রাতে রুমে শুয়ে গল্প লিখছি । হঠাৎ ফোনের স্ক্রিনে মেসেজ টি ভেসে উঠলো । আমি মেসেজটি সিন করে আইডির ভিতরে ঢুকলাম ।
আইডিটির নাম নীল প্রজাপতি । প্রোফাইলে কোনো পিকচারও নেই । ফেইক আইডি মনে হচ্ছে । তাই কোনো রিপ্লেই দিলাম না ।
পাচ মিনিট পর আইডিটি থেকে আবারও মেসেজ আসলো ।
— ভাইয়া আমি আপনাকে রিকোয়েস্ট করছি । প্লিজ একটু আমাকে দয়া করেন । আমি কয়েকদিনের মধ্যেই ফেরত দেয়ার চেষ্টা করবো ।
একটু অবাক ই হলাম । এ কেমন মানুষ কথা নাই বার্তা নাই প্রথমেই টাকা চেয়ে বসছে । তারপর আমি বিরক্ত হয়ে মেসেজের রিপ্লাই দিলাম ।
আমিঃ কে আপনি ?
— আমি দিশা ।
আমিঃ সরি আমি আপনাকে চিনি না ।
দিশাঃ কিন্তু আমি আপনাকে চিনি । আর আমি আপনার গল্পের একজন ফ্যানস ও বটে । প্লিজ আমাকে আপনি ফিরিয়ে দিবেন না । আমি অনেক আশা নিয়ে আপনাকে মেসেজ দিয়েছি ।
আমিঃ আমি আপনাকে বিশ্বাস করবো কিভাবে । প্রোফাইল পিক ও তো নেই । ফেইক আইডি মনে হচ্ছে ।
দিশাঃ প্লিজ আমাকে বিশ্বাস করেন । আমি অনেক বিপদে পড়েছি । না হলে আপনার থেকে কখনোই চাইতাম না । আমি মোটেও ওই ধরনের মেয়ে না ।
আমিঃ আপনি যে মেয়ে আমার তো এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না ।
দিশাঃ ঠিক আছে নাম্বার দেন । আমি ফোন দিচ্ছি । তাহলে তো বিশ্বাস করবেন ।
আমি ভাবলাম একটু মজা নেই । তারপর বললাম,,,,,,,
আমিঃ ওকে 019*********27 ।
দেখলাম ১ মিনিট পরেই একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসলো । ফোন রিসিভ করতেই অপাশ থেকে বলে উঠলো,,,,,,,
— আসসালামু আলাইকুম ।
কন্ঠ টা শুনে আমি খাটে বসা থেকে ধড়াম করে শুয়ে পড়লাম । মনে মনে ভাবলাম হায় হায় এটা কন্ঠ নাকি অন্যকিছু । মনে হচ্ছে সত্যিই কোনো নীল প্রজাপতি আমার কাছে এসে গুন গুন করছে ।
জন্মের পর কত কেজি মিষ্টি মুখে দিলে কন্ঠ টা এতো সুন্দর হয় তার হিসেব করতে পারলাম না । আমার ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটলো মেয়েটির সেই সুমিষ্ট কন্ঠে । অপাশ থেকে আবার বলে উঠলো,,,,,,,,,
— কি হলো । কথা বলছেন না কেন । সালাম দিয়েছি ।
আমি তোতলাতে তোতলাতে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ ও ও ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
— এখন বিশ্বাস হয়েছে তো আমি মেয়ে ।
আমিঃ জ্বি ।
— প্লিজ আমাকে হেল্পটা করেন । অনেক বিপদে পড়েছি ।
আমিঃ কি সমস্যা বলেন ?
— আমি পরে বিস্তারিত আপনাকে জানাবো । এখন এতোকিছু বলতে পারবো না ।
কেন জানি মেয়েটাকে হেল্প করতে আমার মন সায় দিলো । তারপর বললাম,,,,,,,,
আমিঃ ঠিক আছে আপনার বিকাশ নাম্বার টা দেন ।
— এইটাই আমার বিকাশ নাম্বার । এই নাম্বারেই সেন্ট করেন ।
আমিঃ ঠিক আছে ।
বলেই ফোন টা কে*টে দিলাম । তারপর তার নাম্বারে ১০০০০ টাকা পাঠিয়ে দিলাম । অনলাইনে গিয়ে একটু পর দেখলাম মেয়েটি আবার মেসেজ দিয়েছে,,,,,,,
— থ্যাংক ইউ । আপনার এই ঋণ আমি কখনোই ভুলবো না ।
আমিঃ সমস্যা নেই ।
— এখন রাখছি । পরে আমি নক দিবো । ভালো থাকবেন । আল্লাহ হাফেজ ।
আমি শুধু সিন করলাম । সেদিনের মতো গল্প লিখে আমি শুয়ে পড়লাম । ওহ আপনাদের তো আমার পরিচয় ই দেয়া হলো না । চলুন পরিচয় হওয়া যাক ।
বরাবরের মতোই,,আমি রাকিব । বাসা বগুড়া জেলাতে । খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছেলে । বগুড়া আজিজুল হোক কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছি । বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে । তাই অনেক আদরের । বাকিটা গল্পেই জানতে পারবেন ।
প্রত্যেকদিন আম্মু ঘুম থেকে ডেকে তোলে । আজকেও তার মোটেও বিপরীত হলো না ।
আম্মুঃ রাকিব ।
আমিঃ উমমম ।
আম্মুঃ উঠবি নাকি ঝাড়ু নিয়ে আসবো ।
আমিঃ আম্মু এমন করো কেন । আর একটু ঘুমাই প্লিজ ।
আম্মুঃ কলেজে যাবি না ।
আমিঃ যাবো তো । কয়টা বাজে ।
আম্মুঃ সাড়ে আটটা ।
আমিঃ কিহহহহহহহ ।
আম্মুঃ জ্বি আমার নবাব পুত্র ।
আমিঃ আগে ডাক দিবা না ।
আম্মুঃ আপনি কবে সকালে উঠলেন শুনি ।
আমিঃ ধ্যাত ।
বলেই ওয়াশরুমে দৌড় দিলাম । ফ্রেশ হয়ে এসে তাড়াতাড়ি করে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিতেই আম্মু বলে উঠলো,,,,,,,,,
আম্মুঃ কিরে নাস্তা করবি না ।
আমিঃ না আম্মু । ক্যান্টিনে করে নিবো ।
বলেই আমার বাইক নিয়ে সোজা কলেজে চলে আসলাম । কলেজে এসেই তো আমি অবাক । কারন,,,,,,,,,,,,,,,,
গল্পঃ অবহেলিত এতিম মেয়েটি






