কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন সিনিয়র রিপোর্টার সাভার থেকে :- পবিত্র ঈদুল আজহার পর কোরবানির পশুর চামড়ায় মুখর হয়ে উঠেছে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরী। রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে একের পর এক কাঁচা চামড়া আসছে ট্যানারিগুলোতে। শনিবার (৭ জুন) দুপুর ২টার পর থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে শ্রমিকরা। চলছে প্রাথমিক কাটিং, সাটিং ও লবণ মাখানোর কাজ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ট্যানারির আঙিনায় চামড়া বোঝাই ভ্যান ও ট্রাকের ভিড়। শ্রমিকরা দম ফেলার ফুরসত না পেয়ে চামড়াগুলো দ্রুত সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত। কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যেও রয়েছে এক অসন্তোষের সুর—সরকার নির্ধারিত দাম এবারও উপেক্ষিত।
মিরপুর থেকে চামড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন,
“প্রতি বছরই দাম ঘোষণা হয়, কিন্তু বাস্তবে তা কেউ মানে না। মধ্যস্বত্বভোগীদের নানা রকম কারসাজিতে গরিব ও এতিমদের হক বঞ্চিত হয়। কিন্তু কেউ কঠোর হয় না, কেউ প্রতিবাদ করে না।”
বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে অবস্থিত ‘আজমির লেদার’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শহীদুল্লাহ জানান,
“আমরা সরাসরি কিছু মাদরাসার সঙ্গে যোগাযোগ করে আগেভাগেই চামড়া সংগ্রহের চুক্তি করেছিলাম। সেগুলোই নিচ্ছি। সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, আমরা তা মেনেই কিনেছি। তবে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই লবণ ছাড়া কাঁচা চামড়া পাঠাচ্ছে। আমরা সেগুলো লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছি, যা অন্তত দুই-আড়াই মাস ভালো থাকবে।”
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রাথমিক ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যথাসময়ে লবণ প্রয়োগ। না হলে নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান এই সম্পদ। কিন্তু দাম ঠিকমতো না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চামড়াগুলো সময়মতো সংরক্ষণও হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চামড়ার বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরই দানের চামড়া থেকে বঞ্চিত হবে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি।







