আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১(তানোর-গোদাগাড়ী)আসনের
নির্বাচনী এলাকা ভৌগোলিক বৈচিত্র্যেঘেরা। গোদাগাড়ীতে পদ্মার ধু-ধু বালুচর, তানোরে ঠা-ঠা বরেন্দ্রভূমি। এই আসনের মানুষের প্রত্যাশাও একটু ভিন্নমাত্রার। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব যার কাঁধে পড়ে, ভোটের আগে তাকে ঘিরেই হিসাব-নিকাশের পালা চলে। গেল তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে সে হিসাব মেলেনি। এবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার (সাবেক) সামরিক সচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনকে নিয়ে সেই প্রত্যাশা পুরুণের স্বপ্ন দেখছেন। ইতমধ্যে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে কেউ কেউ দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে এখানে মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিনকে সহযোগিতা করার জন্য
বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল থেকে নেতাকর্মীদের বার্তা দেয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের মানুষের মুখে মুখে এমন আলোচনা হচ্ছে। এমন আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের সুত্রপাত হয়েছে। ফলে শরিফ উদ্দিনকে নিয়ে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠ গোছানো শুরু করেছে। এতে তৃণমুলে পচ্ছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে শরিফ উদ্দিন।
এদিকে ভোটারদের বোধদয় , মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব, হয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।এসব বিবেচনায় তাকে যদি এমপি করা যায় তাহলে তিনি পূর্ণমন্ত্রী হবেন। যিনি দলীয় প্রধানের এমন বিশস্ত ব্যক্তি তিনি জনপ্রতিনিধি হলে তার পক্ষে এলাকার উন্নয়ন কাজ করা অনেক সহজ। ভোটারদের মাঝে এমন বোধহয় সৃষ্টির পর পাল্টে গেছে রাজনীতির দৃশ্যপট। এতে শরিফ উদ্দিনের লেজ কাটতে গিয়ে অনেকের নিজের লেজে পাঁ-পড়েছে। ফলে ভোট করা তো পরের কথা নিজের লেজ বাঁচাতে অনেকে লেজ গুটিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,
ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেউ কেউ খেলাধুলা, তাফসির মাহফিল ও নিজের অর্থে কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে সাধারণ মানুষের মনোযোগ আর্কষণের চেষ্টা ও দলের নীতিনির্ধারণী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য নানা কৌশল খুঁজেও যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আবার কেউ টাকা ছড়িয়ে নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের কাছে টানতে প্রাণপন চেষ্টা করছে। কিন্ত্ত বিএনপির আদর্শিক এবং মুল ধারার নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের কাছে থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে তারা রণে৯ভঙ্গ দিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপির আদর্শিক রাজনীতি ও নেতৃত্বে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাবেক ডাকমন্ত্রী প্রয়াত ব্যরিষ্টার আমিনুল হক পরিবারের কোনো বিকল্প নাই। আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন এটা প্রায় নিশ্চিত।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের মতো নেতৃত্বরা মনোনয়ন নেয় না, তাদের সুপারিশে দু’ চারজনের মনোনয়ন হয়। ফলে রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতায় শরিফ উদ্দিনের মতো নেতৃত্বকে হারানো যায় না, তারা যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছেই বড় সম্পদ। ফলে শরিফ উদ্দিনের মতো নেতৃত্বের সঙ্গে প্রতিযোগীতার নামে বিরোধ নয় তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে এবং শিখতে হয়।ঠান্ডা-শিতল ঘরের রাজনৈতিক কলাকৌশল। আর যাদের এসব বোঝার ক্ষমতা নাই তারাই রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে অতল গহবরে হারিয়ে যায়।
তৃণমুলের ভাষ্য, বাংলাদেশে এখন মাঠে-ঘাটে বগী আওয়াজ দিয়ে বা ভাড়া করা লোক দিয়ে সমাবেশ করে রাজনীতি হয় না।এখন ঠান্ড ঘরে বসে গরম কফির কাপে চুমুক দিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় ফর্মুলা ওয়ান দেখতে দেখতে রাজনীতি হয়। এবিষয়ে তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাষ্টার বলেন, দেশের সর্ব বৃহত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি। তিনি বলেন,দলের মনোনয়ন যে কেউ চাইতেই পারে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এখানে মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের মনোনয়ন নিশ্চিত। তিনি আরো বলেন, আমরা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করেছি।
Post Views: 175
Related