স্মারকলিপি প্রদান:
ক) ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, মাননীয় উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয়
খ) ড. আসিফ নজরুল, মাননীয় উপদেষ্টা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মাননীয় উপদেষ্টাদ্বয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারের শুনেন। তারা বলেন যে, কর্মচারি নেতৃবৃন্দের সংগে আলোচনা করে অধ্যাদেশটির কতিপয় ধারা সংশোধন করা হবে। এ লক্ষ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
অত্র সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান জনাব মো: বাদিউল কবীর বলেন যে, তথাকথিত অধ্যাদেশ বাতিল না হলে ঈদোত্তর পরবর্তী সময়ে সম্মিলিতভাবে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার কারণে ৪-১৫ জুন পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
অত্র সংগঠনের অপর কো-চেয়ারম্যান জনাব মো: নূরুল ইসলাম বলেন যে, অধ্যাদেশ আংশিক বা অধিকতর সংশোধন কোনক্রমেই মেনে নেয়া হবে না। এ ধরণের কালো-কানুনের অধ্যাদেশ প্রত্যাহার বা বাতিলের বিষয়টি কালক্ষেপন হওয়ায় নেতৃবৃন্দের ওপর সারাদেশের কর্মচারিদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। এ অবস্থায়, আগামী ১৬ জুন কর্মচারিদের সকল নেতৃবৃন্দের সংগে আলোচনাক্রমে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সচিবালয়ের কর্মচারিরা ক্ষোভের সংগে জানান যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ মুহুর্তে মার্শাল ল এর অর্ডিন্যান্স জারি করা কোনক্রমেই ঠিক হয়নি। এতে নারী সহকর্মীরা খুবই শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ৭ দিনের নোটিশে সারা জীবনের চাকুরি মুহুর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে-এটি খুবই হাস্যকর!
অন্তর্বতীকালীন সরকার ঘোষিত বিশেষ সুবিধা থেকে বিশেষ প্রণোদনা বাদ দিলে সরকারি কর্মচারিদের কষ্টের সীমা-পরিসীমা অবশিষ্ট থাকবে না।
সরকারের এ বিশেষ সুবিধা প্রদানের ফলে গত ২০২৩ সালে বিগত সরকারের ঘোষিত ৫% হারে বিশেষ প্রণোদন বাতিল করা হয়। এর ফলে ১ হতে ৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ১০% এর স্থলে ৫% এবং ১০ হতে ২০ পর্যন্ত বেতন গ্রেডের কর্মচারিদের ১৫% এর স্থলে ১০% হারে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হলো। এতে সরকারি কর্মচারিদের কোন উপকারে আসেনি। ৪ সদস্যের পরিবার-পরিজনের অন্যতম মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান মিটানোর চাহিদা আরও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে আজঅবধি পে-স্কেল ঘোষণা না করায় পরিবারের চিকিৎসা, গ্যাস-বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ইন্টারনেট, যাতায়াত ভাতা, সন্তানের লেখাপড়াসহ সরকারি চাকুরের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়তি অর্থের চাহিদা মিটাতে একজন কর্মচারীকে জীবন-যুদ্ধে প্রতিনিয়ত হেরে যেতে হবে।
অত্র সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান জনাব মো: বাদিউল কবীর বলেন যে, সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক চাহিদা ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রীর যোগান মিটাতে বর্তমান বাজেটে সঠিকমত প্রতিফলিত হয়নি। বেতন গ্রেডের পার্থক্য কমানোসহ অনতিবিলম্বে স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
অত্র সংগঠনের অপর কো-চেয়ারম্যান জনাব মো: নূরুল ইসলাম বলেন যে, বিশেষ সুবিধা থেকে পূর্বের বিশেষ প্রণোদনা বাদ দিলে সারাদেশের কর্মচারীদের মাঝে একধরণের অস্থিরতা ও ক্ষোভ তৈরি হবে। একজন কর্মচারীর দৈনিক ক্যালরি অনুযায়ী তার পরিবারের জন্য মানসম্মত মাসিক বেতন নির্ধারণ করতে যতদ্রুত সম্ভব বিষয়টি বিবেচনার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
মো: নজরুল ইসলাম
কো-মহাসচিব







