্রাণ হারিয়েছেন, আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। দেশের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার জন্য জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে।”
—







