আপনি কি কখনও খেয়াল করেছেন, এয়ারপোর্টে গেলেই মানুষ অদ্ভুতভাবে আচরণ করতে শুরু করে। এয়ারপোর্ট এমন এক ‘লিমিনাল স্পেস’, মানে আমরা তখন না ঠিক ঘরে, না ঠিক গন্তব্যে—একটা মাঝখানের জায়গায়। এখানে সময় আর স্থান যেন ঝাপসা হয়ে যায়। অনেকে ছুটির আনন্দে ‘রিল্যাক্স মুডে’ চলে যায়, আবার কেউ কেউ বিমানে চড়ার ভয় বা দেরি হওয়ার কারণে খুব চাপে থাকে। চারপাশের ভিড়, মাইকের আওয়াজ, দীর্ঘ লাইন—সব মিলিয়ে মাথায় চাপ বাড়ে। আর তখনই আচরণ বদলাতে শুরু করে। কেউ চুপচাপ থাকে, কেউ আবার হুট করে রেগে যায়। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই একটু টেনশনে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বেশি ঘটে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে এয়ারপোর্টকে মনে করা হয় এক ধরনের ‘থিন প্লেস’—যেখানে বাস্তব আর অবাস্তব, নিয়ম আর অস্থিরতা একসাথে ধাক্কা খায়। মানুষের মন তখন নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছিলেন, মানুষের ভিতরে থাকা ‘id’ বা প্রাথমিক চাহিদাগুলোর দমন হয় সামাজিক নিয়মে। কিন্তু যখন আমরা নিয়মের বাইরের এই ধোঁয়াটে জায়গায় থাকি, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয় অ্যালকোহল, তখন এই ‘id’ হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ ছাড়িয়ে উঠে আসে। তাই হয় মেজাজ হারানো, হট্টগোল, এমনকি বিমানের দরজা খুলতে চাওয়ার মত ঘটনা!
এই কারণেই অনেক এয়ারলাইন্স চায়, যেন এয়ারপোর্টে অ্যালকোহল বিক্রি সীমিত করা হয়। কেউ কেউ বলছে, পুরোপুরি নিষিদ্ধ করাই ভালো। কারণ, যখন মানসিক চাপ, জায়গার নতুনত্ব আর মদ—এই তিন মিলেমিশে যায়, তখন পরিস্থিতি আর সহজে সামলানো যায় না। তাই একটু নিয়ম, একটু সংযম—এটাই হতে পারে এ ধরণের বিশৃঙ্খলার প্রতিরোধ।






