কি অদ্ভুত! এমনটাও হয়? আওয়ামী দুঃশাসনের সবশেষ নির্বাচনের অন্যতম দালাল ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু ও কৈলাশ রবিদাস। পাতানো নির্বাচন হতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া জনগনকে ভোটকেন্দ্রে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ‘রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ’ নামক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সমাজের অত্যন্ত অনগ্রসর (দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, চা জনগোষ্ঠী, তফসিলি জনগোষ্ঠী) অংশের মাঝে আওয়ামী প্রচারণা চালানো হয়। এর দায়িত্ব নেয় বহিস্কৃত ও দূর্ণীতিগ্রস্থ কথিত দলিতনেতা ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু (গাবতলী, ঢাকা) ও কৈলাশ রবিদাস (নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম)। যা সবারই জানা।
ধান্দাবাজ ডেভিড ও কৈলাশ সুকৌশলে তৎকালীন আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের নিকট নিয়মিত ধর্না দিতেন। প্রতিদিনের রুটিন ছিলো ধানমন্ডিস্থ আওয়ামীলীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পায়তারা। সমাজের অনগ্রসর ও হতদরিদ্র অংশের ভোট নৌকা মার্কায় পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রহণযোগ্যতাও পায় তারা। রাতারাতি বিভিন্ন জেলার দলিত নেতাদের নাম দিয়ে লম্বা তালিকা তৈরী করে বিশ্বস্ততা অর্জন করে বেশ অর্থও বাগিয়ে নেয়। এরপর রাজধানীর ধলপুর সুইপার কলোনী, গণকটুলী সিটি কলোনী, পিরোজপুরসহ দেশের বেশকিছু জায়গায় নৌকার পক্ষে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করে তারা। এভাবে সহজ-সরল দলিত জনগোষ্ঠীর সাথে বেঈমানী করে আওয়ামীলীগের টানা তৃতীয় বারের মতো পাতানো ভোটচুরির নির্বাচনের বৈধতা দেয়। এরপর থেকেই দলিত জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের পর ডেভিড-কৈলাশ তাদের ভোল পাল্টিয়ে ফেলে। যারা কিনা ৫ আগষ্টে শেখ হাসিনার পলায়নের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কট্টর আওয়ামী কর্মী ও সমর্থক ছিলো, তারাই পরদিন থেকে যুক্ত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। যেহেতু পিঠ বাঁচানোর আর কোন বিকল্প নেই, ফলে রাতারাতি পূর্বের আওয়ামী প্রীতি/ বন্দনা ছেড়ে বিরুদ্ধাচরণ করার বিষয়টি সবারই জানা। বহুরুপী ডেভিড-কৈলাশের এমন আচরনের চাক্ষুস স্বাক্ষী বাংলার দলিত সমাজ। তাদের নাম নিলে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো কথা বলবে না, শতভাগ নিশ্চিত। সেটি হয়তো সমাজের নিম্নআয়ের ঐসব মানুষের কাছে বিশেষ কোনও বিষয় নয়। কেননা তাদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা, ডেভিড-কৈলাশ কি রাজনীতির ঘুঁটি চালছে সেটা দেখার সময় কোথায়? কিন্তু বিষয়টি ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ এর নজর এড়ানো সত্যিই অভাবনীয়। অনেকটা চলমান আন্দোলনের ক্ষেত্রে বড় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্নও বটে।
আওয়ামী দুঃশাসনের শিকার দেশবাসী কোনওভাবেই তাদের দোসরদের ক্ষমা করবে না। ঘৃণা করবে, এমনটাই স্বাভাবিক। অথচ আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? এরাই স্থান করে নেয় ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ এর মতো অধিক গ্রহণযোগ্য প্ল্যাটফর্মে। সম্ভবত বিষয়গুলো নিয়ে নাগরিক কমিটি ওয়াকিবহাল নয়। অজ্ঞাতসারে এমনটা ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু সেটি সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে। সেই উদ্যোগ কমিটি নিবে কি না তা তাদের বিষয়। তবে বিষয়টি আমলে না নিলে বা ব্যবস্থা গ্রহন না করলে বৃহত্তর পরিসরে ভিন্ন বার্তা পৌঁছাবে, নিঃসন্দেহে।
আমরা লক্ষ্য করেছি যে, জাতীয় নাগরিক কমিটির বর্ধিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উশ্যেপ্রু মারমা বিগত ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারির ‘ডামি নির্বাচন’- এ তৃণমূল বিএনপি’র হয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি (জাতীয় সংসদের ২৯৮ নং আসন) থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের অবৈধ জাতীয় নির্বাচন জাতির সাথে প্রহসনের এক নির্মম চিত্র। এমন নির্বাচনে প্রার্থিতা করা কেউ জাতীয় নাগরিক কমিটির কোনো পর্যায়েই সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন না। ফলে তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাহলে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ডেভিড-কৈলাশের অব্যহতি কেন নয়। বিষয়টি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তেই মূলত ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ এর সুনজরে আনবার প্রয়াস। বাঁকীটা তাদের সিদ্ধান্ত।
তবে বাংলার ছাত্র-জনতা নিশ্চয়ই সত্যতা যাচাই করবে। ভুল সিদ্ধান্তের জন্য নাগরিক কমিটিকেও জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।
Link:
https://www.facebook.com/photo.php?
https://www.facebook.com/photo.php?
https://www.facebook.com/Riponkumarkailash







