মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়ক যোগাযোগ
এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই-নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি সড়ক। গত মঙ্গলবার বিকেলে সড়কটির ঝরঝরি মাজার সংলগ্ন চার রাস্তার কোপ এলাকায় পাহাড় ধ্বসে সড়কে পাহাড়ের বড় বড় খন্ড পড়ে ৫ দিন ধরে মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে এই সড়কে চলাচলকারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিরসরাই সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরত্বে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধ্বস এলাকায় থেমে থেমে জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প সংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর মোটরসাইকেল ছাড়া বড় ধরনের সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে যাত্রীরা নেমে ঠেলে ঠেলে এটি পার হতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যেতেও দেখা গেছে। যেসব সিএনজি অটোরিকশা চলছে তা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলায় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়ক এটি। প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মালবাহী গাড়িসহ প্রায় ৪ শতাধিক গাড়ি চলাচল করে এই সড়কে। তাছাড়া এখানে পাহাড়ের খাজে খাজে চাষ হয় লেবুসহ নানা ফল। এখানকার লেবুসহ উৎপাদিত নানা ফলমূল ঢাকা, চট্টগ্রাম শহর, ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের নানাপ্রান্তে বিক্রির উদ্দেশ্য নেওয়া হয় এই সড়ক দিয়ে। সড়কের দুরাবস্থার কারণে গত কয়েকদিন লেবু তোলা বন্ধ রেখেছেন চাষীরা।
সিএনজি অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ রিপন বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলা সদর থেকে নারায়নহাট-ফটিকছড়ি সিএনজি অটোরিকশার লাইন রয়েছে। সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ার কারনে কেউ সাহস করে এখন গাড়ি চালাতে রাজি হচ্ছে না। দু’য়েকটা সিএনজি অটোরিকশা চললেও তা যাত্রীরা নেমে ঠেলে অনেক কষ্ট করে পার হচ্ছে। বড় গাড়ি চলাচলতো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন শুধু অল্পকিছু সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলছে।’
এই সড়কে চলাচলকারী শামসুল হক বলেন, ‘সড়কটির বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। পাহাড় ধ্বসে ইতিপূর্বেও সড়কটি বন্ধ হয়েছিল। তাই আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাবো এটির দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের জন্য।’
চাকুরিজীবি বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি ফটিকছড়ি এলাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরি করি। সপ্তাহের বন্ধের দিন এই সড়ক দিয়ে বাড়ী যাই। কিন্তু সড়ক বন্ধ শোনার পর বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে বাড়ি ফিরেছি।’
স্থানীয় দোকানী মোহাম্মদ জিন্নাহ বলেন, ‘এই সড়কে প্রতিদিন অসংখ্য মালবাহী ট্রাক চলাচল করে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার লাইন রয়েছে সেটাও অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক পাহাড় ধ্বসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অল্পকিছু সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। যা অন্য সময়ের তুলনায় ৫ ভাগ।’
স্থানীয় বাসিন্দা লেবু চাষী আলা উদ্দিন বলেন, ‘৫ দিন পার হয়ে গেলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকদের দেখা মেলেনি। অন্যদেশ হলে সাথে সাথে এটির সমাধান করতো। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে এমন বিপজ্জনক অবস্থার সমাধানে কারো নজর নেই। সড়ক বন্ধ হওয়ায় লেবু নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। এখানকার উৎপাদিত লেবু ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।’
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সীতাকুন্ড সড়ক উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারহান বলেন, ‘আমাদের এস্কেভেটর রেড়ি থাকলেও এখনো মাটি নরম। গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টি হয়েছে এস্কেভেটর গেলেও সেখানে আটকে যেতো। সেজন্য এস্কেভেটর নিয়ে সেখানে কেউ যেতে সাহস করছিল না। যেহেতু এটি পাহাড়ি এলাকা ওই জায়গায় বৃষ্টি চলাকালীন সময় লোকজন কাজ করলে ভূমি ধ্বসে তারাও হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু এখন বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে আজকে রাতে এস্কেভেটর যাবে। কালকে সকাল থেকে কাজ শুরু হবে।’
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...








