সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী রিজার্ভের ৪৩২ কোটি ডলার ফেরত চেয়ে। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং এটা স্পষ্ট পাকিস্তান বাংলাদেশের দাবি পূরণ করতে পারবে না। এই কারনে সোসাল মিডিয়ায় অনেকে পাকিস্তানের কাছ ডলারের বিনিময়ে পারমাণবিক বোমা কিংবা মিসাইল টেকনোলজি নেওয়া পরামর্শ দিচ্ছে। যদিও কোন ডিফেন্স এক্সপার্টের কাছ থেকে এমন কোন দাবি শোনা যায় নি। তাই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে পাকিস্তান কি চাইলে বাংলাদেশকে পারমাণবিক বোমা সরবরাহ করতে পারবে??
পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিক বিশ্বে শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হলেও, এই অস্ত্রের বিস্তার মানব সভ্যতার জন্য চরম হুমকি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্র হলেও পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার কড়াকড়ি রয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার: আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে:
১৯৬৮ সালে গৃহীত Nuclear Non-Proliferation Treaty (NPT) বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি কোনো অনানুমোদিত রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে পারবে না। Article I (NPT) তে বলা আছে: “পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রসমূহ তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি কোনোরূপে অন্য অনুপারমাণবিক রাষ্ট্রকে স্থানান্তর বা সরবরাহ করতে পারবে না।” (সূত্র: United Nations, Treaty on the Non-Proliferation of Nuclear Weapons, 1968)
🟥পাকিস্তানের অবস্থান:
পাকিস্তান NPT-তে স্বাক্ষর করেনি, তাই তাদের ওপর এই চুক্তি সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়। তবে, United Nations Security Council Resolution 1540 (2004) অনুসারে, সকল রাষ্ট্রের ওপর পারমাণবিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে বৈশ্বিকভাবে বাধ্যতামূলক। (সূত্র: United Nations Security Council, Resolution 1540, 2004)
🟥বাংলাদেশের অবস্থান:
বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে NPT স্বাক্ষর করে। ফলে বাংলাদেশ পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ বা বিস্তার করতে পারে না। সুতরাং পাকিস্তান যদি পারমাণবিক অস্ত্র দিতে চায়, বাংলাদেশ আইনীভাবেই তা গ্রহণ করতে পারবে না।
🟥প্রযুক্তি স্থানান্তর ও রাজনৈতিক বাস্তবতা:
পারমাণবিক অস্ত্র কেবল সরাসরি বোমা আকারে নয়, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমেও বিস্তার লাভ করে। এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি বিদ্যমান। IAEA (International Atomic Energy Agency) প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের পারমাণবিক কার্যক্রম তদারকি করে। বাংলাদেশ IAEA-র পূর্ণ সদস্য। কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা তার উপাদান বাংলাদেশে স্থানান্তর হলে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। তখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে।
১৯৯৮ সালে পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষা করে নিজেকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রে সরবরাহ করেনি। পারমাণবিক বোমা ব্যবহার এত সহযোগ্য হলে পাকিস্তান সৌদি সহ আরব বিশ্বের দেশগুলোকে সাপ্লাই করে ফেলতে পারতো। তখন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা হয়ে যেতো সময়ের ব্যাপার মাত্র। আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে UNSC Resolution 1540, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার নিষিদ্ধ করে। অপরদিকে বাংলাদেশ নিজেই NPT-র স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হওয়ায় কোন দেশ থেকে পারমাণবিক বোমা কিনবা বোমা তৈরি টেকনোলজি নিতে পারবে না। সুতরাং, তোমরা আকাশ কুসুম চিন্তা বাদ দাও, রিয়েলিটি মাইনা নেও।






