আলিফ হোসেন,তানোরঃ
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যানের পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। চেয়ারম্যান ড, এম আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর পর থেকেই এ পদ ঘিরে দপ্তরের অভ্যন্তরে চলছে নানা গুঞ্জন, আলোচনা ও তদবিরের প্রতিযোগিতা। কে হচ্ছেন পরবর্তী নতুন চেয়ারম্যান—তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। আলোচনা ও দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞ
একজন সদস্য। সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান। তাদের আশা, পুরোপুরি রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়; অভিজ্ঞ কাউকেই সংস্থার চেয়ারম্যান করা হবে। এক্ষেত্রে বিএমডিএর পরিচালনা বোর্ডে কাজ করা কাউকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে পাওয়া যাবে বলেও মনে করছেন তারা।
জানা গেছে, বিএমডিএ’র সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী এ পদটি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, একজন যোগ্য, দক্ষ, কৃষিবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিকে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
বিএমডিএর সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংস্থার চেয়ারম্যান হতে ইতোমধ্যে বগুড়ার একজন বিএনপি নেতা মন্ত্রণালয়ে তদবির শুরু করেছিলেন। তবে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থাকায় ছিটকে পড়েছেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন জামায়াত নেতাও তদবির করছিলেন। তবে অভিজ্ঞতা না থাকায় তারও সম্ভাবনা কমে গেছে। এখন আলোচনায় আছেন পরিচালনা বোর্ডের অভিজ্ঞ একজন সদস্য। অভিজ্ঞতা থাকায় বিএমডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাকে চাচ্ছেন।
এদিকে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিএমডিএ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও রাজশাহীতে এর প্রধান কার্যালয়। এখানে চেয়ারম্যান হিসেবে রাজশাহীরই মানুষ দরকার। তাহলে আমাদের যোগাযোগটা ভাল হবে। আমাদের প্রত্যাশা একজন সৎ মানুষ এখানে আসবেন। তিনি বিএমডিএর অর্গানোগ্রাম নিয়ে চিন্তা করবেন, প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের বিষয়ে কাজ করবেন। তিনি কর্মীদের কল্যাণে কাজ করবেন। পাশাপাশি এখানে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা আছে। সেটা নিরসনে তিনি কাজ করবেন। সর্বোপরি কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে তিনি কাজ করবেন।’এবিষয়ে বিএমডিএর পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিএমডিএ উত্তরবঙ্গের কৃষির চালিকাশক্তি। আমরা গোটা উত্তরাঞ্চলে সেচ দিই। এর মাধ্যমে ৫০ লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন করি। এ রকম একটা দপ্তরে চেয়ারম্যান পদে দ্রুত নিয়োগ প্রয়োজন। আমরা মনেপ্রাণে একজন সৎ ও নৈতিক মানুষ চাই। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে কাকে দেবে।
বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানায়, পরিচালনা পর্ষদের একজন অভিজ্ঞ সদস্যকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বরেন্দ্রের অভ্যন্তরে এই একজন সদস্যের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে সিংহভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মত, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই বোর্ড সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হোক যিনি সুশাসনের পক্ষে ও ব্যক্তিগতভাবে “ক্লিন ইমেজ” সম্পন্ন। এছাড়া বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয় যেহুতু রাজশাহী সেহেতু রাজশাহীর কাউকে চেয়ারম্যান করা হলে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিএমডিএ’র একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা এমন একজনকে চাই, যিনি কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য করে দায়িত্ব পালন করবেন।এদিকে, বিভিন্ন মহলে তদবির ও লবিং জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের কেউ কেউ নিজস্ব প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষক মহলের অভিমত, বৃহত্তর
বরেন্দ্র অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বিএমডিএ’র নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির নীতিগত স্বচ্ছতা, দক্ষ প্রশাসনিক পরিচালনা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি। তা না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জনস্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে চূড়ান্তভাবে কে হচ্ছেন বিএমডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সবার দৃষ্টি এখন সরকারের দিকে। বিএমডিএ’র পরিচালনা পর্ষদে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএমডিএ ১৯৯২ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত হয়। এর আগে, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অধীনে বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যা ১৯৯০ সালে শেষ হয়। প্রকল্পটির সফলতা থেকেই বিএমডিএ গঠিত হয়, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার বিস্তার, খাল-পুকুর পুনঃখনন, সড়ক নির্মাণ ও বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা। বিএমডিএ’র সর্বশেষ চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি গত ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এর আগে নির্বাহী পরিচালক এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সময়ে সংস্থাটি বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ও কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান,চেয়ারম্যান হবার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরোক।কারণ সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন সাইফুল ইসলাম হিরোক সংস্থার সকলের কাছে সমান জনপ্রিয মুখ।এছাড়াও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে,আছে তাদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক,তিনি চেয়ারম্যান হলে বরেন্দ্রের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।
তারা বলেন, হিরোক সাহেব সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এখানো তিনি সম্মানির কোনো অর্থ গ্রহণ করেন নি। বরেন্দ্র জন্য তিনি নিবেদিত প্রাণ, তিনি বরেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের রাজস্বখাতে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি বরেন্দ্রের উন্নয়নে আরো ব্যাপক অবদান রাখতে পারবেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহা. শওকত রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএমডিএর চেয়ারম্যানের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। সেটা ফাঁকা রাখা যাবে না। তবে কবে হবে তা এখনই বলতে পারছি না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।#
Post Views: 238
Related