মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির অন্তঃকোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ ১৫ নেতাকর্মী হয়েছে। রবিবার রাতে বারইয়ারহাট পৌরবাজারের জোবেদা ফার্মেসীর সামনে এই ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন এবং আরেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মঈন উদ্দিন লিটন, বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা, কাশেম মাহফুজ, মাঈনুল ইসলাম রাহাত, শাফায়েত হোসেন শুভ, শাহীন আলম নিশাত, তানভীর হোসেন, মো. বাদশা, জাহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাশেম মাহফুজকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার রাতে জোরারগঞ্জ থানায় বিক্ষোভ করে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের অনুসারীরা। এসময় ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনাও ঘটেছে। পরে রাতে হামলায় আহত মাঈনুল ইসলাম রাহাত বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক এবং অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে হামলার প্রতিবাদে মিরসরাই পৌর সদরে ও বারইয়ারহাটে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে উভয় গ্রুপ।
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মঈন উদ্দিন লিটনসহ আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে রবিবার রাতে কাশবন রেস্টুরেন্টে চা নাস্তা খেতে যাই। সেখান থেকে বের হলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসীরা আমার এবং নেতাকর্মীদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন ও বারইয়ারহাট পৌরসভার বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর অনুসারীরা আমাদের উপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। তাদের নোংরা হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশকে ফোন দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আমরা মামলা করেছি। আসামিদের এখনো গ্রেফতার করেনি পুলিশ।’
নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সমর্থিত মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘বারইয়ারহাট পৌরবাজারে নিয়মিত আমাদের শতশত নেতাকর্মীরা অবস্থান করে। কাশবন হোটেলের সামনে রবিবার রাতে আমাদের ছাত্রদল-যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে কটূক্তি করে। একপর্যায়ে সেটি বাকবিতন্ডায় জড়ায়। তারাই প্রথমে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমাদের ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক সালা উদ্দিন বলেন, ‘হামলায় আহত হওয়া ৪ জনকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। গোলাম মাওলা ও কাশেম মাহফুজ নামে দুই জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিএনপির দলীয় কোন্দল থেকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতে বিএনপির একপক্ষের নেতাকর্মীরা থানায় আসে। মাঈনুল ইসলাম রাহাত নামে একজন এজাহার নামীয় ৩০ জন এবং অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। আমরা মামলা নিয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ককটেল বিস্ফোরণে রাস্তায় হয়েছে, এ বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে।’








