যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গ্রেপ্তার করার একটি এআই নির্মিত ভিডিও পোস্ট করেন। এতে করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে তার আক্রমণ আরও জোরদার করেন।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করা ভিডিওটির শুরুতে ওবামাকে বলতে শোনা যায়, “বিশেষ করে প্রেসিডেন্টই আইনের ঊর্ধ্বে।” এরপর একাধিক মার্কিন রাজনীতিবিদের কণ্ঠে শোনা যায়, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।” তারপর ভিডিওটি এআই নির্মিত একটি দৃশ্যে রূপ নেয় যেখানে ওভাল অফিসে দুইজন এফবিআই এজেন্টের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ওবামাকে দেখা যায়। সেই সময় ট্রাম্পকে পাশেই বসে হাসতে দেখা যায়।
ভুয়া ভিডিওটির শেষ অংশে ওবামাকে জেলখানার ভেতরে কমলা রংয়ের বন্দীদের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওটি যে কাল্পনিক বা বানানো, সেই বিষয়ে ট্রাম্প কোনো সতর্কতা বা স্পষ্টীকরণ দেননি—যা নিয়ে সমালোচকরা তাকে “চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ওবামার বিরুদ্ধে “উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন জালিয়াতির” অভিযোগ তোলেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড জানান, তাঁর কাছে এমন “অভিভূতকারী” ও “প্রচণ্ড” প্রমাণ আছে যে, ওবামা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্প-রাশিয়া ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব গড়ে তুলেছিলেন, যাতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া ঠেকানো যায়। তিনি ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিচারের দাবি জানান।
গ্যাবার্ড এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) লিখেন, “আমেরিকানরা অবশেষে জানতে পারবে সত্যটা—২০১৬ সালে কীভাবে গোয়েন্দা তথ্যকে রাজনীতিকরণ ও অস্ত্রায়িত করা হয়েছিলো ওবামা প্রশাসনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দ্বারা, যা কার্যত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা এক ‘কুপ’ এর ভিত্তি তৈরি করে, যা জনগণের ইচ্ছার বিরোধিতা করে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
তবে জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তর একটি ১১৪-পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে, যেখানে প্রমাণসহ বলা হয় যে নভেম্বর ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বারবার এই মূল্যায়ন করেছিলো যে রাশিয়া “সম্ভবত সাইবার উপায়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে না।”
নথিতে আরও বলা হয়, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬-এ প্রেসিডেন্টের ডেইলি ব্রিফের একটি খসড়ায় বলা হয়েছিল, রাশিয়া “সাম্প্রতিক মার্কিন নির্বাচন ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি”, যদিও তারা কিছু দূষিত সাইবার কার্যক্রম চালিয়েছিলো মার্কিন নির্বাচন অবকাঠামোর বিরুদ্ধে।






