আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন নারী,আমার বয়স পয়ত্রিশ। বিবাহিতা (২০০৪) এবং দুই সন্তানের জননী।আমার এক মেয়ে ইন্টারে এবং এক ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান আমরা তিন বোন এক ভাই।
দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় আমার বিয়ে হয়। শ্বশুরকে অনেক হাতে পায়ে ধরে এস এস সি এক্সামটা দিই। আসলে শ্বশুর বাড়িতে কাজের চাপে আর পড়াশোনার কোনো সুযোগই পাইনি যাইহোক এটা আমার কিসমত।আমার স্বামী প্রবাসী ছিলেন বিয়ের আট মাসের মাথায় জানতে পারি উনার বড় ভাইয়ের ওয়াইফের সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক। কিন্তু তখন আমি প্রেগন্যান্ট ডিপ্রেশনে চলে যাই এবং মৃ’&%ত বা’চ্চা প্র&%সব করি। সব কথা আমার মা বাবাকে জানাই এবং ডিভোর্স এর সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু পারিবারিক বৈঠকে সে (প্রমাণের অভাবে) সব কিছু অস্বীকার করে এবং আমি নাকি এতোদিন ভুল বুঝে গেছি। সে পবিত্র কো’রআ’নে হাত রেখে প্রতিশ্রুতি দেয় যে সে আমার আরো বেশি খেয়াল রাখবে এবং তার ভাবির সাথে আর কথাই বলবেনা। সব কিছুর পরে আমিও সরল মনে তাকে বিশ্বাস করি এবং পুনরায় সংসার শুরু করি দুইটা বছর ভালোই কাটছে এরি মাঝে আমাদের ঘর আলোকিত করে আমার মেয়ে জন্ম নিলো।
যৌথ ফ্যামিলিতে থাকার কারণে আমার স্বামী আবার ও তার ভাবির সাথে মেলামেশা শুরু করে দিলো আমি প্রচন্ড কষ্ট পাইছিলাম যেদিন আবার তাদেরকে এক সাথে দেখেছিলাম। আগে ছিলো শুধু সন্দেহ কিন্তু নিজের চোখে স্বামীকে অন্যের বাহুডোরে দেখা মানতে পারিনি। রাগে দু:খে দুবছরের বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসি।এরপর আরেকটা ঝাটকা লাগে যখন জানতে পারি আমি আবারও প্রেগন্যান্ট।
আমার বাবার বাড়ি আসার পরে সে আর আমাদের মা মেয়ের কোনো খবর নিতো না এদিকে আমার ডেলিভারির টাইম ঘনিয়ে আসলো এবং আল্লাহর মেহেরবানীতে আমার ছেলের জন্ম হলো তাদের বাসায় খবর দেওয়া হলে কেউ আসেনি। দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি দিন কাটাতে লাগলাম।ছেলের যখন দশ মাস বয়স তখন সে দেশে আসলো দেশে আসার দুদিন পরে সে আমাদেরকে নিতে আসলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এই দুদিন কোথায় ছিলা যেদিন দেশে আসছো সেদিন কেনো আসোনি সে উত্তর দিলো সে অসুস্থ ছিলো।
মুরুব্বিরা বুঝিয়ে সুঝিয়ে তার সাথে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিলো কিন্তু আমাদের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর যেই মধুর সম্পর্ক তা দেখার আর নসীব হলোনা।সে আরো বেপরোয়া হয়ে গেলো নিজের ইচ্ছে মতো চলতো তার কাছে আমি একজন গৃহকর্মীর ইজ্জত ও পেতাম না। এরপরে আরো কয়েক বার তার ভাবির সাথে আন্তরিক হতে দেখেছি কিন্তু কিছু বলতে গেলে বলতো আমাদের খেলতে দেখছো তার প্রমাণ দাও।দুই সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে একদম চুপ হয়ে গেলাম তামাশা দেখতে লাগলাম কিছু জিনিস দেখে ও না দেখার ভান করে গেলাম এবং প্রমাণ জোগারের অপেক্ষায় রইলাম। ভাগ্য আমার সহায় হলো ফাইনালি তাদের দুজনকে অ&%ন্তরঙ্গ অবস্থায় ক্যামেরা বন্দী করতে সক্ষম হলাম। সেই ভিডিও ফুটেজ আমার ভাসুরের কাছে পৌঁছে দিলাম এর আগে অনেক বার বলে ও আমার ভাসুরকে বিশ্বাস করাতে পারিনি। তিনি দেখার পরে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু আমার স্বামী বলে যে তার ভাই যদি তালাক দেয় তাহলে সে নিজেই তার ভাবিকে বিয়ে করে ফেলবে।
এমতাবস্থায় আমার ননাসরা সবাই মিলে পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে আমার ভাসুরকে থামায়। আর আমার স্বামীকে ভাড়া বাসায় থাকতে বলে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে এতে করে( দুই সংসারের) আমাদের দুই সন্তান এবং ভাসুরের এক সন্তানের জীবন নষ্ট থেকে রেহাই পাবে।ভাড়া বাসায় তিন বছর থাকলাম এর পরে আমার স্বামী নিজের বাবার ভিটায় ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলো এবং কাজ শুরু করলো।আবার আসা যাওয়া শুরু হলো তাদের ভিতর আবার আগের সেই প্রেম জেগে উঠে। আমি তার নাম মাত্র বউ সাইনবোর্ড হিসেবে রাখছে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক,জৈবিক কোনো প্রকার নি&%র্যাতন দেয়া থেকে ছাড় দিলোনা। আমি দুই বাচ্চার দিকে তাকিয়ে সব জু&%লুম সহ্য করে দিন কাটাচ্ছিলাম। কিন্তু সহ্যের ও তো একটা সীমা থাকে আবারো বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে হাতেনাতে এক ঘরে পেলাম এর পরে আর সবর রাখতে পারলাম না নিজেই ২০২০ সালে ডিভোর্স পেপার পাঠালাম।
কিন্তু এবার নিজের জন্মদাতা মা বাবার কাছেই হেরে গেলাম তারা তাদের নাতি নাতনীর দোহাই দিয়ে মেয়ের জামাইয়ের সাথে সমজতা করে নিজের মেয়েকেই কু&%’র’ বান করে দিলো তিন মাসের ভিতরে আবার সেই অমানুষের সংসারে ফিরে যেতে বাধ্য করলো। সেদিন নিজেকে খুব এতিম অসহায় লেগেছিল এই নিষ্টুর পৃথিবীর প্রতি এক আকাশ ঘৃণা নিয়ে ঘু&%মের ঔষধ খেয়ে আ’&% ত্ম’ হ&%ত্যা/ র চেষ্টা করলাম কিন্তু ম&%র’ লাম না কারণ আমার ভাগের আরো কষ্ট পাওয়া বাকী আছে যা ভোগ করে যেতে হবে।
কোথায় যাবো আমি? কার কাছে থাকবো? নিজের মা বাবা তো এক প্রকার বিক্রিই করে দিয়েছে তারা আমার কাছে এখন মৃ&%ত। না আছে আমার কোনো সহায় সম্পদ, না আছে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা যে ইজ্জতের সাথে কোনো জব করবো, না আছে মাথা গোজার ঠাই।আজ তিন বছর আমি কোথাও যাই না, কারো সাথে মিশিনা নিজের ছেলে মেয়ে ছাড়া।এরা না থাকলে হয়ত এতদিনে রাস্তার পা’গল হয়ে যেতাম।
ক্যা&%ন্সারের চাইতে বেশি ভয়ংকর যন্ত্রণা নিয়ে বেচে আছি।ইদানিং ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা, খেতে পারিনা, আমার কিছুই মনে থাকেনা নিজে নিজে কথা বলি এক কথা বার বার বলি।অযথা আমার নিরীহ সোনার টুকরো বাচ্চাদের উপর রেগে যাই। তরকারিতে দুই বার লবণ দিয়ে ফেলি নয়ত হ্লুদ বা মরিচ দিতে ভুলে যাই।
নামাজে সুন্নতের জায়গায় ফরজ, ৪ রাকাতের জায়গায় ৬ রাকাত পড়ি পড়তেই থাকি।মেডিসিন এক বারের জায়গায় দুবার খেয়ে ফেলি।বাসায় একা থাকলে বার বার আ&%ত্ম/ &&হ’ ননের চিন্তা আসে আস্তাগফিরুল্লাহ।দুনিয়াবি জীবন আমার দূর্বিষহ কাটছে আমি আ’ &%ত্ম/ হ&%’ ত্যা করে আমার আখের নষ্ট করতে চাই না।
কি করলে আমি এই অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো আমি আর নিতে পারছিনা। আমি আ&%ত্মহ&%ত্যা করতে চাইনা আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে আমার নির্ধারিত হায়াৎ পর্যন্ত বাচতে চাই।
আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য আমি কি একজন মা’নসিক রো’ গী?
আমার কি কাউন্সিলিং করা দরকার? নাকি নিজের লাইফে কিছু পরিবর্তন দরকার?
— ইনবক্স থেকে








