আব্দুল কাদের, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউপির জগৎনগড় গ্রামের বৃদ্ধা জোসনা বেগম (৬০) এর মাথা গোজার ঠাই এখন জুপড়ি ঘরে। নেই কোন বসত ভিটা। রাস্তার ধারে পলিথিনের কাগজ এবং ছালা দিয়ে ঘেরা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। ঘরে নেই কোন খাবার। অসুস্থ্য হয়ে মাটিতে শুয়ে আছেন। চার বছরের নাতনি তার চার পাশে খেলা করছে। আশে পাশের মানুষরা একটু সাহায্য করলেও তা দিয়ে হচ্ছে না ঔষধের খরচ। তাই না খেয়ে দিনাতিপাত করছে অসহায় এই বৃদ্ধা। তার ঘরে নেই কোন ঈদের আনন্দ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোবরচাপা হাট থেকে পূর্ব পাশে মিঠাপুর রোডে কলকুঠির মোড়ের রাস্তার বাম পাশে দেখা মিলে দুটি ঝুপড়ি ঘর। একটি ঘরে বসবাস করেন জোসনা বেগম। অপর ঘরে বসবাস করে ভবঘুরে তার একমাত্র ছেলে। বাহির থেকে ডাক দিতেই ঝুপড়ি ঘরের ভিতর থেকে আওয়াজ দেন জোসনা বেগম। আমি অসুস্থ্য বাবা ঘরের ভিতরে আছি। ঘরে ঢুকে দেখা যায় একটি ছেড়া বালিশে মাথা দিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে জোসনা বেগম। শ্বাসকষ্টে ছটপট করছে। মাথার উপরে আছে একটি ছেড়া ক্যাথা আর মোশারী। ঘরে চাল, ডাল, সবজি বলতে কিছুই নেই। অপর ঘরে দেখা যায় দুটি ময়লা ধরা বালিশ আর কয়েকটি হাড়ি পাতিল, কয়েকটি পুরাতন জামা কাপড়, একটি ঝুড়িতে দুটি বেগুন, কিছু রসুন, আর আলু দেখা যায়। এভাবেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন জোসনা বেগম।
জোসনা বেগমের কাছে তার এমন পরিস্থিতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তার মাথা গোজার ঠাই ছিলো। বেঁচে ছিলেন তার স্বামীও। প্রায় একযুগ আগে তার স্বামীর সংসারে অভাব দেখা দিলে বসতভিটা প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে। অন্য এক প্রতিবেশীর জায়গায় টিন দিয়ে ঘর করে বসবাস করেন। এর কিছুদিন পরে তার স্বামী মারা গেলে প্রতিবেশীরা থাকতে না দিলে রাস্তায় ঝুপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করে। তখন থেকে রাস্তা ধারে চলছে তার সংগ্রামী জীবন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তার কাছে ঘুরেও পায়নি কোন সহযোগিতা। তাই সারাদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করে। বসবাস করার মতো একটি ঘর পাইলে কিংবা অর্থ সাহায্য পাইলে খুব উপকার হবে তার”।
জগৎনগড় গ্রামের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার ধারে জিনিষপত্র নিয়ে বসে ছিলো। গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে তাদের জন্য সামান্য ঝুপড়ি ঘর করে দিয়েছি। কেউ কেউ আক্ষেপ নিয়ে তার ভবঘুরে ছেলেকে দোষ দিচ্ছেন। আবার কেউ বলছেন সমাজের ধনী ও সরকার কে এগিয়ে এসে তাদের বসবাসের জন্য একটি ঘর তৈরীর অনুরোধও জানান।” এ বিষয়ে অত্র ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেনকে মোবাইল ফোনে না পাওয়ায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “তাকে একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতো। কিন্তু আশ্রয়ন প্রকল্প বন্ধ আছে। আমরা তাকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্ঠা করবো এবং তার বাসস্থানের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা, বিষয়টি মাথায় রাখব।
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...








