একেবারে সময় উপযোগী প্রশ্ন। এই বিষয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা কিছুটা এমন – আওয়ামী লীগ ফিরে আসতেও পারে ; আবার নাও আসতে পারে। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ ফিরে আসার সম্ভবনা আছে। হ্যা/না এর মাঝামাঝি না থেকে, আসুন, বিষয়টা নিশ্চিত হই।
এবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারতো। শেখ হাসিনা যদি আর মাত্র ১৫ মিনিট দেরী করতেন, তাহলে হয়তো গাদ্দাফির মতন জনরোষে নিহত হতে পারতেন। শুধু শেখ হাসিনা নয়, তার পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্যও আগে/পরে নিহত হতে পারতো। পরিবারের জীবিত সদস্যারা দেশে ফিরতে পারতো না,
যদি সত্যই তেমন পরিস্থিতি হতো, তাহলে হয়তো আপনার এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতেন না। কারন আপনার মনে প্রশটি আসতোই না। আপনি জানতেন, এমন পরাজয়ের পরে, আওয়ামী লীগ আর ফিরে আসতে পারবে না।
এখানে বোঝার ব্যাপার হলো – ১৯৭৫ সালে আরো খারাপ পরিস্থিতি হয়েছিলো। শেখ হাসিনার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছিলো। মাত্র ১৫-২০ জন মানুষের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবর রহমানের জানাজা হয়েছিলো। আইন তৈরি করে মুজিব হত্যারবিচার বন্ধ করা হয়েছিলো। ৫/৬ বছর ধরে শেখ দেশে ঢুকতে পারেনি।
এক কথায় – ১৯৭৫ সালের পরিস্থিতি আজকের চেয়ে অনেকগুন বেশী ভায়াবহ ছিলো। আজকে যদি আওয়ামী লীগ আহত হয় ; তাহলে ৭৫ সালে আওয়ামী লীগ ছিলো প্রায় মৃত। সেই মৃতপ্রায় অবস্থা থকে ঘুরে দাঁড়িয়ে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। তার পরের ঘটনা তো সবই জানেন।
- কি বুঝলেন? – শুধু সম্ভবনা নয় ; বিষয়টা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ অবশ্যই ফিরে আসবে।
এত বড় পরাজয়ের পরেও, আওয়ামী লীগ ফিরে আসে কিভাবে? এর পেছনের মুল কারন হলো, আপনি। হ্যাঁ, আপনার স্বভাবের জন্য, আওয়ামী লীগ এমন করতে পারে। আপনি খুব দ্রুত অতীত ভুলে যান। একজন কয়েকটি মিষ্টি কথা বললেই, তার অতীতের অন্যায়কে ক্ষমা করে দেন। অভিনয় করে আন্তরিকতা দেখালেও আপনি কাছে টেনে নেন। অভিনয় করে কান্না করলে, আপনি আবেগী হয়ে যান।
- তবে, আপনার সবচেয়ে ভয়ংকর স্বভাবটি হলো – মুখে গনতন্ত্রের কথা বললেও আপনি রাজ-বংশীয় নেতা চান। জনগনের মধ্য থেকে নেতা উঠে আসুক, সেটা আপনি চান না। আপনি চান মুজিব বংশের অথবা জিয়ার বংশের কেউ নেতা হোক।
যত বড় পরাজয় হোক না কেন, এসব বংশেধরেরা বারবার আপনার সামনে এসে কান্নাকাটি করে। সেটা দেখে আপনি অতীত ভুলে, এদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন। এজন্য, তারাই বারবার ক্ষমতায় যায়। আওয়ামী লীগ একদিন ফিরে আসবে। ফিরে আসে একই কাজ আবারও করবে।





